যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ফাঁকি দিতে চীন ৪০টির বেশি দেশকে ব্যবহার করছে: হোয়াইট হাউস
- আপডেট সময় : ০২:৩৩:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত উচ্চ শুল্ক এড়াতে চীন ৪০টিরও বেশি দেশের সহায়তা নিচ্ছে বলে হোয়াইট হাউসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব দেশের মাধ্যমে চীনা পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করিয়ে কয়েক হাজার কোটি ডলারের শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় কানাডা, ভারত, মেক্সিকো, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর নাম উঠে এসেছে।
হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো এই পরিস্থিতিকে মার্কিন অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এই কৌশলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হিসাব বলছে, প্রায় ৩০ বিলিয়ন থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য উচ্চ শুল্কের আওতাভুক্ত দেশ থেকে কম শুল্কের দেশে স্থানান্তর করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে।
এই প্রক্রিয়াটি ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ হিসেবে পরিচিত, যেখানে পণ্য চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে তৃতীয় কোনো দেশের মধ্য দিয়ে যায়। হোয়াইট হাউসের অভিযোগ, চীন এই পদ্ধতি ব্যবহার করে পণ্যের মোড়ক পরিবর্তন ও প্রকৃত উৎপত্তিস্থল আড়াল করছে। প্রতিবেদনে একে ‘কাগজপত্রের মাধ্যমে প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের শুল্ক ফাঁকি শনাক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে।
তবে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি পাল্টা মন্তব্য করে বলেন, ‘বাণিজ্যযুদ্ধে কেউ জয়ী হয় না।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের নীতি এবং চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের কঠোর সমালোচনা করেন। এছাড়া, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানো নিয়ে কোনো একতরফা পদক্ষেপ যেন অন্য দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ না করে, সে বিষয়েও তিনি সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক চ্যাং পাও লি মনে করেন, এই প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য আলোচনায় ওয়াশিংটনের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তার মতে, চীন পরোক্ষভাবে মার্কিন বাজারে প্রবেশের সুযোগ ধরে রেখেছে—এমন যুক্তি এখন যুক্তরাষ্ট্র আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করতে পারবে। ভবিষ্যতে যেকোনো বড় বাণিজ্য চুক্তিতে সরাসরি রপ্তানির পাশাপাশি তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
তবে চ্যাং এও সতর্ক করেছেন যে, বাণিজ্যপ্রবাহের এই পরিবর্তনের কিছু অংশ বৈধও হতে পারে। সরবরাহব্যবস্থার পুনর্গঠন বা অন্য দেশে উৎপাদন সরিয়ে নেওয়ার কারণেও এমন পরিবর্তন স্বাভাবিক। ফলে চীনের সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত দেশগুলো নতুন করে ঝুঁকি ও বাড়তি ব্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের মে মাসে দুই দেশের আলোচনার পর অধিকাংশ শুল্ক আরোপ স্থগিত করা হলেও পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্য বিধিনিষেধ এখনো চলমান। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র চীনের মানবাকৃতির রোবটের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করলে তার জবাবে চীন ড্রোন রপ্তানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।
এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৫৭টি দেশের পণ্যের ওপর পাইকারি হারে শুল্ক আরোপ করেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, এই পদক্ষেপ মার্কিন কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। যদিও মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ওই শুল্কের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিল, তবুও বিকল্প আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্প নতুন শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন বৈঠকের আগে এই বাণিজ্য উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, ৩০ বিলিয়ন বা ৩ হাজার কোটি ডলার থেকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলারের পণ্য বেশি শুল্কের আওতাভুক্ত দেশ থেকে কম শুল্কের আওতাভুক্ত দেশের মাধ্যমে পা
হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, ৩০ বিলিয়ন বা ৩ হাজার কোটি ডলার থেকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলারের পণ্য বেশি শুল্কের আওতাভুক্ত দেশ থেকে কম শুল্কের আওতাভুক্ত দেশের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো


























