ঢাকা ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভালুকায় সেলুন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ সুন্দরবনে দস্যুদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ, জিম্মি থেকে ৫ জেলে উদ্ধার বকেয়া বেতনের দাবিতে চালডাল কর্মীদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান উখিয়ায় নলকূপ খননের সময় অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেনাবাহিনী আইজিপি’র ‘ক্রসফায়ার’ সম্পর্কিত বক্তব্যের অপব্যাখ্যা অপরাধীদের উৎসাহিত করবে সৌদির রাস তানুরা তেল শোধনাগারে হামলার দাবি হুতিদের দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪০০ ছাড়াল নওগাঁয় শ্যালিকাকে বিয়ে, যুবক ও দুই স্ত্রীর মুখে চুনকালি দিয়ে গ্রামছাড়া সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় বাসের ৫ যাত্রী নিহত

আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে কাউনিয়ার তিস্তা নদী পাড়ের মানুষ

কাউনিয়া (রংপুর) থেকে আব্দুল কুদ্দুছ বসুনিয়া
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০২৩ ২৭৯ বার পড়া হয়েছে

আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে কাউনিয়ার তিস্তা নদী পাড়ের মানুষ

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে কাউনিয়ার তিস্তা নদী পাড়ের মানুষ। তিস্তার ভাঙনে শত শত হেক্টর ফসলী জমি বাড়ি ঘর নদী গর্ভে বিলীন।

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের পাশ দিয়ে প্রবাহিত খরস্রোতা তিস্তা নদী স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও খনন না করায় প্রতি বছর গিলে খাচ্ছে শতশত হেক্টর ফসলী জমি আর বাড়ি ঘর।

ইতোমধ্যে কাউনিয়ার মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে সুভাঘাট নামে একটি মৌজা। বর্তমানে গদাই গ্রামে শুরু হয়েছে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন। গদাই গ্রামের অর্ধেক ফসলী জমি ও ১৫ টি বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

গত দু’দিনে আব্দুর রাজ্জাক, ওসমান আলী,বাবুল মিয়া ও ফজল মিয়ার বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

সরেজমিনে নদীভাঙ্গন এলাকায় গিয়ে ভাঙনকবলিত মানুষের সাথে কথা বলে জানাগেছে, প্রতি বছর বন্যা, নদী ভাঙ্গনে দিশেহারা মানুষ গুলোকে নদী ভাঙ্গন রোধে আশ্বাসের বানী শোনায় এমপি, চেয়ারম্যান ও প্রশাসন। কাজের কাজ কিছুই হয় না।

নদী ভাঙ্গনে ফসলী জমি আর বাড়ি ভিটা হারিয়ে পথে বসেছে শতশত মানুষ। তাদের দুঃখ দেখার কেউ নেই। তিস্তা পানি কমে যাওয়ায় নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করেছে। পানি কমার সাথে সাথে নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

বালাপাড়া ইউনিয়নের গদাই ও পাঞ্জরভাঙ্গা গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে অনেকের বসতভিটা ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ।

এর আগে বালাপাড়া ও টেপামধুপুর ইউনিয়নের ২ শতাধিক বাড়ি ভিটাসহ প্রায় ৫০০ হেক্টর ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। গদাই গ্রামে ভাঙ্গন রোধে এখন পর্যন্ত কোন কার্যকরী ব্যবস্থা করা হয়নি। তবে বুধবার গদাই গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু জিও ব্যাগ নদীতে ফেলার জন্য প্রস্তুত করে রেখেছে ।

তবুও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদী তীরবর্তী মানুষেরা। ভাঙনের কবলে পড়ে উপায় না পেয়ে তাঁরা বসতভিটা ভেঙ্গে অন্য স্থানে সরিয়ে নিতে দেখা যাচ্ছে ।

সরেজমিনে গদাই গ্রামে গিয়ে কথা ফজর আলী(৭৩) এর সাথে তিনি ২ বছরের ব্যবধানে তিনি ৩ বার নদী ভাঙ্গনে বসতভিটা সরিয়ে নিয়েছেন। কৃষক আব্দুর রাজ্জাক(৭২)এর দু’দিন আগেও বসতভিটা ঘরবাড়ি ছিল, এখন তাঁর ঘর বাড়ি কিছুই নেই।

দুটি টিনের ঘর খুলে ইতিমধ্যে অন্যর জমিতে নিয়ে গিয়ে রেখেছেন । ওসমান মিয়া বলেন, নদী ভাঙ্গনে আমার সব শেষ, এবারের ভাঙ্গনে ঘর তোলার কোন জয়গা পাচ্ছি না।

গদাই গ্রামের হাজী ফুল মিয়া,ফজল মিয়া জানান, ভাঙ্গন আতঙ্ক নির্ঘুম রাত কাটছে গদাই গ্রামের বাসিন্দাদের। তিস্তা ভাঙন রোধে চেয়ারম্যান ও এমপি’রআশ্বাসের বাণী আজও নিরবে কাঁদে।

নদী গর্ভে বাড়িঘর ও জমি বিলীন হয়ে যাওয়া রানা মিয়া, রবিউল, সহ অনেকে জানান, সবাই শুধু তিস্তার ভাঙন দেখতে আসে আশ্বাস দিয়ে চলে যায় , কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।

বালাপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান আনছার আলী জানান, তার এলাকায় প্রায় অর্ধ শতাধিক বাড়ি ও শত শত একর ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

টেপামধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম জানান, তার এলাকায় প্রায় ২শতাধিক বাড়ি-ঘর ও ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রংপুর এর তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব গদাই গ্রামের নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। নির্বাহী অফিসার মোঃ মহিদুল হক জানান, ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি।

প্রায় ৭০০মিটার এলাকা নদীতে ভেঙ্গে গেছে। মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি ভাঙ্গন মোকাবেলার জন্য পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর বরাবরে একটি ডিও লেটার প্রদান করেছেন।

ভাঙ্গন মোকাবেলায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে, রংপুর পাউবোর বোর্ড কর্মকর্তারা আশ্বাস প্রদান করেছেন। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে কাউনিয়ার তিস্তা নদী পাড়ের মানুষ

আপডেট সময় : ০৮:৩৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০২৩

আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে কাউনিয়ার তিস্তা নদী পাড়ের মানুষ। তিস্তার ভাঙনে শত শত হেক্টর ফসলী জমি বাড়ি ঘর নদী গর্ভে বিলীন।

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের পাশ দিয়ে প্রবাহিত খরস্রোতা তিস্তা নদী স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও খনন না করায় প্রতি বছর গিলে খাচ্ছে শতশত হেক্টর ফসলী জমি আর বাড়ি ঘর।

ইতোমধ্যে কাউনিয়ার মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে সুভাঘাট নামে একটি মৌজা। বর্তমানে গদাই গ্রামে শুরু হয়েছে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন। গদাই গ্রামের অর্ধেক ফসলী জমি ও ১৫ টি বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

গত দু’দিনে আব্দুর রাজ্জাক, ওসমান আলী,বাবুল মিয়া ও ফজল মিয়ার বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

সরেজমিনে নদীভাঙ্গন এলাকায় গিয়ে ভাঙনকবলিত মানুষের সাথে কথা বলে জানাগেছে, প্রতি বছর বন্যা, নদী ভাঙ্গনে দিশেহারা মানুষ গুলোকে নদী ভাঙ্গন রোধে আশ্বাসের বানী শোনায় এমপি, চেয়ারম্যান ও প্রশাসন। কাজের কাজ কিছুই হয় না।

নদী ভাঙ্গনে ফসলী জমি আর বাড়ি ভিটা হারিয়ে পথে বসেছে শতশত মানুষ। তাদের দুঃখ দেখার কেউ নেই। তিস্তা পানি কমে যাওয়ায় নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করেছে। পানি কমার সাথে সাথে নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

বালাপাড়া ইউনিয়নের গদাই ও পাঞ্জরভাঙ্গা গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে অনেকের বসতভিটা ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ।

এর আগে বালাপাড়া ও টেপামধুপুর ইউনিয়নের ২ শতাধিক বাড়ি ভিটাসহ প্রায় ৫০০ হেক্টর ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। গদাই গ্রামে ভাঙ্গন রোধে এখন পর্যন্ত কোন কার্যকরী ব্যবস্থা করা হয়নি। তবে বুধবার গদাই গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু জিও ব্যাগ নদীতে ফেলার জন্য প্রস্তুত করে রেখেছে ।

তবুও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদী তীরবর্তী মানুষেরা। ভাঙনের কবলে পড়ে উপায় না পেয়ে তাঁরা বসতভিটা ভেঙ্গে অন্য স্থানে সরিয়ে নিতে দেখা যাচ্ছে ।

সরেজমিনে গদাই গ্রামে গিয়ে কথা ফজর আলী(৭৩) এর সাথে তিনি ২ বছরের ব্যবধানে তিনি ৩ বার নদী ভাঙ্গনে বসতভিটা সরিয়ে নিয়েছেন। কৃষক আব্দুর রাজ্জাক(৭২)এর দু’দিন আগেও বসতভিটা ঘরবাড়ি ছিল, এখন তাঁর ঘর বাড়ি কিছুই নেই।

দুটি টিনের ঘর খুলে ইতিমধ্যে অন্যর জমিতে নিয়ে গিয়ে রেখেছেন । ওসমান মিয়া বলেন, নদী ভাঙ্গনে আমার সব শেষ, এবারের ভাঙ্গনে ঘর তোলার কোন জয়গা পাচ্ছি না।

গদাই গ্রামের হাজী ফুল মিয়া,ফজল মিয়া জানান, ভাঙ্গন আতঙ্ক নির্ঘুম রাত কাটছে গদাই গ্রামের বাসিন্দাদের। তিস্তা ভাঙন রোধে চেয়ারম্যান ও এমপি’রআশ্বাসের বাণী আজও নিরবে কাঁদে।

নদী গর্ভে বাড়িঘর ও জমি বিলীন হয়ে যাওয়া রানা মিয়া, রবিউল, সহ অনেকে জানান, সবাই শুধু তিস্তার ভাঙন দেখতে আসে আশ্বাস দিয়ে চলে যায় , কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।

বালাপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান আনছার আলী জানান, তার এলাকায় প্রায় অর্ধ শতাধিক বাড়ি ও শত শত একর ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

টেপামধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম জানান, তার এলাকায় প্রায় ২শতাধিক বাড়ি-ঘর ও ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রংপুর এর তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব গদাই গ্রামের নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। নির্বাহী অফিসার মোঃ মহিদুল হক জানান, ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি।

প্রায় ৭০০মিটার এলাকা নদীতে ভেঙ্গে গেছে। মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি ভাঙ্গন মোকাবেলার জন্য পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর বরাবরে একটি ডিও লেটার প্রদান করেছেন।

ভাঙ্গন মোকাবেলায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে, রংপুর পাউবোর বোর্ড কর্মকর্তারা আশ্বাস প্রদান করেছেন। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

Facebook Comments Box