ঢাকা ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মহা-হিসাব নিরীক্ষক কার্যালয়ে ৩৪৭ পদে চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নতুন ট্রাফিক ও সম্পত্তি আইন পাস করল কাতারের শুরা কাউন্সিল শিল্পাঞ্চল ও কেপিআই নিরাপত্তায় আনসার সদস্যদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি: মহাপরিচালক সুন্দরবনে দুই বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনায় পাঁচ জেলে অপহৃত এআই যেন বেকারত্ব না বাড়ায়, সতর্ক থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির মোংলা বন্দর হবে দেশের নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী মুচলেকা দিয়ে আদালত থেকে জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: চার ভাইসহ পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড ও আটজনের যাবজ্জীবন খুলনায় চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রেল দরপত্র জালিয়াতির তদন্ত নিয়ে গড়িমসি, জানেন না সময়সীমা জিএম

মোয়া বিক্রি করে স্বাবলম্বী কুড়িগ্রামের সাইফুল

সাইয়‍্যেদ বাবু সৃষ্টি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ৪০০ বার পড়া হয়েছে

মোয়া বিক্রি করে স্বাবলম্বী কুড়িগ্রামের সাইফুল

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোয়া বিক্রি করে স্বাবলম্বী কুড়িগ্রামের সাইফুল।

কুড়িগ্রামে প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাতে বানানো সুস্বাদু মোয়া তৈরি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন মোঃ সাইফুল ইসলাম(৪৫)। মুড়ি গুড় দিয়ে তৈরি সুস্বাদু মোয়া বা মলা বিক্রি করে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে সাইফুল ইসলামের। নিজের আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি এলাকার আরো ২০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে তার কারখানায়।

সাইফুলের বানানো মোয়া তিন উপজেলার মানুষের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। এখন তার মাসে আয় প্রায় ৪০-৬০ হাজার টাকা।

সাইফুল ইসলামের বাড়ি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের তিস্তা পাড়ের গোড়াই পিয়ার এলাকায়। তার পরিবারে স্ত্রী এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে স্থানীয় স্কুলে নবম শ্রেণি ও মেয়ে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাইফুল ইসলাম বাইসাইকেল ও রিকসার মেকানিকের কাজ করে সংসার চালাচ্ছিলেন। শারীরিক অসুস্থায় মেকানিকের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সংসারে শুরু হয় টানাপোড়ন।

উপায়ন্তর না পেয়ে ২০২০ সালে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে শুরু করেন বাড়িতে মোয়া তৈরির কাজ। শুরুর দিকে স্বামী স্ত্রী দুজনে মিলে মোয়া তৈরি করলেও পর্যাক্রমে বাজারে মোয়ার চাহিদা বেশি থাকায় এখন তার কারখানায় কাজ করছে ২০-২৫ জন নারী পুরুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, একটি বড় হাঁড়িতে জমাট বাঁধা গুড় তাপ দিয়ে তরল করা হচ্ছে। তরল গুড়ে মুড়ি মিশ্রিত করে তিনটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নারীরা তৈরি করছেন মোয়া বা মলা।

এসব মোয়া রাখা হচ্ছে পাশের একটি ঘরে। সেখানে আবার ১০টি করে মোয়া দিয়ে করা হচ্ছে একটি করে প্যাকেট। এক প্যাকেট মোয়ার পাইকারি দাম ৩০ টাকা। প্রতিদিন ৩-৪ মণ মুড়ি ও ১মন গুড় দিয়ে উৎপাদন হচ্ছে ৮-১০ হাজার মোয়া বা মলা। তা বিক্রি করে শ্রমিক, পরিবহন ও অন্যন্য খরচ মিটিয়ে প্রতিদিন আয় করছেন দেড় থেকে ২ হাজার টাকা। এখন বাজারে মোয়ার চাহিদা বেশি থাকায় খুবই ব্যস্থ সময় পার করছেন তিনি।

সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি গত তিন বছর ধরে মলা তৈরি করছি। আমার এখানে ২০-২৫ জন নারী পুরুষ কাজ করছে। তাদেরকে ২শত টাকা পারিশ্রমিক দিচ্ছি।

আমারও দিন গেলে এক থেকে দেড় হাজার টাকা আয় হচ্ছে। মোটামুটি সংসারটা এখন ভালো চলছে। আগে তো অভাব খুব ছিল। টাকা পয়সা বেশি থাকলে আরও বড় পরিসরে কাজটি করতে পারতাম। আমার এখানে প্রতিদিন ৮-১০ হাজার মলা তৈরি হচ্ছে। এসব মলা আমি নিজেই পাশ্ববর্তী তিনটি উপজেলায় বিক্রি করছি।

সাইফুল ইসলামের স্ত্রী শাপলা বেগম বলেন, আমার সংসার আগে অভাব ছিল। এখন আর অভাব নাই।ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা করাচ্ছি। সামান্য কিছু জমিও বন্ধক নিছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মোয়া তৈরির কারখানা করার চিন্তাভাবনা আছে।

সাইফুল ইসলামের মোয়া তৈরির কারখানায় কাজ করছেন মাহমুদা নামের এক নারী। তিনি বলেন, আমরা অনেকে এখানে কাজ করি। দিন ২০০ টাকা পারিশ্রমিক পাই। স্বামীর ইনকাম ছাড়াও এখানকার আয়ে সংসারে যোগান দিচ্ছি। পাশাপাশি ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ারও খরচ চালাচ্ছি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) মন্টু মিয়া বলেন, আমার ওর্য়াডের সাইফুল আগে মেকানিকের কাজ করতো। কয়েক বছর থেকে বাড়িতে মুয়া তৈরি করে বিক্রি করছে। বাড়িতে মলা তৈরি করে ভালোই লাভবান হচ্ছে। পাশাপাশি তার এখানে ২০-২৫ জন নারী পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। সরকারি ভাবে তাকে যদি সহযোগিতা করা হয়, তাহলে আমার মনে হয় আরও বড় পরিসরে মুয়া তৈরির কাজটি করতে পারতো।

কুড়িগ্রাম বিসিক শিল্পের উপ ব্যবস্থাপক শাহ মোহাম্মদ জোনায়েদ বলেন, সাইফুল ইসলাম মোয়া তৈরি করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। কোন প্রকার সহযোগিতার প্রয়োজন হলে কুড়িগ্রাম বিসিক পাশে থাকবে।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মোয়া বিক্রি করে স্বাবলম্বী কুড়িগ্রামের সাইফুল

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩

মোয়া বিক্রি করে স্বাবলম্বী কুড়িগ্রামের সাইফুল।

কুড়িগ্রামে প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাতে বানানো সুস্বাদু মোয়া তৈরি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন মোঃ সাইফুল ইসলাম(৪৫)। মুড়ি গুড় দিয়ে তৈরি সুস্বাদু মোয়া বা মলা বিক্রি করে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে সাইফুল ইসলামের। নিজের আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি এলাকার আরো ২০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে তার কারখানায়।

সাইফুলের বানানো মোয়া তিন উপজেলার মানুষের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। এখন তার মাসে আয় প্রায় ৪০-৬০ হাজার টাকা।

সাইফুল ইসলামের বাড়ি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের তিস্তা পাড়ের গোড়াই পিয়ার এলাকায়। তার পরিবারে স্ত্রী এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে স্থানীয় স্কুলে নবম শ্রেণি ও মেয়ে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাইফুল ইসলাম বাইসাইকেল ও রিকসার মেকানিকের কাজ করে সংসার চালাচ্ছিলেন। শারীরিক অসুস্থায় মেকানিকের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সংসারে শুরু হয় টানাপোড়ন।

উপায়ন্তর না পেয়ে ২০২০ সালে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে শুরু করেন বাড়িতে মোয়া তৈরির কাজ। শুরুর দিকে স্বামী স্ত্রী দুজনে মিলে মোয়া তৈরি করলেও পর্যাক্রমে বাজারে মোয়ার চাহিদা বেশি থাকায় এখন তার কারখানায় কাজ করছে ২০-২৫ জন নারী পুরুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, একটি বড় হাঁড়িতে জমাট বাঁধা গুড় তাপ দিয়ে তরল করা হচ্ছে। তরল গুড়ে মুড়ি মিশ্রিত করে তিনটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নারীরা তৈরি করছেন মোয়া বা মলা।

এসব মোয়া রাখা হচ্ছে পাশের একটি ঘরে। সেখানে আবার ১০টি করে মোয়া দিয়ে করা হচ্ছে একটি করে প্যাকেট। এক প্যাকেট মোয়ার পাইকারি দাম ৩০ টাকা। প্রতিদিন ৩-৪ মণ মুড়ি ও ১মন গুড় দিয়ে উৎপাদন হচ্ছে ৮-১০ হাজার মোয়া বা মলা। তা বিক্রি করে শ্রমিক, পরিবহন ও অন্যন্য খরচ মিটিয়ে প্রতিদিন আয় করছেন দেড় থেকে ২ হাজার টাকা। এখন বাজারে মোয়ার চাহিদা বেশি থাকায় খুবই ব্যস্থ সময় পার করছেন তিনি।

সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি গত তিন বছর ধরে মলা তৈরি করছি। আমার এখানে ২০-২৫ জন নারী পুরুষ কাজ করছে। তাদেরকে ২শত টাকা পারিশ্রমিক দিচ্ছি।

আমারও দিন গেলে এক থেকে দেড় হাজার টাকা আয় হচ্ছে। মোটামুটি সংসারটা এখন ভালো চলছে। আগে তো অভাব খুব ছিল। টাকা পয়সা বেশি থাকলে আরও বড় পরিসরে কাজটি করতে পারতাম। আমার এখানে প্রতিদিন ৮-১০ হাজার মলা তৈরি হচ্ছে। এসব মলা আমি নিজেই পাশ্ববর্তী তিনটি উপজেলায় বিক্রি করছি।

সাইফুল ইসলামের স্ত্রী শাপলা বেগম বলেন, আমার সংসার আগে অভাব ছিল। এখন আর অভাব নাই।ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা করাচ্ছি। সামান্য কিছু জমিও বন্ধক নিছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মোয়া তৈরির কারখানা করার চিন্তাভাবনা আছে।

সাইফুল ইসলামের মোয়া তৈরির কারখানায় কাজ করছেন মাহমুদা নামের এক নারী। তিনি বলেন, আমরা অনেকে এখানে কাজ করি। দিন ২০০ টাকা পারিশ্রমিক পাই। স্বামীর ইনকাম ছাড়াও এখানকার আয়ে সংসারে যোগান দিচ্ছি। পাশাপাশি ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ারও খরচ চালাচ্ছি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) মন্টু মিয়া বলেন, আমার ওর্য়াডের সাইফুল আগে মেকানিকের কাজ করতো। কয়েক বছর থেকে বাড়িতে মুয়া তৈরি করে বিক্রি করছে। বাড়িতে মলা তৈরি করে ভালোই লাভবান হচ্ছে। পাশাপাশি তার এখানে ২০-২৫ জন নারী পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। সরকারি ভাবে তাকে যদি সহযোগিতা করা হয়, তাহলে আমার মনে হয় আরও বড় পরিসরে মুয়া তৈরির কাজটি করতে পারতো।

কুড়িগ্রাম বিসিক শিল্পের উপ ব্যবস্থাপক শাহ মোহাম্মদ জোনায়েদ বলেন, সাইফুল ইসলাম মোয়া তৈরি করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। কোন প্রকার সহযোগিতার প্রয়োজন হলে কুড়িগ্রাম বিসিক পাশে থাকবে।

 

Facebook Comments Box