ঢাকা ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতি বাংলাদেশির মাথায় ৬৪৬ ডলার বৈদেশিক ঋণ: বিশ্বব্যাংক দুর্নীতিতে অনেক সমবায় সমিতি অকার্যকর হয়ে পড়েছে: রাষ্ট্রপতি ইসরাইলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকট: সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ৩৫ টাকা দরে ৩ লাখ টন আমন ধান কিনবে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী ডিএমপি: জনমনে আতঙ্ক ছড়াতেই বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন হত্যায় বিচার শুরুর নির্দেশ লন্ডনে উদ্বোধন হলো প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীর স্থায়ী ঠিকানা ‘চাটগাঁ হাউস’ দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে ছিটকে গেলেন ওপেনার সাদমান ইসলাম বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে ৩৯টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ শান্তি কোনো বিলাসিতা নয়, অক্সফোর্ড ইউনিয়নে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রতি বাংলাদেশির মাথায় ৬৪৬ ডলার বৈদেশিক ঋণ: বিশ্বব্যাংক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বব্যাংকের ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট ২০২৬’-এর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ১১৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ১১ হাজার ৩৪৪ কোটি ডলার) পৌঁছেছে। দেশের ১৭ কোটি ৫৭ লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে এই ঋণ ভাগ করলে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬৪৬ ডলার। গত এক বছরে দেশের বৈদেশিক ঋণ ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে এবং গত দশ বছরে তা প্রায় তিন গুণ হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল ৩৮ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালের শেষে এই উচ্চতায় পৌঁছায়। ২০১৫ সালের তুলনায় এ অনুপাত বেড়েছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

মোট বৈদেশিক ঋণের মধ্যে সরকারি ও সরকারি নিশ্চয়তা দেওয়া ঋণের পরিমাণ ৮৯ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। বেসরকারি খাতের নিশ্চয়তাবিহীন ঋণ ৯ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণ ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। সরকারি ঋণের একটি বড় অংশ বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে, যার পরিমাণ ৫১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় ঋণ রয়েছে ৩২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার এবং বেসরকারি ঋণদাতাদের কাছে পাওনা ৫ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মোট ঋণের সবচেয়ে বড় অংশের দায় সরকারি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

বহুপক্ষীয় সংস্থার মধ্যে বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) থেকে বাংলাদেশ ২২ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ১৭ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছে। দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতাদের মধ্যে জাপান ১২ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার ও রাশিয়া ৯ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার পাওনা রয়েছে। ঋণের পরিমাণ বাড়লেও কিছু ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ জিএনআইয়ের ২৪ শতাংশ এবং রপ্তানি আয়ের ২১০ শতাংশের সমান ছিল। আবার রপ্তানি ও জাতীয় আয়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধের অনুপাত কিছুটা কমে যথাক্রমে ১৬ ও ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যদিও এটি পরিশোধের চাপ কমার সংকেত নয়। অন্য বহুপক্ষীয় সংস্থার কাছে ঋণ ১০ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার। এরপর রাশিয়ার কাছে ৯ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার এবং অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতার কাছে ১০ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, রপ্তানি আয়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধের অনুপাত ২০১৫ সালের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১৬ শতাংশ হয়েছে। টানা পাঁচ বছর ধরে তাদের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বাড়ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন খাতে ব্যয়ের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, এই অঞ্চলে মাথাপিছু গড় বৈদেশিক ঋণ প্রায় ৫৬৪ ডলার। বাংলাদেশের ৬৪৬ ডলারের বিপরীতে ভারতে মাথাপিছু ঋণ ৫২২ ডলার এবং নেপালে ৪০১ ডলার। তবে শ্রীলঙ্কায় এই পরিমাণ ২ হাজার ৬৪৫ ডলার, ভুটানে ৪ হাজার ২১৮ ডলার এবং মালদ্বীপে ৮ হাজার ৯৫৭ ডলার পর্যন্ত রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ঋণের চিত্রও উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালে এসব দেশের বৈদেশিক ঋণ ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৯ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ওই বছর এসব দেশ মূলধন ও সুদ বাবদ ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে। বিশ্বব্যাংকের প্রধান পরিসংখ্যানবিদ হাইশান ফু সতর্ক করে বলেছেন, অনেক দেশ মাত্রাতিরিক্ত ঋণ নিচ্ছে এবং তা পরিশোধে বিশাল অর্থ ব্যয় করছে। এতে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য তহবিল বরাদ্দের সুযোগ কমে আসছে।

বাংলাদেশের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঋণের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা। অবকাঠামো ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ থেকে যথাযথ আয় না এলে ঋণের বোঝা আরও বাড়বে। তাই প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বজায় রাখাই এখন অর্থনীতির জন্য প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রতি বাংলাদেশির মাথায় ৬৪৬ ডলার বৈদেশিক ঋণ: বিশ্বব্যাংক

আপডেট সময় : ০৫:০৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

বিশ্বব্যাংকের ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট ২০২৬’-এর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ১১৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ১১ হাজার ৩৪৪ কোটি ডলার) পৌঁছেছে। দেশের ১৭ কোটি ৫৭ লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে এই ঋণ ভাগ করলে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬৪৬ ডলার। গত এক বছরে দেশের বৈদেশিক ঋণ ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে এবং গত দশ বছরে তা প্রায় তিন গুণ হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল ৩৮ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালের শেষে এই উচ্চতায় পৌঁছায়। ২০১৫ সালের তুলনায় এ অনুপাত বেড়েছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

মোট বৈদেশিক ঋণের মধ্যে সরকারি ও সরকারি নিশ্চয়তা দেওয়া ঋণের পরিমাণ ৮৯ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। বেসরকারি খাতের নিশ্চয়তাবিহীন ঋণ ৯ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণ ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। সরকারি ঋণের একটি বড় অংশ বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে, যার পরিমাণ ৫১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় ঋণ রয়েছে ৩২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার এবং বেসরকারি ঋণদাতাদের কাছে পাওনা ৫ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মোট ঋণের সবচেয়ে বড় অংশের দায় সরকারি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

বহুপক্ষীয় সংস্থার মধ্যে বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) থেকে বাংলাদেশ ২২ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ১৭ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছে। দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতাদের মধ্যে জাপান ১২ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার ও রাশিয়া ৯ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার পাওনা রয়েছে। ঋণের পরিমাণ বাড়লেও কিছু ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ জিএনআইয়ের ২৪ শতাংশ এবং রপ্তানি আয়ের ২১০ শতাংশের সমান ছিল। আবার রপ্তানি ও জাতীয় আয়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধের অনুপাত কিছুটা কমে যথাক্রমে ১৬ ও ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যদিও এটি পরিশোধের চাপ কমার সংকেত নয়। অন্য বহুপক্ষীয় সংস্থার কাছে ঋণ ১০ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার। এরপর রাশিয়ার কাছে ৯ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার এবং অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতার কাছে ১০ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, রপ্তানি আয়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধের অনুপাত ২০১৫ সালের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১৬ শতাংশ হয়েছে। টানা পাঁচ বছর ধরে তাদের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বাড়ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন খাতে ব্যয়ের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, এই অঞ্চলে মাথাপিছু গড় বৈদেশিক ঋণ প্রায় ৫৬৪ ডলার। বাংলাদেশের ৬৪৬ ডলারের বিপরীতে ভারতে মাথাপিছু ঋণ ৫২২ ডলার এবং নেপালে ৪০১ ডলার। তবে শ্রীলঙ্কায় এই পরিমাণ ২ হাজার ৬৪৫ ডলার, ভুটানে ৪ হাজার ২১৮ ডলার এবং মালদ্বীপে ৮ হাজার ৯৫৭ ডলার পর্যন্ত রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ঋণের চিত্রও উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালে এসব দেশের বৈদেশিক ঋণ ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৯ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ওই বছর এসব দেশ মূলধন ও সুদ বাবদ ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে। বিশ্বব্যাংকের প্রধান পরিসংখ্যানবিদ হাইশান ফু সতর্ক করে বলেছেন, অনেক দেশ মাত্রাতিরিক্ত ঋণ নিচ্ছে এবং তা পরিশোধে বিশাল অর্থ ব্যয় করছে। এতে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য তহবিল বরাদ্দের সুযোগ কমে আসছে।

বাংলাদেশের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঋণের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা। অবকাঠামো ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ থেকে যথাযথ আয় না এলে ঋণের বোঝা আরও বাড়বে। তাই প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বজায় রাখাই এখন অর্থনীতির জন্য প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

Facebook Comments Box