সুনামগঞ্জে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালে দিশেহারা জলমহাল ইজারাদাররা
- আপডেট সময় : ০২:৫৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল বা রিং জালের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে দেশি মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে। সরকারি জলমহালগুলোতে মাছ নিধনের এক প্রকার মহোৎসব চলছে, যার ফলে এখানকার ইজারাদাররা প্রতিবছর বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অভিযোগ করা সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না আসায় ইজারাদারদের দুর্দশা চরমে পৌঁছেছে। বিলে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় এবারও খাজনা দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে শান্তিগঞ্জের থলেরবন্দ কৈয়া-বনুয়া বিলের বদ্ধ জলমহাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শত শত চায়না দুয়ারী, কারেন্ট জাল এবং অবৈধ নেটের বাঁধ ব্যবহার করে মাছ ধরা হচ্ছে। সমিতির সদস্যরা এসব বাধা দিলে তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়, ফলে ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। উল্লেখ্য, স্মারক নং ১২৯-এর অধীনে ১৪৩০ থেকে ১৪৩৫ বাংলা সন পর্যন্ত ‘থলেরবন্দ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি.’-কে বিলটি ইজারা দেওয়া হয়। নিয়ম মেনে সমিতি প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে পোনা অবমুক্ত করে এবং অভয়াশ্রম ও নার্সারি তৈরি করে মৎস্য সম্পদ উন্নয়নের চেষ্টা করছে। কিন্তু নিষিদ্ধ জালের ব্যবহারে ডিমওয়ালা মাছ ও পোনা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে। ২০২০ সালে তৎকালীন ইউএনও জেবুন নাহার শাম্মী লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে সত্যতা পেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তী তিন বছর ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও লিখিত অভিযোগ দিয়েও ইজারাদাররা কোনো সমাধান পাননি। সবশেষ গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখেও সমিতি পুনরায় ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, এ সমস্যা বেশ পুরোনো।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম আমীন জানান, অবৈধ জাল ও বাঁধের কারণে প্রতিবছর তাঁদের ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। গত বছর ঋণের বোঝা মাথায় নিতে হয়েছে খাজনা শোধের জন্য। সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মকবুল হোসেনের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে মাছ শিকারের মাধ্যমে সমিতির বছরে ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকার ক্ষতি করছে। সমিতির সদস্য মোহাম্মদ সামির হোসেন বলেন, বারবার অভিযোগ ও মামলা করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। একই আক্ষেপ জানিয়ে সাবেক সভাপতি আমিরুদ্দিন বলেন, অনেক কষ্টে বিল খনন ও উন্নয়নের পরও প্রভাবশালীদের দাপটে মাছ চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না। চলতি বছরেই আমাদের প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিলের ভেতর একটি অভয়াশ্রম ও একটি বিল নার্সারিও গড়ে তোলা হয়েছে। গত বছর আগাম বৃষ্টির কারণে সময়মতো মাছ আহরণ করতে না পারায় খাজনা শোধ করতে ঋণ নিতে হয়েছে। চলতি বছরও বিভিন্ন পয়েন্টে মাছ ধরতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ছি।
অভিযোগের বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিল্লোল চাকমা জানিয়েছেন, তিনি সমিতির লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি অবৈধ জাল ব্যবহারকারীদের সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে নিষিদ্ধ জাল ও বাঁধ অপসারণ না করা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























