ঢাকা ০৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উচ্ছেদ অভিযানে হামলায় আহত বন বিভাগের ৪ কর্মী

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:০৯:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ৯১০৩ বার পড়া হয়েছে

উচ্ছেদ অভিযানে হামলায় আহত বন বিভাগের ৪ কর্মী: গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সের উদ্বেগ

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

উচ্ছেদ অভিযানে হামলায় আহত বন বিভাগের ৪ কর্মী: গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সের উদ্বেগ

 

 

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দুর্গম এলাকা ধ্যুইল্ল্যাছড়িতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে হামলার শিকারে গুরুতর আহত হয়েছেন বন বিভাগের চার কর্মকর্তা-কর্মচারী।

 

 

গত ১০ জানুয়ারি শনিবার দুপুরে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ধুইল্ল্যাছড়ি এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমিতে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

ঘটনায় আহতরা হলেন, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) খান মো. আবরারুর রহমান, নারায়ণহাট রেঞ্জ কর্মকর্তা বাচ্চু মিয়া, ধুরুং বিটের বনকর্মী খন্দকার মাহফুজ আলী এবং একটি এক্সকেভেটর চালক বিপ্লব।

 

 

বন বিভাগ সূত্র গণমাধ্যমকে জানায়, সংরক্ষিত বনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে গেলে স্থানীয় দখলদার গোষ্ঠী মাইকে ঘোষণা দিয়ে গুজব ছড়িয়ে দিয়ে আতংকিত পরিবেশ সৃষ্টি করে। এতে উত্তেজিত দখলদাররা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর চড়াও হয়ে হামলা করে।

পড়ুন>>কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় প্রথম নাগেশ্বরীর শিক্ষার্থী ফেরদৌস

 

এসময় অভিযান কাজে ব্যবহৃত এক্সকেভেটর ও ট্রলি গাড়ি ভেঙে জ্বালিয়ে দেয় তারা। হামলার পর আহত বন কর্মকর্তারা মূল সড়কে উঠে এলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

 

 

এরপরে দখলদারেরা, উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি নয়া মসজিদ এলাকায় খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। তারা অভিযোগ করেন, সেখানে দরিদ্র শিশুদের জন্য একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করার পাশাপাশি একটি বিদ্যালয় নির্মাণ করা হচ্ছিল। কোনো ধরনের নোটিশ বা আলোচনা ছাড়াই বন বিভাগ অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে।

 

 

খবর পেয়ে ফটিকছড়ি ও মানিকছড়ি উপজেলার প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। দুপুর একটার দিকে বিক্ষুব্ধরা সরে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

 

 

চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সংরক্ষিত বনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে বন বিভাগের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, উচ্ছেদে বাধা ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা অগ্রহণযোগ্য। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে।

পড়ুন>>উলিপুরে বিলুপ্তপ্রায় ময়ূর উদ্ধার

 

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের রাউজান থেকে আগত কতিপয় ব্যক্তি উপজেলার সীমান্তবর্তী সংরক্ষিত এলাকায় পাহাড় কেটে মাদরাসা, স্কুল ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের নামে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলছিলেন।

 

 

এদিকে চট্টগ্রামের পরিবেশ, কৃষি ও জলবায়ু বিষয়ক সংগঠন গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্স বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং তারা দ্রুত হামলাকারীদের আটকের দাবি জানিয়েছেন।

 

 

 

বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, পাহাড় কাটার সংবাদ পেয়ে গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সর একটা পরিদর্শক দল ৯ জানুয়ারি শুক্রবার বিকাল চারটায় পরিদর্শনে যান। পরিদর্শক দলের নেতৃত্বে ছিলেন গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব ও প্রতিষ্ঠাতা পরিবেশ সংগঠক স ম জিয়াউর রহমান। তিন সদস্যের পরিদর্শক দলের মধ্যে ছিলেন সদস্য (মিডিয়া ও কমিউনিকেশন) নজীব চৌধুরী ও সদস্য (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি) মোহাম্মদ এমরান। পরিদর্শনকালে দখলদার চক্র হামলা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্হানীয় জনসাধারণের কিছু লোক সহযোগিতা করায় আর হামলা করার সাহস পায়নি।

 

 

পরিদর্শনকালে তারা সরকারের প্রায় ৫০ কোটি টাকার মতো বনের পাহাড় ও বন কেটে সাবাড় করার সচিত্র অনুমান দেখতে পান। নেতৃবৃন্দরা দ্রুত এ চক্রকে দমন করে আইনের আওতায় এনে ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি জানান।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

উচ্ছেদ অভিযানে হামলায় আহত বন বিভাগের ৪ কর্মী

আপডেট সময় : ০৮:০৯:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

 

 

উচ্ছেদ অভিযানে হামলায় আহত বন বিভাগের ৪ কর্মী: গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সের উদ্বেগ

 

 

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দুর্গম এলাকা ধ্যুইল্ল্যাছড়িতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে হামলার শিকারে গুরুতর আহত হয়েছেন বন বিভাগের চার কর্মকর্তা-কর্মচারী।

 

 

গত ১০ জানুয়ারি শনিবার দুপুরে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ধুইল্ল্যাছড়ি এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমিতে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

ঘটনায় আহতরা হলেন, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) খান মো. আবরারুর রহমান, নারায়ণহাট রেঞ্জ কর্মকর্তা বাচ্চু মিয়া, ধুরুং বিটের বনকর্মী খন্দকার মাহফুজ আলী এবং একটি এক্সকেভেটর চালক বিপ্লব।

 

 

বন বিভাগ সূত্র গণমাধ্যমকে জানায়, সংরক্ষিত বনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে গেলে স্থানীয় দখলদার গোষ্ঠী মাইকে ঘোষণা দিয়ে গুজব ছড়িয়ে দিয়ে আতংকিত পরিবেশ সৃষ্টি করে। এতে উত্তেজিত দখলদাররা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর চড়াও হয়ে হামলা করে।

পড়ুন>>কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় প্রথম নাগেশ্বরীর শিক্ষার্থী ফেরদৌস

 

এসময় অভিযান কাজে ব্যবহৃত এক্সকেভেটর ও ট্রলি গাড়ি ভেঙে জ্বালিয়ে দেয় তারা। হামলার পর আহত বন কর্মকর্তারা মূল সড়কে উঠে এলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

 

 

এরপরে দখলদারেরা, উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি নয়া মসজিদ এলাকায় খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। তারা অভিযোগ করেন, সেখানে দরিদ্র শিশুদের জন্য একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করার পাশাপাশি একটি বিদ্যালয় নির্মাণ করা হচ্ছিল। কোনো ধরনের নোটিশ বা আলোচনা ছাড়াই বন বিভাগ অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে।

 

 

খবর পেয়ে ফটিকছড়ি ও মানিকছড়ি উপজেলার প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। দুপুর একটার দিকে বিক্ষুব্ধরা সরে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

 

 

চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সংরক্ষিত বনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে বন বিভাগের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, উচ্ছেদে বাধা ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা অগ্রহণযোগ্য। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে।

পড়ুন>>উলিপুরে বিলুপ্তপ্রায় ময়ূর উদ্ধার

 

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের রাউজান থেকে আগত কতিপয় ব্যক্তি উপজেলার সীমান্তবর্তী সংরক্ষিত এলাকায় পাহাড় কেটে মাদরাসা, স্কুল ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের নামে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলছিলেন।

 

 

এদিকে চট্টগ্রামের পরিবেশ, কৃষি ও জলবায়ু বিষয়ক সংগঠন গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্স বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং তারা দ্রুত হামলাকারীদের আটকের দাবি জানিয়েছেন।

 

 

 

বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, পাহাড় কাটার সংবাদ পেয়ে গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সর একটা পরিদর্শক দল ৯ জানুয়ারি শুক্রবার বিকাল চারটায় পরিদর্শনে যান। পরিদর্শক দলের নেতৃত্বে ছিলেন গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব ও প্রতিষ্ঠাতা পরিবেশ সংগঠক স ম জিয়াউর রহমান। তিন সদস্যের পরিদর্শক দলের মধ্যে ছিলেন সদস্য (মিডিয়া ও কমিউনিকেশন) নজীব চৌধুরী ও সদস্য (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি) মোহাম্মদ এমরান। পরিদর্শনকালে দখলদার চক্র হামলা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্হানীয় জনসাধারণের কিছু লোক সহযোগিতা করায় আর হামলা করার সাহস পায়নি।

 

 

পরিদর্শনকালে তারা সরকারের প্রায় ৫০ কোটি টাকার মতো বনের পাহাড় ও বন কেটে সাবাড় করার সচিত্র অনুমান দেখতে পান। নেতৃবৃন্দরা দ্রুত এ চক্রকে দমন করে আইনের আওতায় এনে ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি জানান।

 

 

 

Facebook Comments Box