ঢাকা ০২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিচার বিভাগ সংস্কারের উদ্যোগ কেন স্থবির? কাপাসিয়ায় বানার নদের পাড়ে বর্জ্যের স্তূপ, অকার্যকর ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্ত্রীকে হয়রানির তদন্তে এফবিআইয়ের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা অপসারিত জার্মানিতে আইটি খাতে চাকরির আবেদন: প্রার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা কাতারে মুরগি ও সবজির আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি মৌলভীবাজার পর্যটন জেলা ঘোষণার ১৮ বছরেও অধরা উন্নয়ন আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস: নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে কর্মসূচি জাতিসংঘে ৮১তম অধিবেশন শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামুদ্রিক নীতির কার্যকর বাস্তবায়নে সরকারের গুরুত্বারোপ: প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জোরদার পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কাপাসিয়ায় বানার নদের পাড়ে বর্জ্যের স্তূপ, অকার্যকর ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে পরিবেশ নিয়ে সচেতনতার কথা থাকলেও গাজীপুরের কাপাসিয়ার বানার নদের দৃশ্য একেবারেই ভিন্ন। নদের খেয়াঘাট এলাকার পাড়জুড়ে এখন কেবল ময়লার স্তূপ, যেখানে পলিথিন ও অপচনশীল বর্জ্যের কারণে নদের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত পাঁচ বছর ধরে কাপাসিয়া বাজারসহ আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার বর্জ্য নিয়মিতভাবে এখানেই ফেলা হচ্ছে। এর ফলে নদী ভরাট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম। তিনি দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে কাপাসিয়ায় বানার নদের খেয়াঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটের বিভিন্ন স্থানে বর্জ্যের বড় বড় স্তূপ। দুর্গন্ধের কারণে ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। খেয়াঘাটের পাশে থাকা কাঁচাবাজারের কয়েকজন সবজি বিক্রেতাকে নদের বর্জ্যমিশ্রিত পানিতে সবজি ধুতে দেখা যায়।

খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন তরগাঁও এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় দুই পাড়ের মানুষ চলাচল করেন। বর্জ্যের উৎকট গন্ধে সাধারণ মানুষের যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এমনকি স্থানীয় সবজি বিক্রেতারা বর্জ্যমিশ্রিত এই নদের পানি ব্যবহার করে সবজি পরিষ্কার করছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। ঘাটের মাঝি মো. আসাদুল্লাহ আক্ষেপ করে বলেন, দিনের পর দিন এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সহ্য করা ছাড়া তাদের আর কিছু করার নেই। আরেক মাঝি সুধাস চন্দ্র মনিদাস জানান, সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি দেখার মতো যেন কেউ নেই। মানুষের যে কষ্ট আইতাছে, এই জন্য কারও কিছু যায়-আসে না।’।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, খেয়াঘাট থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্রটি অবস্থিত। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে কেন্দ্রটির যাত্রা শুরু হলেও, এলাকাবাসীর তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সাল থেকেই এটি বন্ধ হয়ে আছে। কেন্দ্রটি নির্মাণে কত টাকা ব্যয় হয়েছিল, তার কোনো স্পষ্ট তথ্যও পাওয়া যায়নি। ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম ও নজরুল ইসলামের মতো স্থানীয়রা জানান, জনপ্রতিনিধিরা অনেকে ক্ষমতায় এলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো জনগুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি নিয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে বর্জ্যের পরিমাণ বাড়লেও সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও উদাসীনতা কাটেনি। বাজারের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষমতায় অনেকে এসেছে-গেছে; কিন্তু তারা এই বর্জ্য নিয়ে ভাবেনি, কোনো কাজ করেনি। এখন নতুন সরকার যদি এই বিষয় নিয়ে কাজ না করে, আমাদের আর বলার কিছু থাকবে না।’। তাঁর অভিযোগ, মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে বর্জ্যও বাড়ছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রটির বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে কাপাসিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশ্চিত করেন যে, কেন্দ্রটি বর্তমানে অকার্যকর। তিনি জানান, জনবসতির কাছাকাছি হওয়ায় স্থানীয়দের আপত্তির মুখে এটি আর চালানো সম্ভব হয়নি। বিকল্প হিসেবে নদীর পাড়ে নতুন জায়গার সন্ধান করা হচ্ছে এবং নতুন একটি প্লান্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কাপাসিয়ায় বানার নদের পাড়ে বর্জ্যের স্তূপ, অকার্যকর ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র

আপডেট সময় : ০১:৫৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে পরিবেশ নিয়ে সচেতনতার কথা থাকলেও গাজীপুরের কাপাসিয়ার বানার নদের দৃশ্য একেবারেই ভিন্ন। নদের খেয়াঘাট এলাকার পাড়জুড়ে এখন কেবল ময়লার স্তূপ, যেখানে পলিথিন ও অপচনশীল বর্জ্যের কারণে নদের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত পাঁচ বছর ধরে কাপাসিয়া বাজারসহ আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার বর্জ্য নিয়মিতভাবে এখানেই ফেলা হচ্ছে। এর ফলে নদী ভরাট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম। তিনি দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে কাপাসিয়ায় বানার নদের খেয়াঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটের বিভিন্ন স্থানে বর্জ্যের বড় বড় স্তূপ। দুর্গন্ধের কারণে ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। খেয়াঘাটের পাশে থাকা কাঁচাবাজারের কয়েকজন সবজি বিক্রেতাকে নদের বর্জ্যমিশ্রিত পানিতে সবজি ধুতে দেখা যায়।

খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন তরগাঁও এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় দুই পাড়ের মানুষ চলাচল করেন। বর্জ্যের উৎকট গন্ধে সাধারণ মানুষের যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এমনকি স্থানীয় সবজি বিক্রেতারা বর্জ্যমিশ্রিত এই নদের পানি ব্যবহার করে সবজি পরিষ্কার করছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। ঘাটের মাঝি মো. আসাদুল্লাহ আক্ষেপ করে বলেন, দিনের পর দিন এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সহ্য করা ছাড়া তাদের আর কিছু করার নেই। আরেক মাঝি সুধাস চন্দ্র মনিদাস জানান, সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি দেখার মতো যেন কেউ নেই। মানুষের যে কষ্ট আইতাছে, এই জন্য কারও কিছু যায়-আসে না।’।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, খেয়াঘাট থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্রটি অবস্থিত। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে কেন্দ্রটির যাত্রা শুরু হলেও, এলাকাবাসীর তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সাল থেকেই এটি বন্ধ হয়ে আছে। কেন্দ্রটি নির্মাণে কত টাকা ব্যয় হয়েছিল, তার কোনো স্পষ্ট তথ্যও পাওয়া যায়নি। ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম ও নজরুল ইসলামের মতো স্থানীয়রা জানান, জনপ্রতিনিধিরা অনেকে ক্ষমতায় এলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো জনগুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি নিয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে বর্জ্যের পরিমাণ বাড়লেও সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও উদাসীনতা কাটেনি। বাজারের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষমতায় অনেকে এসেছে-গেছে; কিন্তু তারা এই বর্জ্য নিয়ে ভাবেনি, কোনো কাজ করেনি। এখন নতুন সরকার যদি এই বিষয় নিয়ে কাজ না করে, আমাদের আর বলার কিছু থাকবে না।’। তাঁর অভিযোগ, মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে বর্জ্যও বাড়ছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রটির বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে কাপাসিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশ্চিত করেন যে, কেন্দ্রটি বর্তমানে অকার্যকর। তিনি জানান, জনবসতির কাছাকাছি হওয়ায় স্থানীয়দের আপত্তির মুখে এটি আর চালানো সম্ভব হয়নি। বিকল্প হিসেবে নদীর পাড়ে নতুন জায়গার সন্ধান করা হচ্ছে এবং নতুন একটি প্লান্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Facebook Comments Box