ঢাকা ১১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এনসিসি ব্যাংকে শাখা ব্যবস্থাপক পদে নিয়োগ তাড়াশ উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিঃ পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন রাণীশংকৈলে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন দোহা–রিয়াদ রুটে কাতার এয়ারওয়েজের একাধিক ফ্লাইট বাতিল বিরল ও পীরগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও মদ উদ্ধার রাণীশংকৈলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা, ৫৫ মণ্ডপের নিরাপত্তায় জোর মাদরাসার সাবেক উপাধ্যক্ষের পেনশন বণ্টন নিয়ে পরিবারের বিরোধ তাহিরপুরে থমকে গেছে ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগের বিচার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থা জনগণের কাছে ফেরাতে চায় সরকার: মঈন খান

শুধু পাহাড়েই নয় সমতলেও হচ্ছে কফি চাষ

সৃষ্টি কৃষি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ৩৭২ বার পড়া হয়েছে

শুধু পাহাড়েই নয় সমতলেও হচ্ছে কফি চাষ

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

শুধু পাহাড়েই নয় সমতলেও হচ্ছে কফি চাষ

 

 

শুধু পাহাড়েই নয় সমতলেও হচ্ছে কফি চাষ।

 

সমতলের রংপুরেই শুরু হয়েছে কফি চাষ, নতুন দিগন্তের হাতছানি দিচ্ছে। হয়ে উঠতে পারে তামাক চাষের বিকল্প হিসেবে কফিচাষ ।

 

 

বাগানের গাছ থেকে তোলা হচ্ছে থোকায় থোকায় ধরা কফিফল। সেই ফল প্রক্রিয়াজাত করে স্থানীয়ভাবেই বানানো হচ্ছে পানের উপযোগী কফি।

ধোঁয়া ওঠা কফির কাপে চুমুক দিচ্ছেন বাগানেরই পাশে তৈরি করা কফি শপে। একবার ভাবুন তো, অনুভূতিটা কেমন হবে?

যদি অত ভাবতে না চান, তাহলে কষ্ট করে আপনাকে যেতে হবে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায়। সেখানকার সয়ার ইউনিয়নের গোয়ালবাড়ী গ্রামে গেলেই পাবেন কাঙ্ক্ষিত সেই ‘ফিলিংস’। অর্থাৎ বাগানের পাশে বসেই পান করতে পারবেন সেখানকার গাছ থেকে তোলা কফি।

 

 

এই ফিলিংস নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন গোয়ালপাড়া গ্রামেরই তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মোখলেছুর রহমান (৩৫)। গত ২৮ অক্টোবর থেকে নিজের বাগানের পাশে কফিশপ চালু করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাস এই কৃষক।

 

কৃষি উদ‍্যোক্তা মোখলেছুর জানান, আপাতত তিনি সীমিত পরিসরে কফিশপ চালু করেছেন। আস্তেধীরে পাশের বগুড়া, রংপুর ও সৈয়দপুর শহরসহ বিভিন্ন স্থানে তিনি নিজের বাগান থেকে তোলা ফল প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা কফি সরবরাহ করবেন।

পড়ুন>>৪০ বছর পর মৌলভীবাজারে আবারও কফি চাষ শুরু

স্থানীয় কয়েকজন জানালেন, তারাগঞ্জে এখন আগের মতো তামাকচাষ আর নেই। অন্য ফসলে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। এখন শুরু হয়েছে কফিচাষ। এভাবে অস্বাস্থ্যকর তামাকের জায়গা নিচ্ছে স্বাস্থ্যকর পানীয়ফসলের চাষ।

 

 

তারাগঞ্জ শহর থেকে একই জেলার বদরগঞ্জ উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। তারাগঞ্জ সদর থেকে এই সড়ক ধরে দক্ষিণে প্রায় ৫ কিলোমিটার এগোলেই মোখলেছুরের কফিশপ। এর পাশেই তাঁর কফির বাগান।

গত ২১ অক্টোবর গোয়ালবাড়ী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মোখলেছুরের বাগানজুড়ে থোকায় থোকায় ধরে আছে কফিফল। সবুজ পাতার ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছে লাল, হলুদ রঙের পাকা ফল। কোনোটা অবশ্য তখনো পাকেনি। সেগুলোর রং সবুজ। গাছের উচ্চতা ছয়/সাড়ে ছয় ফুট।

 

পড়ন>>লাভজনক উপায়ে বেগুন চাষ পদ্ধতি

 

তিনি বলেন, এখন কফি গাছের ফল আহরণ শুরু। চলবে মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত। গত সপ্তাহেই তিনি ফল তুলেছেন। এ বছর তিনি কফির বাগানে খরচ করেছিলেন প্রায় আড়াই হাজার টাকা।

এবার নিজেই প্রক্রিয়াজাত করে কফি বিক্রি করবেন। এভাবে লাভ বেশি হবে। তাঁর টার্গেট, এভাবে তিনি ৩০ লাখ টাকার কফি বিক্রি করবেন।

 

কবে থেকে কফি চাষ শুরু-এমন প্রশ্নে তিনি জানান, প্রায় ৭ বছর আগে ইউটিউবের মাধ্যমে জানতে পারেন পার্বত্য চট্টগ্রামে ঢালু জমিতে কফির চাষ হচ্ছে। তিনি ভাবেন, তারাগঞ্জের মাটিও তো ঢালু। তাহলে এখানেও তো কফিচাষ হতে পারে। যেই ভাবনা, সেই কাজ।

 

 

করছেন না–এমন প্রশ্নে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত এই কৃষক বলেন, প্রথমত, অন্য চাষিরা এই চাষ সম্পর্কে তেমন জানেন না। দ্বিতীয়ত, কফিচাষে প্রথম দুই বছর ফলন পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ক্ষুদ্র চাষিরা এই সময়টুকু দিতে চান না। জমি ফেলে রাখতে চান না।

 

 

তবে ধীরে-ধীরে কফিচাষ জনপ্রিয় হচ্ছে বলে জানান মোখলেছুর। তিনি বলেন, তাঁর এলাকায় এখন তিনটি কফিবাগান। তাঁর দেওয়া চারা দিয়ে পঞ্চগড়, বগুড়া, নওগাঁসহ বিভিন্ন জেলায় ৫০টির বেশি বাগান হয়েছে। তিনি নিজে এসব চাষিকে বাগানের বিষয়ে নানা পরামর্শ দেন।

 

 

তিনি বলেন, চরাঞ্চলের বালিমাটি ছাড়া দেশের সব মাটি কফি চাষের জন্য উপযোগী। শুধু পানি আটকে থাকে না, এমন জমি হলেই রপ্তানিযোগ্য এ ফসল চাষ করা যাবে।

 

কফি নিয়ে অনেক স্বপ্ন মোখলেছুরের। তিনি বলেন, কফি বিশ্বের অন্যতম বড় শিল্প। তিনি দেশে এই শিল্পের বিকাশে কাজ করতে চান।

ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে কফির প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিদেশে রপ্তানিও করতে চান। এরই অংশ হিসেবে তিনি বাগানের পাশেই কফিশপটি চালু করেছেন।

তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের কফিচাষে এগিয়ে আসার পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে সরকারকেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহবান জানান।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

One thought on “শুধু পাহাড়েই নয় সমতলেও হচ্ছে কফি চাষ”

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শুধু পাহাড়েই নয় সমতলেও হচ্ছে কফি চাষ

আপডেট সময় : ১০:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

 

 

শুধু পাহাড়েই নয় সমতলেও হচ্ছে কফি চাষ

 

 

শুধু পাহাড়েই নয় সমতলেও হচ্ছে কফি চাষ।

 

সমতলের রংপুরেই শুরু হয়েছে কফি চাষ, নতুন দিগন্তের হাতছানি দিচ্ছে। হয়ে উঠতে পারে তামাক চাষের বিকল্প হিসেবে কফিচাষ ।

 

 

বাগানের গাছ থেকে তোলা হচ্ছে থোকায় থোকায় ধরা কফিফল। সেই ফল প্রক্রিয়াজাত করে স্থানীয়ভাবেই বানানো হচ্ছে পানের উপযোগী কফি।

ধোঁয়া ওঠা কফির কাপে চুমুক দিচ্ছেন বাগানেরই পাশে তৈরি করা কফি শপে। একবার ভাবুন তো, অনুভূতিটা কেমন হবে?

যদি অত ভাবতে না চান, তাহলে কষ্ট করে আপনাকে যেতে হবে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায়। সেখানকার সয়ার ইউনিয়নের গোয়ালবাড়ী গ্রামে গেলেই পাবেন কাঙ্ক্ষিত সেই ‘ফিলিংস’। অর্থাৎ বাগানের পাশে বসেই পান করতে পারবেন সেখানকার গাছ থেকে তোলা কফি।

 

 

এই ফিলিংস নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন গোয়ালপাড়া গ্রামেরই তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মোখলেছুর রহমান (৩৫)। গত ২৮ অক্টোবর থেকে নিজের বাগানের পাশে কফিশপ চালু করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাস এই কৃষক।

 

কৃষি উদ‍্যোক্তা মোখলেছুর জানান, আপাতত তিনি সীমিত পরিসরে কফিশপ চালু করেছেন। আস্তেধীরে পাশের বগুড়া, রংপুর ও সৈয়দপুর শহরসহ বিভিন্ন স্থানে তিনি নিজের বাগান থেকে তোলা ফল প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা কফি সরবরাহ করবেন।

পড়ুন>>৪০ বছর পর মৌলভীবাজারে আবারও কফি চাষ শুরু

স্থানীয় কয়েকজন জানালেন, তারাগঞ্জে এখন আগের মতো তামাকচাষ আর নেই। অন্য ফসলে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। এখন শুরু হয়েছে কফিচাষ। এভাবে অস্বাস্থ্যকর তামাকের জায়গা নিচ্ছে স্বাস্থ্যকর পানীয়ফসলের চাষ।

 

 

তারাগঞ্জ শহর থেকে একই জেলার বদরগঞ্জ উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। তারাগঞ্জ সদর থেকে এই সড়ক ধরে দক্ষিণে প্রায় ৫ কিলোমিটার এগোলেই মোখলেছুরের কফিশপ। এর পাশেই তাঁর কফির বাগান।

গত ২১ অক্টোবর গোয়ালবাড়ী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মোখলেছুরের বাগানজুড়ে থোকায় থোকায় ধরে আছে কফিফল। সবুজ পাতার ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছে লাল, হলুদ রঙের পাকা ফল। কোনোটা অবশ্য তখনো পাকেনি। সেগুলোর রং সবুজ। গাছের উচ্চতা ছয়/সাড়ে ছয় ফুট।

 

পড়ন>>লাভজনক উপায়ে বেগুন চাষ পদ্ধতি

 

তিনি বলেন, এখন কফি গাছের ফল আহরণ শুরু। চলবে মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত। গত সপ্তাহেই তিনি ফল তুলেছেন। এ বছর তিনি কফির বাগানে খরচ করেছিলেন প্রায় আড়াই হাজার টাকা।

এবার নিজেই প্রক্রিয়াজাত করে কফি বিক্রি করবেন। এভাবে লাভ বেশি হবে। তাঁর টার্গেট, এভাবে তিনি ৩০ লাখ টাকার কফি বিক্রি করবেন।

 

কবে থেকে কফি চাষ শুরু-এমন প্রশ্নে তিনি জানান, প্রায় ৭ বছর আগে ইউটিউবের মাধ্যমে জানতে পারেন পার্বত্য চট্টগ্রামে ঢালু জমিতে কফির চাষ হচ্ছে। তিনি ভাবেন, তারাগঞ্জের মাটিও তো ঢালু। তাহলে এখানেও তো কফিচাষ হতে পারে। যেই ভাবনা, সেই কাজ।

 

 

করছেন না–এমন প্রশ্নে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত এই কৃষক বলেন, প্রথমত, অন্য চাষিরা এই চাষ সম্পর্কে তেমন জানেন না। দ্বিতীয়ত, কফিচাষে প্রথম দুই বছর ফলন পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ক্ষুদ্র চাষিরা এই সময়টুকু দিতে চান না। জমি ফেলে রাখতে চান না।

 

 

তবে ধীরে-ধীরে কফিচাষ জনপ্রিয় হচ্ছে বলে জানান মোখলেছুর। তিনি বলেন, তাঁর এলাকায় এখন তিনটি কফিবাগান। তাঁর দেওয়া চারা দিয়ে পঞ্চগড়, বগুড়া, নওগাঁসহ বিভিন্ন জেলায় ৫০টির বেশি বাগান হয়েছে। তিনি নিজে এসব চাষিকে বাগানের বিষয়ে নানা পরামর্শ দেন।

 

 

তিনি বলেন, চরাঞ্চলের বালিমাটি ছাড়া দেশের সব মাটি কফি চাষের জন্য উপযোগী। শুধু পানি আটকে থাকে না, এমন জমি হলেই রপ্তানিযোগ্য এ ফসল চাষ করা যাবে।

 

কফি নিয়ে অনেক স্বপ্ন মোখলেছুরের। তিনি বলেন, কফি বিশ্বের অন্যতম বড় শিল্প। তিনি দেশে এই শিল্পের বিকাশে কাজ করতে চান।

ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে কফির প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিদেশে রপ্তানিও করতে চান। এরই অংশ হিসেবে তিনি বাগানের পাশেই কফিশপটি চালু করেছেন।

তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের কফিচাষে এগিয়ে আসার পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে সরকারকেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহবান জানান।

 

 

Facebook Comments Box