ঢাকা ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীতে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ ​নাগেশ্বরীতে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস ডোমারে উদযাপন কাউনিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন   কাউনিয়ায় যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আনন্দ র‍্যালি তারেক রহমান ও বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালাচ্ছে ফ্যাসিস্ট ও গুপ্ত বাহিনী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার নির্ধারণী কর্মশালা ও উপাচার্যের দিকনির্দেশনা চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের নিয়োগ, আবেদন শুরু নভেম্বরে ঢালচরের পর্যটন বিকাশে মতবিনিময় করল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন

আগুন আতঙ্কে নাগেশ্বরীর বাগডাংগা; রাত জেগে পাহারায় গ্রামবাসী

সাইয়‍্যেদ বাবু, ব‍্যুরো প্রধান
  • আপডেট সময় : ০১:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ২৪১ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামে আগুন আতঙ্কে নাগেশ্বরীর বাগডাংগা; রাত জেগে পাহারায় গ্রামবাসী

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আগুন আতঙ্কে নাগেশ্বরীর বাগডাংগা; রাত জেগে পাহারায় গ্রামবাসী

কুড়িগ্রামে একই গ্রামে একাধিক অগ্নিকান্ডের ঘটনায় আতংকে গ্রামের মানুষ। ভুক্তভোগী পরিবার গুলোর দাবী গভীর রাতে একটি মটর সাইকেলের শব্দ শোনার পরেই ঘটছে আগুন লাগার ঘটনা।

জানা গেছে, কুড়িগ্রাম নাগেশ্বরী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বাগডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা গহুরন বেগম। তার গো খাদ্য রাখা খড়ের গাদায় গত ১০ ফেব্রুয়ারী রাত ৩টার দিকে আকষ্মিকভাবে আগুন লেগে পুড়ে যায়। তার মতো আব্দুর রহিমের বাড়ির রান্না ঘরে এক সপ্তাহে তিনবার আগুন লাগার ঘটনা ঘঠেছে গভীর রাতে। গত দেড় মাসে শুধু ওই গ্রামে ১০/১২টির অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

গ্রামটিতে গভীর রাতে বাসিন্দাদের গো-খাদ্য রাখা খড়ের গাদা কিংবা রান্না ঘরে হঠাৎ করে আগুন জ্বলে উঠছে। বেশীর ভাগ আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে বাড়ির আঙ্গিনায় থাকা খড়ের গাদায়। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রতিবেশী এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নেভাতে সক্ষম হলেও আগুন লাগার উৎস থেকে যাচ্ছে অন্তরালে। রহস্য ঘেরা এসব আগুনের ঘটনা ঠেকাতে রাত জেগে গ্রামের মানুষ পাহাড়া দিলেও প্রতিকার মিলছে না। ফলে আগুন আতংকে দিন কাটছে গ্রামের মানুষের।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ প্রতিটি আগুন লাগার ঘটনার আগে একটি মটর সাইকেলের শব্দ পাওয়া যায়। এই মটরসাইকেল চলে যাওয়ার পর পরই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ ১২ ফেব্রুয়ারী ভোর রাতে আব্দুর রহিম মিয়ার রান্না ঘরের চালে। ১০ ফেব্রুয়ারী আব্দুল খালেকের খড়ের গাদায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া একই গ্রামের ইউসুফ আলী,ফজলুল হক,নজরুল ইসলাম,সৈয়দ আলী,মজিদ মিয়াসহ দেড় মাসে প্রায় ১০/১২টি খড়ের গাদায় আগুন লাগে। ফলে আগুন আতংকে রাত-দিন পাড় করতে হচ্ছে গ্রামের প্রতিটি বাড়ির মানুষকে। কে বা কারা আগুন দিচ্ছে রাত জেগে পাহাড়া দিয়েও তাদের ধরতে পারছেন গ্রামবাসী। রহস্য উৎঘাটন হচ্ছে না মটরসাইকেল যাওয়া শব্দের। গ্রামবাসীর অনেকে ধরেই নিয়েছে এগুলো জ্বীন-ভুতের কাজ। গ্রামের সচেতন মানুষের দাবী গ্রামের শান্তি ও সৌহার্দ্য সম্পর্ক নষ্ট করতে এমন আতংক ছড়ানো হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত করে এদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।

আব্দুর রহিম বলেন,প্রায় দেড় মাসে আমাদের এখানে ১০/১২টি বাড়ি আঙ্গিনায় খড়ের গাদায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এই বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হলেও কোন লাভ হয়নি। আমরা এখন গ্রামের প্রতিটি বাড়ির লোকজন রাত জেগে পাহাড়া দিয়েও কাউকে ধরতে পারছি না।এক সপ্তাহে তিনবার আমাদের বাড়ির রান্না ঘরে রাত ২/৩টার দিকে কেবা কারা আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের সাথে কারও কোন বিবাদ নেই। আগুন লাগিয়ে দেবার কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।

গহুরন বেগম বলেন,বাড়ির আঙ্গিনাতে গরুর খাবার রাখা খড়ের গাদায় ৩/৪টার দিকে কে যে এসে আগুন দিলেও কিছু বুঝতে পারছি না। হঠাৎ আগুনে পোড়ার শব্দে বাড়ির লোকজন,গ্রামবাসী এবং ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিভেয়েছে। এখন আমরা পরিবার নিয়ে প্রতি রাত দুশ্চিন্তা আর ভয়ে কাটাচ্ছি।

নজরুল ইসলাম বলেন,গ্রামের কোন পরিবারের সাথে কারও কোন বিবাদ নেই। গভীর রাতে একটি মোটর সাইকেলের শব্দ পাওয়া যায়। এরপর কিছুক্ষণ পরেই আগুন লাগার ঘটনা ঘটতেছে। গ্রামের প্রতিটি মানুষ এখন আতংকে দিন কাটাচ্ছেন।

মজিদ মিয়া বলেন,গ্রামের শান্তি ও সৌহার্দ্য সম্পর্ক নষ্ট করতে কেবা কারা আতংক ছড়ানো উদ্দ্যেশ্যে এমন ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে নিয়মিত। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবী সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধিকে ধরে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক।

নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের অফিসার ইমন মিয়া বলেন, বেশীরভাগ আগুন লাগার ঘটনায় আগুনের উৎস পাওয়া গেলেও গভীর রাতে খড়ের গাদায় আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। জানুয়ারি হতে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত উপজেলায় ৩৫টি অগ্নিসংযোগের ঘটনার মধ্যে ২৪টি বাড়ির আঙ্গিনায় থাকা খড়ের গাদায় লেগেছে।

নাগেশ্বরী থানার ওসি তদন্ত মোঃ সারোয়ার জাহান বলেন, বাঘডাঙা গ্রামে আগুন লাগার ঘটনায় মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। তবে কেউ এখন পর্যন্ত লেখিত অভিযোগ দেয় নাই। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আগুন আতঙ্কে নাগেশ্বরীর বাগডাংগা; রাত জেগে পাহারায় গ্রামবাসী

আপডেট সময় : ০১:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

আগুন আতঙ্কে নাগেশ্বরীর বাগডাংগা; রাত জেগে পাহারায় গ্রামবাসী

কুড়িগ্রামে একই গ্রামে একাধিক অগ্নিকান্ডের ঘটনায় আতংকে গ্রামের মানুষ। ভুক্তভোগী পরিবার গুলোর দাবী গভীর রাতে একটি মটর সাইকেলের শব্দ শোনার পরেই ঘটছে আগুন লাগার ঘটনা।

জানা গেছে, কুড়িগ্রাম নাগেশ্বরী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বাগডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা গহুরন বেগম। তার গো খাদ্য রাখা খড়ের গাদায় গত ১০ ফেব্রুয়ারী রাত ৩টার দিকে আকষ্মিকভাবে আগুন লেগে পুড়ে যায়। তার মতো আব্দুর রহিমের বাড়ির রান্না ঘরে এক সপ্তাহে তিনবার আগুন লাগার ঘটনা ঘঠেছে গভীর রাতে। গত দেড় মাসে শুধু ওই গ্রামে ১০/১২টির অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

গ্রামটিতে গভীর রাতে বাসিন্দাদের গো-খাদ্য রাখা খড়ের গাদা কিংবা রান্না ঘরে হঠাৎ করে আগুন জ্বলে উঠছে। বেশীর ভাগ আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে বাড়ির আঙ্গিনায় থাকা খড়ের গাদায়। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রতিবেশী এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নেভাতে সক্ষম হলেও আগুন লাগার উৎস থেকে যাচ্ছে অন্তরালে। রহস্য ঘেরা এসব আগুনের ঘটনা ঠেকাতে রাত জেগে গ্রামের মানুষ পাহাড়া দিলেও প্রতিকার মিলছে না। ফলে আগুন আতংকে দিন কাটছে গ্রামের মানুষের।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ প্রতিটি আগুন লাগার ঘটনার আগে একটি মটর সাইকেলের শব্দ পাওয়া যায়। এই মটরসাইকেল চলে যাওয়ার পর পরই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ ১২ ফেব্রুয়ারী ভোর রাতে আব্দুর রহিম মিয়ার রান্না ঘরের চালে। ১০ ফেব্রুয়ারী আব্দুল খালেকের খড়ের গাদায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া একই গ্রামের ইউসুফ আলী,ফজলুল হক,নজরুল ইসলাম,সৈয়দ আলী,মজিদ মিয়াসহ দেড় মাসে প্রায় ১০/১২টি খড়ের গাদায় আগুন লাগে। ফলে আগুন আতংকে রাত-দিন পাড় করতে হচ্ছে গ্রামের প্রতিটি বাড়ির মানুষকে। কে বা কারা আগুন দিচ্ছে রাত জেগে পাহাড়া দিয়েও তাদের ধরতে পারছেন গ্রামবাসী। রহস্য উৎঘাটন হচ্ছে না মটরসাইকেল যাওয়া শব্দের। গ্রামবাসীর অনেকে ধরেই নিয়েছে এগুলো জ্বীন-ভুতের কাজ। গ্রামের সচেতন মানুষের দাবী গ্রামের শান্তি ও সৌহার্দ্য সম্পর্ক নষ্ট করতে এমন আতংক ছড়ানো হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত করে এদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।

আব্দুর রহিম বলেন,প্রায় দেড় মাসে আমাদের এখানে ১০/১২টি বাড়ি আঙ্গিনায় খড়ের গাদায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এই বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হলেও কোন লাভ হয়নি। আমরা এখন গ্রামের প্রতিটি বাড়ির লোকজন রাত জেগে পাহাড়া দিয়েও কাউকে ধরতে পারছি না।এক সপ্তাহে তিনবার আমাদের বাড়ির রান্না ঘরে রাত ২/৩টার দিকে কেবা কারা আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের সাথে কারও কোন বিবাদ নেই। আগুন লাগিয়ে দেবার কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।

গহুরন বেগম বলেন,বাড়ির আঙ্গিনাতে গরুর খাবার রাখা খড়ের গাদায় ৩/৪টার দিকে কে যে এসে আগুন দিলেও কিছু বুঝতে পারছি না। হঠাৎ আগুনে পোড়ার শব্দে বাড়ির লোকজন,গ্রামবাসী এবং ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিভেয়েছে। এখন আমরা পরিবার নিয়ে প্রতি রাত দুশ্চিন্তা আর ভয়ে কাটাচ্ছি।

নজরুল ইসলাম বলেন,গ্রামের কোন পরিবারের সাথে কারও কোন বিবাদ নেই। গভীর রাতে একটি মোটর সাইকেলের শব্দ পাওয়া যায়। এরপর কিছুক্ষণ পরেই আগুন লাগার ঘটনা ঘটতেছে। গ্রামের প্রতিটি মানুষ এখন আতংকে দিন কাটাচ্ছেন।

মজিদ মিয়া বলেন,গ্রামের শান্তি ও সৌহার্দ্য সম্পর্ক নষ্ট করতে কেবা কারা আতংক ছড়ানো উদ্দ্যেশ্যে এমন ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে নিয়মিত। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবী সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধিকে ধরে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক।

নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের অফিসার ইমন মিয়া বলেন, বেশীরভাগ আগুন লাগার ঘটনায় আগুনের উৎস পাওয়া গেলেও গভীর রাতে খড়ের গাদায় আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। জানুয়ারি হতে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত উপজেলায় ৩৫টি অগ্নিসংযোগের ঘটনার মধ্যে ২৪টি বাড়ির আঙ্গিনায় থাকা খড়ের গাদায় লেগেছে।

নাগেশ্বরী থানার ওসি তদন্ত মোঃ সারোয়ার জাহান বলেন, বাঘডাঙা গ্রামে আগুন লাগার ঘটনায় মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। তবে কেউ এখন পর্যন্ত লেখিত অভিযোগ দেয় নাই। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

Facebook Comments Box