ঢাকা ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পদত্যাগের পথে মার্কো রুবিওসহ ট্রাম্প প্রশাসনের পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তা মহা-হিসাব নিরীক্ষক কার্যালয়ে ৩৪৭ পদে চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নতুন ট্রাফিক ও সম্পত্তি আইন পাস করল কাতারের শুরা কাউন্সিল শিল্পাঞ্চল ও কেপিআই নিরাপত্তায় আনসার সদস্যদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি: মহাপরিচালক সুন্দরবনে দুই বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনায় পাঁচ জেলে অপহৃত এআই যেন বেকারত্ব না বাড়ায়, সতর্ক থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির মোংলা বন্দর হবে দেশের নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী মুচলেকা দিয়ে আদালত থেকে জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: চার ভাইসহ পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড ও আটজনের যাবজ্জীবন খুলনায় চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৭ মৃত্যু

ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭৪ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৭ মৃত্যু

ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় প্রিটি গ্রুপের একটি কারখানার পার্কিংয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে লরি ও কাভার্ড ভ্যানে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারগুলো বিস্ফোরিত হতে শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন লাগার পরপরই একের পর এক বিকট শব্দের মাধ্যমে সিলিন্ডারগুলো বিস্ফোরিত হয় এবং আগুনের ফুলকি ও ধাতব অংশ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এই আঘাতে জয়নব বেগম (৫৫) নামের এক নারীসহ কয়েকজন পথচারী ও দোকানদার ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

বিস্ফোরণের ভয়াবহতা ছিল ব্যাপক। হোটেল মালিক আব্দুল হালিম জানান, তার হোটেলের ওপর উড়ে এসে পড়া একটি সিলিন্ডার আঘাত করলে তার ছেলে মিজানুর রহমান গুরুতর আহত হন।

 

পড়ুন>>সেরা চোরাচালান উদ্ধারকারী অফিসারের ক্রেস্ট পেলেন মাহমুদুল হাসান

 

তিনি জানান, প্রায় সাততলা সমান পোশাক কারখানা ভবন এবং তিনটি বহুতল ভবন ডিঙিয়ে সিলিন্ডারের ধাতব অংশগুলো আশপাশের স্থাপনায় আছড়ে পড়ে। প্রায় ৩০০ গজ দূরে একটি দুইতলা ভবনের দেয়াল ভেদ করে লোহার অংশ ঢুকে পড়লে ভবনের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ভবনের বাসিন্দা নাজমা বেগম জানান, বিকট শব্দের পর পুরো ভবন কেঁপে ওঠে এবং রুমের আসবাবপত্র ভেঙে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা একটি সিলিন্ডারের গায়ে ইংরেজিতে স্পষ্ট লেখা রয়েছে—’ডোন্ট ইউজ আফটার ২০২১’। অর্থাৎ ২০২১ সালের পরেই সিলিন্ডারটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল, এরপরও এটি বিপজ্জনকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানিয়েছেন। আশুলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহিবুল্লাহ আকন জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহারের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং এ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

পড়ুন>>সুন্দরগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় গ্রেপ্তার ১

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিস চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ঢাকা জোন-৪-এর সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামানকে এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে আগুনের সংস্পর্শ কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার থেকে এই বিস্ফোরণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশের এসপি মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম।

বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খান জানান, লরি বা কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহন করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন যে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অনেক কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়েছে এবং লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

মেহেদী ইসলাম জানান, তাদের দপ্তরে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা না থাকায় জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হয়। জনবল ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকার পরও অবৈধ কার্যক্রম রুখতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। তবে আরপিজিসিএল ও তিতাসের মতো সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত নজরদারি ছাড়া এ ধরনের ঝুঁকি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন বলে মনে করছেন তিনি।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৭ মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৬:৫৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৭ মৃত্যু

ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় প্রিটি গ্রুপের একটি কারখানার পার্কিংয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে লরি ও কাভার্ড ভ্যানে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারগুলো বিস্ফোরিত হতে শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন লাগার পরপরই একের পর এক বিকট শব্দের মাধ্যমে সিলিন্ডারগুলো বিস্ফোরিত হয় এবং আগুনের ফুলকি ও ধাতব অংশ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এই আঘাতে জয়নব বেগম (৫৫) নামের এক নারীসহ কয়েকজন পথচারী ও দোকানদার ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

বিস্ফোরণের ভয়াবহতা ছিল ব্যাপক। হোটেল মালিক আব্দুল হালিম জানান, তার হোটেলের ওপর উড়ে এসে পড়া একটি সিলিন্ডার আঘাত করলে তার ছেলে মিজানুর রহমান গুরুতর আহত হন।

 

পড়ুন>>সেরা চোরাচালান উদ্ধারকারী অফিসারের ক্রেস্ট পেলেন মাহমুদুল হাসান

 

তিনি জানান, প্রায় সাততলা সমান পোশাক কারখানা ভবন এবং তিনটি বহুতল ভবন ডিঙিয়ে সিলিন্ডারের ধাতব অংশগুলো আশপাশের স্থাপনায় আছড়ে পড়ে। প্রায় ৩০০ গজ দূরে একটি দুইতলা ভবনের দেয়াল ভেদ করে লোহার অংশ ঢুকে পড়লে ভবনের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ভবনের বাসিন্দা নাজমা বেগম জানান, বিকট শব্দের পর পুরো ভবন কেঁপে ওঠে এবং রুমের আসবাবপত্র ভেঙে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা একটি সিলিন্ডারের গায়ে ইংরেজিতে স্পষ্ট লেখা রয়েছে—’ডোন্ট ইউজ আফটার ২০২১’। অর্থাৎ ২০২১ সালের পরেই সিলিন্ডারটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল, এরপরও এটি বিপজ্জনকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানিয়েছেন। আশুলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহিবুল্লাহ আকন জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহারের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং এ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

পড়ুন>>সুন্দরগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় গ্রেপ্তার ১

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিস চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ঢাকা জোন-৪-এর সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামানকে এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে আগুনের সংস্পর্শ কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার থেকে এই বিস্ফোরণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশের এসপি মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম।

বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খান জানান, লরি বা কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহন করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন যে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অনেক কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়েছে এবং লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

মেহেদী ইসলাম জানান, তাদের দপ্তরে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা না থাকায় জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হয়। জনবল ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকার পরও অবৈধ কার্যক্রম রুখতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। তবে আরপিজিসিএল ও তিতাসের মতো সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত নজরদারি ছাড়া এ ধরনের ঝুঁকি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন বলে মনে করছেন তিনি।

 

 

Facebook Comments Box