ঢাকা ০৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: ইসি সচিব ডাকসুতে জয়ই ইসলাম প্রতিষ্ঠার পথ: মিয়া গোলাম পরওয়ার পাঁচ খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কল্যাণপুর জঙ্গি অভিযান: শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের শুনানি পেছাল ট্রাম্প: আমার সমর্থন পাওয়ায় নেতানিয়াহু নিশ্চিত পরাজয় এড়িয়েছেন ব্যালন ডি’অর না জিতলেও আত্মবিশ্বাসী লামিন ইয়ামাল: আসবে আমার সময়ও আইইডিসিআর কার্যালয়ে ঢুকে পরিচালককে নিরাপত্তা ঘটনায়, অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি ড্যাব গাজীপুর কর অঞ্চলে ৩৪টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি স্পেনের মালাগার সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়াতে চায় বাংলাদেশ বাংলাদেশে কার্যালয় খুলতে জেবিআইসিকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রবাসীদের স্বপ্নগুলো মরুভুমির বালির সাথেই উড়ে উড়ে যাচ্ছে

অখিল বৈদ্য শ্রেয়
  • আপডেট সময় : ১২:১৭:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মার্চ ২০২৪ ৩৫১ বার পড়া হয়েছে

প্রবাসীদের স্বপ্নগুলো মরুভুমির বালির সাথেই উড়ে উড়ে যাচ্ছে

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রবাসীদের স্বপ্নগুলো মরুভুমির বালির সাথেই উড়ে উড়ে যাচ্ছে।

প্রতিদিন চোখের সামনে প্রবাসীদের সপ্নগূলো মরুভুমির বালির সাথে উড়ে উড়ে যাচ্ছে।
আর আমি সেইসব উড়ে যাওয়া স্বপ্ন গুলো সাজিয়ে গুছিয়ে যখন লিখতে যাই, তখনই আমার বুকের বাম পাশটায় প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করি। হাতটা তখন কেঁপে ওঠে। অশ্রু নামক কিছু এসে মোবাইলের স্কীন ভিজিয়ে দেয়।

লিখতে চাইলেও পারিনা, কি লিখবো, যদি প্রবাসীদের হিসাব করা হয়। তবে ৫০% মানুষ আছেন, যারা মাস শেষে যা টাকা বেতন পান তা থেকে কোনরকম নিজের ফ্যামিলি চালিয়ে নিতে পারলেও নিজের জন্য মাস শেষে একটা ভালো ক্রিম কেনার টাকাও পকেটে থাকেনা। ১-৫ বছরেও একবার দেশে যাবার জন্য কল্পনাও করতে পারেন না তারা। কিন্তু দেশের জন্য প্রতি রাতেই কেঁদে কেঁদে বালিশের এক পাশ ভিজিয়ে ফেলেন।

আরো ২০% আছেন যারা মোটামুটি ভালো অফিসে কাজ করেন, ভালো একটা পয়সা ইনকাম করতে পারেন। কিন্তু চাইলে দেখা যায় তারা আরো বেশিই কষ্টে আছেন, তাঁদেরকে মালিক যে পরিমাণ টাকা দেয় এর তিনগুণ কাজ উদ্ধার করে নেয়।

আর রুজি করে নিজের জন্য কিছু না করে দেশের ভাই-বোন মা-বাবার জন্য করতে করতে তাদের শখগুলো পুরণ করতে গিয়ে একটা সময় দেখা যায় নিজের পকেট খালি। আর এই মানুষগুলোই একদিন সবার কাছে বেইমান হয়ে যায়।

একটা সময় নিজের আপনজনরাই বলেন, এতো এতো টাকা রুজি করে, তার কাছে অনেক টাকা আছে, আরো অনেক কিছু। আর ২০% মানুষ আছেন, তাঁদেরকে দেখলে মনে হয়, দুনিয়ায় জন্ম নেয়াটাই তাদের মহাপাপ।

তারা দালালের খপ্পরে পড়ে এসেছেন, মাসে যা রুজি হয় তা দিয়ে নিজেই চলা কষ্ট, তার মাঝে অনেক সময় মাসের পর মাস কাজ থাকেনা ইত্যাদি।

তবে যে যে অবস্থানেই হোক, কথা কিন্তু সত্য, বিদেশ অনেক অনেক টাকা আছে। আমাদের না দিকে ঠিক মতো খেয়াল না করলেও একাউন্ট কিন্তু টাকায় ফুল। এটা দেশের কিছু মানুষের ধারণা।

অনেকেই বলে , যদি ওখানে রুজি না হয় তবে চলে আসো, প্রবাসিরা শত কষ্টের পরেও কেন প্রবাস ছেড়ে যেতে চায়না, তা প্রবাসী ছাড়া কেউ বুঝতেও পারবেনা।

আমার পরিচিত অনেকেই আছেন যারা বলেন, আমরা গেলে এই করতাম সেই করতাম, আমি তাঁদেরকে বলি, সত্যি তোমরা পারবে, আমরা পারিনি।

একটা কথা মাথায় আসেনা, প্রবাসীরাও তো আরো হাজার মানুষের মতো মানুষ, তাদের কি ইচ্ছে হয়না নিজের যৌবনকাল টা আরো ১০ জনের মতো কাটাতে?

ইচ্ছে হয়না সকালে মায়ের বকা শুনে শুনে ঘুম থেকে উঠতে? বাবার শাসনের বেড়াজালে থাকতে?
পছন্দ মতো একটি মেয়েকে বিয়ে করে সুন্দর একটি সংসার গড়তে? মাঝে মাঝে বন্ধুদের নিয়ে হইচই করে বেড়াতে? সন্ধ‍্যার পর, গলির মোড়ে বন্ধুদের নিয়ে চটপটি খেতে?

সন্ধ‍্যায় অনেক ইচ্ছে হয়, যা প্রকাশ করার মতো নয়। কিন্তু আল্লাহ্‌ প্রবাসীদের মনে একটা মহল গড়ে দিয়েছেন। যার নাম ত্যাগ আর ধৈর্য্য আর সেই কারণেই নিজের সব চাওয়া পাওয়া, নিজের জীবনের কোটি টাকা দামের সময় গুলো সস্তা দামে বিক্রি করে মনুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে নিজেকে সুখি মনে করে।

পরিসংখ্যান করলে দেখা যাবে ৮০% প্রবাসীর কাছে নিজের জন্য জমানো ১০ হাজার টাকাও নেই। যদি থাকে তবে হয়তো সেটা রেখেছে একটা মোবাইল কিনবে, কারো সাথে আদরের ছোট ভাইকে উপহার দেয়ার জন্য।

তারপরেও কিছু প্রবাসী আছেন, যারা সব কিছু বির্সজন দিয়ে নিজের জন্য একটা স্বপ্ন দেখেন, কিছু একটা চাওয়ার থাকে, জীবনের কোন একটা বাঁকে গিয়ে সেই স্বপ্নটা পুরণ করতে চান, কারো সেই স্বপ্ন পুরণ হয়ে যায়, কারো হয়না।

যার সব মুল্যবান সময়, নিজের সুখগুলো শেষ করেও নিজের দেখা স্বপ্নটা পুরণ হয়না,
তারা আর জীবনে কোন স্বপ্ন দেখেনা, দেখতে চায়।

কারণ আবার নতুন করে স্বপ্ন সাজাবার মতো সময় আর নেই। সেটা মরুভূমির বালির সাথে উড়ে চলে গেছে, চাইলেই নিজের জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া সময় গুলো আর ফিরিয়ে আনতে পারবেনা।

তাই বালির সাথে উড়ে উড়ে যাওয়া প্রবাসীদের স্বপ্নে কথা লিখতেও পারিনা, আর বলতেও পারিনা।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রবাসীদের স্বপ্নগুলো মরুভুমির বালির সাথেই উড়ে উড়ে যাচ্ছে

আপডেট সময় : ১২:১৭:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মার্চ ২০২৪

প্রবাসীদের স্বপ্নগুলো মরুভুমির বালির সাথেই উড়ে উড়ে যাচ্ছে।

প্রতিদিন চোখের সামনে প্রবাসীদের সপ্নগূলো মরুভুমির বালির সাথে উড়ে উড়ে যাচ্ছে।
আর আমি সেইসব উড়ে যাওয়া স্বপ্ন গুলো সাজিয়ে গুছিয়ে যখন লিখতে যাই, তখনই আমার বুকের বাম পাশটায় প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করি। হাতটা তখন কেঁপে ওঠে। অশ্রু নামক কিছু এসে মোবাইলের স্কীন ভিজিয়ে দেয়।

লিখতে চাইলেও পারিনা, কি লিখবো, যদি প্রবাসীদের হিসাব করা হয়। তবে ৫০% মানুষ আছেন, যারা মাস শেষে যা টাকা বেতন পান তা থেকে কোনরকম নিজের ফ্যামিলি চালিয়ে নিতে পারলেও নিজের জন্য মাস শেষে একটা ভালো ক্রিম কেনার টাকাও পকেটে থাকেনা। ১-৫ বছরেও একবার দেশে যাবার জন্য কল্পনাও করতে পারেন না তারা। কিন্তু দেশের জন্য প্রতি রাতেই কেঁদে কেঁদে বালিশের এক পাশ ভিজিয়ে ফেলেন।

আরো ২০% আছেন যারা মোটামুটি ভালো অফিসে কাজ করেন, ভালো একটা পয়সা ইনকাম করতে পারেন। কিন্তু চাইলে দেখা যায় তারা আরো বেশিই কষ্টে আছেন, তাঁদেরকে মালিক যে পরিমাণ টাকা দেয় এর তিনগুণ কাজ উদ্ধার করে নেয়।

আর রুজি করে নিজের জন্য কিছু না করে দেশের ভাই-বোন মা-বাবার জন্য করতে করতে তাদের শখগুলো পুরণ করতে গিয়ে একটা সময় দেখা যায় নিজের পকেট খালি। আর এই মানুষগুলোই একদিন সবার কাছে বেইমান হয়ে যায়।

একটা সময় নিজের আপনজনরাই বলেন, এতো এতো টাকা রুজি করে, তার কাছে অনেক টাকা আছে, আরো অনেক কিছু। আর ২০% মানুষ আছেন, তাঁদেরকে দেখলে মনে হয়, দুনিয়ায় জন্ম নেয়াটাই তাদের মহাপাপ।

তারা দালালের খপ্পরে পড়ে এসেছেন, মাসে যা রুজি হয় তা দিয়ে নিজেই চলা কষ্ট, তার মাঝে অনেক সময় মাসের পর মাস কাজ থাকেনা ইত্যাদি।

তবে যে যে অবস্থানেই হোক, কথা কিন্তু সত্য, বিদেশ অনেক অনেক টাকা আছে। আমাদের না দিকে ঠিক মতো খেয়াল না করলেও একাউন্ট কিন্তু টাকায় ফুল। এটা দেশের কিছু মানুষের ধারণা।

অনেকেই বলে , যদি ওখানে রুজি না হয় তবে চলে আসো, প্রবাসিরা শত কষ্টের পরেও কেন প্রবাস ছেড়ে যেতে চায়না, তা প্রবাসী ছাড়া কেউ বুঝতেও পারবেনা।

আমার পরিচিত অনেকেই আছেন যারা বলেন, আমরা গেলে এই করতাম সেই করতাম, আমি তাঁদেরকে বলি, সত্যি তোমরা পারবে, আমরা পারিনি।

একটা কথা মাথায় আসেনা, প্রবাসীরাও তো আরো হাজার মানুষের মতো মানুষ, তাদের কি ইচ্ছে হয়না নিজের যৌবনকাল টা আরো ১০ জনের মতো কাটাতে?

ইচ্ছে হয়না সকালে মায়ের বকা শুনে শুনে ঘুম থেকে উঠতে? বাবার শাসনের বেড়াজালে থাকতে?
পছন্দ মতো একটি মেয়েকে বিয়ে করে সুন্দর একটি সংসার গড়তে? মাঝে মাঝে বন্ধুদের নিয়ে হইচই করে বেড়াতে? সন্ধ‍্যার পর, গলির মোড়ে বন্ধুদের নিয়ে চটপটি খেতে?

সন্ধ‍্যায় অনেক ইচ্ছে হয়, যা প্রকাশ করার মতো নয়। কিন্তু আল্লাহ্‌ প্রবাসীদের মনে একটা মহল গড়ে দিয়েছেন। যার নাম ত্যাগ আর ধৈর্য্য আর সেই কারণেই নিজের সব চাওয়া পাওয়া, নিজের জীবনের কোটি টাকা দামের সময় গুলো সস্তা দামে বিক্রি করে মনুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে নিজেকে সুখি মনে করে।

পরিসংখ্যান করলে দেখা যাবে ৮০% প্রবাসীর কাছে নিজের জন্য জমানো ১০ হাজার টাকাও নেই। যদি থাকে তবে হয়তো সেটা রেখেছে একটা মোবাইল কিনবে, কারো সাথে আদরের ছোট ভাইকে উপহার দেয়ার জন্য।

তারপরেও কিছু প্রবাসী আছেন, যারা সব কিছু বির্সজন দিয়ে নিজের জন্য একটা স্বপ্ন দেখেন, কিছু একটা চাওয়ার থাকে, জীবনের কোন একটা বাঁকে গিয়ে সেই স্বপ্নটা পুরণ করতে চান, কারো সেই স্বপ্ন পুরণ হয়ে যায়, কারো হয়না।

যার সব মুল্যবান সময়, নিজের সুখগুলো শেষ করেও নিজের দেখা স্বপ্নটা পুরণ হয়না,
তারা আর জীবনে কোন স্বপ্ন দেখেনা, দেখতে চায়।

কারণ আবার নতুন করে স্বপ্ন সাজাবার মতো সময় আর নেই। সেটা মরুভূমির বালির সাথে উড়ে চলে গেছে, চাইলেই নিজের জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া সময় গুলো আর ফিরিয়ে আনতে পারবেনা।

তাই বালির সাথে উড়ে উড়ে যাওয়া প্রবাসীদের স্বপ্নে কথা লিখতেও পারিনা, আর বলতেও পারিনা।

Facebook Comments Box