জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন হত্যায় বিচার শুরুর নির্দেশ
- আপডেট সময় : ০২:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার দুপুরে ঢাকার ১৫তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম এই আদেশ দেন। আদালতের আদেশে আগামী ৯ ডিসেম্বর মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করা হয়েছে। তিন আসামিই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। বর্ষা সেদিন সন্ধ্যার দিকে জোবায়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছোট ভাইকে জানান, তাঁর গৃহশিক্ষক (জোবায়েদ) খুন হয়েছেন। ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হত্যাকাণ্ডে বর্ষাসহ তিনজনের স্বীকারোক্তি।
মামলার অভিযুক্তরা হলেন জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, মাহির রহমান ও মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। শুনানির সময় তিন আসামিকেই কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জানিয়েছেন, শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন। আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। অভিযুক্ত তিন আসামি হলেন জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা (১৯), মাহির রহমান (১৯) ও মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান (২১)।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত জোবায়েদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। গত বছরের ১৯ অক্টোবর বিকেলে টিউশনি করানোর জন্য তিনি বংশাল এলাকার আরমানিটোলার এক বাসায় যান। সেখান থেকেই তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত বাদী হয়ে বংশাল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রতিদিনের মতো তিনি গত বছর ১৯ অক্টোবর বিকেলে বংশাল থানা এলাকার আরমানিটোলার বাসায় বর্ষাকে পড়াতে যান। ভবনের সিঁড়িতে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উপুড় অবস্থায় দেখতেন পান তিনি। প্রধান সন্দেহভাজন মাহিরকে থানায় দিলেন তাঁর মা।
তদন্তে পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল। প্রেমের সম্পর্কের জটিলতা এবং অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাই ছিল এই হত্যার মূল কারণ। পরিকল্পনা অনুযায়ী মাহির সরাসরি হামলায় অংশ নেন, বর্ষা পুরো ঘটনার পরিকল্পনা করেন এবং আয়লান তাকে সহায়তা করেন। পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, এক মাস ধরে পরিকল্পনা করে জোবায়েদকে হত্যা করা হয়েছিল। ১৮ ঘণ্টা পরও মামলা হয়নি, প্রেমের কারণে খুন সন্দেহ পুলিশের।
পুলিশের তদন্ত শেষে চলতি বছরের ৩০ জুন তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ছাত্রী বর্ষাই জোবায়েদের এক পরিচিতজনকে তার শিক্ষক খুন হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এখন আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের নতুন ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে।
সূত্র: প্রথম আলো
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























