ঢাকা ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

এশিয়ান গেমস থেকে পদকহীন ফেরা

সৃষ্টি ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৫৯:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

এশিয়ান গেমস থেকে পদকহীন ফেরা

 

আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের পর ব্রোঞ্জ নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে ৬৩ রানে হেরেছে লিটন দাসের দল। এর আগে তিনবার এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়ে প্রতিবারই পদক জিতেছিল বাংলাদেশ; এমনকি ২০১০ সালে এসেছিল স্বর্ণপদক। কিন্তু এবার পদকহীন শূন্য হাতেই দেশে ফিরতে হচ্ছে টাইগারদের। এর আগে যে তিনবার বাংলাদেশ দল এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে খেলেছে, প্রতিবারই পদক নিয়ে ফিরেছে—২০১০ সালে প্রথমবার তো জিতেছিল সোনাও।

পড়ুন>>কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৬৩ জন

এই শোচনীয় পরাজয়ের পর প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন জাপানে সাংবাদিকদের কাছে নিজের দায় স্বীকার করে পুরো জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি জানান, তাদের পারফরম্যান্স অত্যন্ত হতাশাজনক এবং তিনি নিজে এর জন্য লজ্জিত। কোচ বলেন, যে প্রত্যাশা নিয়ে তারা গেমসে গিয়েছিলেন, তার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেননি তারা। সালাহউদ্দীনের মতে, এটি একটি চরম ব্যর্থতা। জাতির কাছে যে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলাম, আমরা সেটার কিছুই করতে পারিনি।

পড়ুন>>প্রজন্ম ধরে ভাগ্য নির্ধারণ করছে: প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর

ম্যাচের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, টস হেরে ফিল্ডিং করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতে ভালোই ছিল। প্রথম ১০ ওভারে শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫১ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিল। কিন্তু পরের ১০ ওভারে বাংলাদেশের বোলারদের এলোমেলো বোলিংয়ের সুযোগ নিয়ে শ্রীলঙ্কা ১৬৫ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। কোচ সালাহউদ্দীনের ভাষ্যমতে, টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ বোলাররাই শেষ দিকে অনেক বেশি রান দিয়ে ফেলেছেন, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সালাহউদ্দীনের ব্যাখ্যা, ‘আমি বলব আজকে যে উইকেটটা ছিল, বোলাররা কয়েকটা ওভার খুবই খারাপ বল করেছে। বিশেষত মূল বোলার যারা আছে, যারা টি-টুয়েন্টি স্পেশালিস্ট, তারাই হয়তো বেশি রান দিয়ে দিয়েছে।

১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান এবং অধিনায়ক লিটন দাস কোনো রান না করেই সাজঘরে ফিরে যান। ফলে পাওয়ার প্লের শুরুতেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে দলটি। শেষ পর্যন্ত নাসুম আহমেদের ২৬ রানের ওপর ভর করে এক শ রানের গণ্ডি পার করলেও অলআউট হয় ১০২ রানেই। ৯ নম্বরে নামা নাসুম আহমেদের ২৬ রানে ভর করে তারা এক শ পার করে।

দলের এমন ব্যর্থতার দিনেও ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন লিটন দাস। সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক বলেন, খেলোয়াড়রা দেশের জন্য সবসময় লড়াই করার চেষ্টা করে। এই ম্যাচে তারা ব্যর্থ হয়েছেন, তবে দল হিসেবে কেউই ভালো পারফর্ম করতে পারেনি। এই পরিস্থিতি উত্তরণের পথ খুঁজবেন বলেও জানান তিনি। কোচ হিসেবে মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এশিয়ান গেমস থেকে পদকহীন ফেরা

আপডেট সময় : ০১:৫৯:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

 

এশিয়ান গেমস থেকে পদকহীন ফেরা

 

আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের পর ব্রোঞ্জ নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে ৬৩ রানে হেরেছে লিটন দাসের দল। এর আগে তিনবার এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়ে প্রতিবারই পদক জিতেছিল বাংলাদেশ; এমনকি ২০১০ সালে এসেছিল স্বর্ণপদক। কিন্তু এবার পদকহীন শূন্য হাতেই দেশে ফিরতে হচ্ছে টাইগারদের। এর আগে যে তিনবার বাংলাদেশ দল এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে খেলেছে, প্রতিবারই পদক নিয়ে ফিরেছে—২০১০ সালে প্রথমবার তো জিতেছিল সোনাও।

পড়ুন>>কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৬৩ জন

এই শোচনীয় পরাজয়ের পর প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন জাপানে সাংবাদিকদের কাছে নিজের দায় স্বীকার করে পুরো জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি জানান, তাদের পারফরম্যান্স অত্যন্ত হতাশাজনক এবং তিনি নিজে এর জন্য লজ্জিত। কোচ বলেন, যে প্রত্যাশা নিয়ে তারা গেমসে গিয়েছিলেন, তার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেননি তারা। সালাহউদ্দীনের মতে, এটি একটি চরম ব্যর্থতা। জাতির কাছে যে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলাম, আমরা সেটার কিছুই করতে পারিনি।

পড়ুন>>প্রজন্ম ধরে ভাগ্য নির্ধারণ করছে: প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর

ম্যাচের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, টস হেরে ফিল্ডিং করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতে ভালোই ছিল। প্রথম ১০ ওভারে শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫১ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিল। কিন্তু পরের ১০ ওভারে বাংলাদেশের বোলারদের এলোমেলো বোলিংয়ের সুযোগ নিয়ে শ্রীলঙ্কা ১৬৫ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। কোচ সালাহউদ্দীনের ভাষ্যমতে, টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ বোলাররাই শেষ দিকে অনেক বেশি রান দিয়ে ফেলেছেন, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সালাহউদ্দীনের ব্যাখ্যা, ‘আমি বলব আজকে যে উইকেটটা ছিল, বোলাররা কয়েকটা ওভার খুবই খারাপ বল করেছে। বিশেষত মূল বোলার যারা আছে, যারা টি-টুয়েন্টি স্পেশালিস্ট, তারাই হয়তো বেশি রান দিয়ে দিয়েছে।

১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান এবং অধিনায়ক লিটন দাস কোনো রান না করেই সাজঘরে ফিরে যান। ফলে পাওয়ার প্লের শুরুতেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে দলটি। শেষ পর্যন্ত নাসুম আহমেদের ২৬ রানের ওপর ভর করে এক শ রানের গণ্ডি পার করলেও অলআউট হয় ১০২ রানেই। ৯ নম্বরে নামা নাসুম আহমেদের ২৬ রানে ভর করে তারা এক শ পার করে।

দলের এমন ব্যর্থতার দিনেও ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন লিটন দাস। সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক বলেন, খেলোয়াড়রা দেশের জন্য সবসময় লড়াই করার চেষ্টা করে। এই ম্যাচে তারা ব্যর্থ হয়েছেন, তবে দল হিসেবে কেউই ভালো পারফর্ম করতে পারেনি। এই পরিস্থিতি উত্তরণের পথ খুঁজবেন বলেও জানান তিনি। কোচ হিসেবে মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি।

Facebook Comments Box