তাহসিফের মৃত্যু: বন্ধু দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই
- আপডেট সময় : ০৯:৩৯:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দ্বীপ তাহসিফের বন্ধুর মতো ঘনিষ্ঠ ছোট ভাই।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসা থেকে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে যায়। দ্বীপ ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাহসিফ তার মাকে ‘দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে কথা বলে আসি’ বলে বাসা থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। নিখোঁজ হওয়ার পরের দিন বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের প্রেক্ষাপট
টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি সূত্র জানায়, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নৌ-পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এই ঘটনায় তাহসিফের পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ওই সময় তাহসিফকে স্বাভাবিক ও হাসিখুশি দেখেছেন তিনি।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও দ্বীপের বক্তব্য
- সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে তাহসিফের বাসার নিচের গ্যারেজে আসেন দ্বীপ। সেখানে প্রথমে মোটরসাইকেলে হেলমেট রেখে নিজের পোশাক দিয়ে চোখ-মুখ মুছতে দেখা যায় তাকে।
- সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে তাহসিফ ও দ্বীপকে দুটি আলাদা মোটরসাইকেলে করে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এরপর থেকেই তাহসিফ নিখোঁজ ছিলেন।
- দ্বীপ দাবি করেছেন, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তাহসিফের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল এবং তখন তাকে স্বাভাবিক ও হাসিখুশি দেখাচ্ছিল।
- তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া ও পরবর্তীতে মরদেহ পাওয়ার পুরো বিষয়টি অত্যন্ত রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন বন্ধু দ্বীপ।
তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই এখন খতিয়ে দেখছে ঘটনার দিন ঠিক কী ঘটেছিল এবং তাহসিফের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের সময়গুলোতে তাদের মধ্যে কী কথোপকথন হয়েছিল। নিহতের পরিবারের অভিযোগ ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পাশাপাশি দ্বীপের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। পুলিশি সূত্র বলছে, ঘটনার রহস্য উন্মোচনে দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে আশা করছে তদন্তকারী দল। পুলিশের সার্বিক তদারকিতে এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সূত্র: দৈনিক এইদিন
























