ঢাকা ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টিভিতে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ওয়ানডেসহ দিনের যত খেলা তাড়াশে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের নারীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ শরতেই শীতের আগমনী বার্তা, আগাম কুয়াশার চাদরে ঢাকা চারপাশ রাণীশংকৈলে ইটভাটা সংলগ্ন ধানক্ষেতের পাশ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার  রাণীশংকৈলে মতবিনিময় সভায় সারের কৃত্রিম সংকট রোধে কঠোর পদক্ষেপের তাগিদ  তেরঙ্গা ওড়াও কর্মসূচির আগে ফের আটক অভিজিৎ দীপকে দিল্লিতে সমাবেশ শুরুর আগে আটক দুই নেতা বার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও নিজেকে আইনজীবী দাবি ট্রাম্পের প্রেস অপতথ্যের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান বিমানমন্ত্রীর জেরুজালেমে দূতাবাস: কলম্বিয়ার সিদ্ধান্তে কাতারের তীব্র নিন্দা

কিরগিজস্তানে এসসিও শীর্ষ সম্মেলন: মার্কিন প্রভাব মোকাবিলায় একমঞ্চে চীন, রাশিয়া ও ভারত

সৃষ্টি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৩৫:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

কিরগিজস্তানে এসসিও শীর্ষ সম্মেলন: মার্কিন প্রভাব মোকাবিলায় একমঞ্চে চীন, রাশিয়া ও ভারত

 

যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাবের বিপরীতে একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে পরিচিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা এসসিও-এর শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে কিরগিজস্তানে। দেশটির রাজধানী বিশকেকে আয়োজিত এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরা। মার্কিন প্রভাব মোকাবিলায় এই সম্মেলনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অংশ হিসেবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠক করেছেন। রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এই আলোচনায় চীনের সঙ্গে ভিসামুক্ত ব্যবস্থা স্থায়ী করার বিষয়ে মস্কোর আগ্রহের কথা জানিয়েছেন পুতিন।

 

পড়ুন>>নেপালের বন্যা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল: বালেন শাহ

 

এছাড়া মঙ্গলবার সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক অধিবেশন শুরুর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও পুতিনের বৈঠকের কথা রয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও ইরান উভয় দেশই পশ্চিমা বিশ্বের বাইরে নিজেদের মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে আগ্রহী।

২০০১ সালে চীন, রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার চারটি দেশ মিলে একটি নিরাপত্তাবিষয়ক ফোরাম হিসেবে এসসিও প্রতিষ্ঠা করে। গত ২৫ বছরে সংস্থাটির কলেবর ও প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে রাশিয়া, চীন, ভারত, ইরান, পাকিস্তান, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান—এই ১০টি দেশ এসসিও-এর সদস্য।

পড়ুন>>পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে ১,৮৫৫ পদে নিয়োগের ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়ল ২০২৭ সাল পর্যন্ত

এছাড়া আরও বেশ কিছু দেশ সংলাপ অংশীদার হিসেবে এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। যদিও সংস্থাটির লক্ষ্য ও কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে, তবুও চীন ও রাশিয়া এটিকে জি৭-এর মতো পশ্চিমা জোটগুলোর বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছে।

বেইজিং গত কয়েক বছরে এসসিও-এর পরিধি বাড়াতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং সদস্য দেশগুলোর জন্য আর্থিক ও উন্নয়ন সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, সংস্থাটি আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি নতুন ও সফল পথ খুঁজে পেয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, এসসিও কোনো ঐক্যবদ্ধ সামরিক বা রাজনৈতিক জোট নয়। সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব স্বার্থ এবং পারস্পরিক মতপার্থক্য এখানে স্পষ্ট, যা জোটটির কার্যকারিতাকে ভিন্ন মাত্রা দেয়।

 

আরও পড়ুন>>শাহজালাল বিমানবন্দরে সড়ক দুর্ঘটনায় বিমান বাহিনীর ৩ সদস্য নিহত

ভারতের মতো দেশগুলোর জন্য এই ফোরামটি ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কার্নেগি ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষক দিনকর পেরি বলেন, এসসিও ভারতকে এমন একটি অঞ্চলে আলোচনার টেবিলে জায়গা করে দেয়, যা বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। চীন ও পাকিস্তানের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো এই সংস্থার সদস্য হওয়া সত্ত্বেও, ভারত এখানে নিজের স্বার্থ রক্ষা এবং পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নিজেকে একজন নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কিরগিজস্তানে এসসিও শীর্ষ সম্মেলন: মার্কিন প্রভাব মোকাবিলায় একমঞ্চে চীন, রাশিয়া ও ভারত

আপডেট সময় : ১০:৩৫:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

কিরগিজস্তানে এসসিও শীর্ষ সম্মেলন: মার্কিন প্রভাব মোকাবিলায় একমঞ্চে চীন, রাশিয়া ও ভারত

 

যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাবের বিপরীতে একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে পরিচিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা এসসিও-এর শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে কিরগিজস্তানে। দেশটির রাজধানী বিশকেকে আয়োজিত এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরা। মার্কিন প্রভাব মোকাবিলায় এই সম্মেলনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অংশ হিসেবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠক করেছেন। রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এই আলোচনায় চীনের সঙ্গে ভিসামুক্ত ব্যবস্থা স্থায়ী করার বিষয়ে মস্কোর আগ্রহের কথা জানিয়েছেন পুতিন।

 

পড়ুন>>নেপালের বন্যা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল: বালেন শাহ

 

এছাড়া মঙ্গলবার সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক অধিবেশন শুরুর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও পুতিনের বৈঠকের কথা রয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও ইরান উভয় দেশই পশ্চিমা বিশ্বের বাইরে নিজেদের মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে আগ্রহী।

২০০১ সালে চীন, রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার চারটি দেশ মিলে একটি নিরাপত্তাবিষয়ক ফোরাম হিসেবে এসসিও প্রতিষ্ঠা করে। গত ২৫ বছরে সংস্থাটির কলেবর ও প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে রাশিয়া, চীন, ভারত, ইরান, পাকিস্তান, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান—এই ১০টি দেশ এসসিও-এর সদস্য।

পড়ুন>>পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে ১,৮৫৫ পদে নিয়োগের ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়ল ২০২৭ সাল পর্যন্ত

এছাড়া আরও বেশ কিছু দেশ সংলাপ অংশীদার হিসেবে এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। যদিও সংস্থাটির লক্ষ্য ও কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে, তবুও চীন ও রাশিয়া এটিকে জি৭-এর মতো পশ্চিমা জোটগুলোর বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছে।

বেইজিং গত কয়েক বছরে এসসিও-এর পরিধি বাড়াতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং সদস্য দেশগুলোর জন্য আর্থিক ও উন্নয়ন সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, সংস্থাটি আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি নতুন ও সফল পথ খুঁজে পেয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, এসসিও কোনো ঐক্যবদ্ধ সামরিক বা রাজনৈতিক জোট নয়। সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব স্বার্থ এবং পারস্পরিক মতপার্থক্য এখানে স্পষ্ট, যা জোটটির কার্যকারিতাকে ভিন্ন মাত্রা দেয়।

 

আরও পড়ুন>>শাহজালাল বিমানবন্দরে সড়ক দুর্ঘটনায় বিমান বাহিনীর ৩ সদস্য নিহত

ভারতের মতো দেশগুলোর জন্য এই ফোরামটি ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কার্নেগি ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষক দিনকর পেরি বলেন, এসসিও ভারতকে এমন একটি অঞ্চলে আলোচনার টেবিলে জায়গা করে দেয়, যা বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। চীন ও পাকিস্তানের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো এই সংস্থার সদস্য হওয়া সত্ত্বেও, ভারত এখানে নিজের স্বার্থ রক্ষা এবং পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নিজেকে একজন নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে।

Facebook Comments Box