ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চুয়েটে ক্লাস শুরু নিয়ে বিভাগীয় প্রধানদের ভিন্নমত কেপটাউন টেস্টে মিচেল স্টার্কের বোলিং তাণ্ডব: ৩২৯ রানে অলআউট দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সফটওয়্যার প্রোগ্রামার নিয়োগ: আবেদনের সুযোগ ভালুকায় সেলুন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ সুন্দরবনে দস্যুদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ, জিম্মি থেকে ৫ জেলে উদ্ধার বকেয়া বেতনের দাবিতে চালডাল কর্মীদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান উখিয়ায় নলকূপ খননের সময় অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেনাবাহিনী আইজিপি’র ‘ক্রসফায়ার’ সম্পর্কিত বক্তব্যের অপব্যাখ্যা অপরাধীদের উৎসাহিত করবে

কুড়িগ্রামে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে জোর আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:১৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১০০১২ বার পড়া হয়েছে

সংরক্ষিত নারী আসনের আলোচনায় মহিলা নেত্রীগণ।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

 

কুড়িগ্রামে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে জোর আলোচনা

 

 

কুড়িগ্রামে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে জোর আলোচনা।
বিএনপির ৩৫ নারী এমপি মনোনয়ন ঘিরে জেলাজুড়ে প্রত্যাশা, উন্নয়ন-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ।
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ৩৫ জন নারী সংসদ সদস্য মনোনীত করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার খবরে কুড়িগ্রামের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা-উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

 

 

 

দলীয় সূত্র বলছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাই চলছে। আর সেই সঙ্গে কুড়িগ্রামেও নারী নেত্রীদের দৌড়ঝাঁপে পিছিয়ে নেই।

 

 

 

 

সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনের একটিতেও বিএনপি জয় পায়নি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি—ভোটারের সাড়া কম ছিল না; বরং ১১ দলীয় জোটের কৌশলগত সমন্বয়ের কারণে পরাজয় এসেছে।

পড়ুন>>ফিরতে চায় আওয়ামী লীগ, কী করবে বিএনপি? বদলাচ্ছে রাজনীতির ছক

 

 

উন্নয়নের প্রশ্নে নারী প্রতিনিধিত্বের দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কুড়িগ্রাম থেকে বিএনপির একজন নারী সংসদ সদস্য মনোনীত হলে জেলার উন্নয়ন-সংকট জাতীয় পর্যায়ে জোরালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। দলীয় সাংগঠনিক কাঠামোও পুনর্গঠিত ও সুসংগঠিত করা সহজ হবে।

 

 

 

কুড়িগ্রাম দীর্ঘদিন ধরেই দারিদ্র্য, নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের পশ্চাৎপদতার শিকার। ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা অববাহিকার ভাঙনে প্রতি বছর বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। চরাঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো নাজুক। কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় বেকারত্ব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। উন্নয়ন সূচকে জেলা দেশের নিম্নসারিতেই ঘোরাফেরা করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

পড়ুন>> চাঁদার দাবিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীর বিরুদ্ধে দোকানে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

 

 

সামাজিক সংগঠনগুলোর মতে, দারিদ্র্য বিমোচন, নারী শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হলে সংসদে শক্তিশালী কণ্ঠ প্রয়োজন। সে প্রেক্ষাপটে সংরক্ষিত নারী আসনে কুড়িগ্রামকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি উঠেছে।

 

 

 

যাদের নাম আলোচনায় দলীয় ও রাজনৈতিক মহলে যেসব নারী নেত্রীর নাম শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন-
কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মমতাজ হোসেন লিপি, জেলা মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. নাজমুন নাহার বিউটি, বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ রেয়ান আনিস, জেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক
রেশমা সুলতানা, জেলা মহিলা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামীমা রহমান আপন, তাদের প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতি ও নারী সংগঠনে সক্রিয়।

 

 

 

তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও সামাজিক সম্পৃক্ততা বিবেচনায় কার ঝুলিতে মনোনয়ন যাবে—তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

আরও পড়ুন>> সাড়ে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তরুণী: সন্তানের বাবা চাচা না বন্ধু জানেননা ধর্ষিতা

 

 

কেন্দ্রের সিদ্ধান্তেই চূড়ান্ত বার্তা দলীয় সূত্র বলছে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নে সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, গ্রহণযোগ্যতা ও এলাকার উন্নয়নে কাজের সম্ভাবনা—এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। কুড়িগ্রামবাসীর প্রত্যাশা, এবার অন্তত সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে জেলার জন্য একটি কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।

 

 

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায়, “সংসদে কুড়িগ্রামের একজন নারী প্রতিনিধি মানে শুধু প্রতীকী পদ নয়—বরং নদীভাঙন, দারিদ্র্য ও বেকারত্বের মতো দীর্ঘদিনের সংকট জাতীয় অগ্রাধিকারে তোলার একটি সুযোগ।” এখন চোখ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কুড়িগ্রাম কি পাবে সেই কাঙ্ক্ষিত নারী সংসদ সদস্য—সেটিই দেখার অপেক্ষা।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কুড়িগ্রামে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে জোর আলোচনা

আপডেট সময় : ১১:১৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

 

 

 

কুড়িগ্রামে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে জোর আলোচনা

 

 

কুড়িগ্রামে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে জোর আলোচনা।
বিএনপির ৩৫ নারী এমপি মনোনয়ন ঘিরে জেলাজুড়ে প্রত্যাশা, উন্নয়ন-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ।
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ৩৫ জন নারী সংসদ সদস্য মনোনীত করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার খবরে কুড়িগ্রামের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা-উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

 

 

 

দলীয় সূত্র বলছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাই চলছে। আর সেই সঙ্গে কুড়িগ্রামেও নারী নেত্রীদের দৌড়ঝাঁপে পিছিয়ে নেই।

 

 

 

 

সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনের একটিতেও বিএনপি জয় পায়নি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি—ভোটারের সাড়া কম ছিল না; বরং ১১ দলীয় জোটের কৌশলগত সমন্বয়ের কারণে পরাজয় এসেছে।

পড়ুন>>ফিরতে চায় আওয়ামী লীগ, কী করবে বিএনপি? বদলাচ্ছে রাজনীতির ছক

 

 

উন্নয়নের প্রশ্নে নারী প্রতিনিধিত্বের দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কুড়িগ্রাম থেকে বিএনপির একজন নারী সংসদ সদস্য মনোনীত হলে জেলার উন্নয়ন-সংকট জাতীয় পর্যায়ে জোরালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। দলীয় সাংগঠনিক কাঠামোও পুনর্গঠিত ও সুসংগঠিত করা সহজ হবে।

 

 

 

কুড়িগ্রাম দীর্ঘদিন ধরেই দারিদ্র্য, নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের পশ্চাৎপদতার শিকার। ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা অববাহিকার ভাঙনে প্রতি বছর বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। চরাঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো নাজুক। কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় বেকারত্ব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। উন্নয়ন সূচকে জেলা দেশের নিম্নসারিতেই ঘোরাফেরা করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

পড়ুন>> চাঁদার দাবিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীর বিরুদ্ধে দোকানে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

 

 

সামাজিক সংগঠনগুলোর মতে, দারিদ্র্য বিমোচন, নারী শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হলে সংসদে শক্তিশালী কণ্ঠ প্রয়োজন। সে প্রেক্ষাপটে সংরক্ষিত নারী আসনে কুড়িগ্রামকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি উঠেছে।

 

 

 

যাদের নাম আলোচনায় দলীয় ও রাজনৈতিক মহলে যেসব নারী নেত্রীর নাম শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন-
কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মমতাজ হোসেন লিপি, জেলা মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. নাজমুন নাহার বিউটি, বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ রেয়ান আনিস, জেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক
রেশমা সুলতানা, জেলা মহিলা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামীমা রহমান আপন, তাদের প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতি ও নারী সংগঠনে সক্রিয়।

 

 

 

তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও সামাজিক সম্পৃক্ততা বিবেচনায় কার ঝুলিতে মনোনয়ন যাবে—তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

আরও পড়ুন>> সাড়ে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তরুণী: সন্তানের বাবা চাচা না বন্ধু জানেননা ধর্ষিতা

 

 

কেন্দ্রের সিদ্ধান্তেই চূড়ান্ত বার্তা দলীয় সূত্র বলছে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নে সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, গ্রহণযোগ্যতা ও এলাকার উন্নয়নে কাজের সম্ভাবনা—এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। কুড়িগ্রামবাসীর প্রত্যাশা, এবার অন্তত সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে জেলার জন্য একটি কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।

 

 

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায়, “সংসদে কুড়িগ্রামের একজন নারী প্রতিনিধি মানে শুধু প্রতীকী পদ নয়—বরং নদীভাঙন, দারিদ্র্য ও বেকারত্বের মতো দীর্ঘদিনের সংকট জাতীয় অগ্রাধিকারে তোলার একটি সুযোগ।” এখন চোখ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কুড়িগ্রাম কি পাবে সেই কাঙ্ক্ষিত নারী সংসদ সদস্য—সেটিই দেখার অপেক্ষা।

 

 

Facebook Comments Box