আকাশসীমা জটিলতায় আটকে রূপপুরের জ্বালানি, নতুন রুটের অপেক্ষায়
- আপডেট সময় : ০৯:১৬:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬১ বার পড়া হয়েছে
আকাশসীমা জটিলতায় আটকে রূপপুরের জ্বালানি, নতুন রুটের অপেক্ষায়
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়াম জ্বালানির চালান নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর চালানটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও আকাশসীমা বা এয়ারস্পেস ক্লিয়ারেন্সজনিত সমস্যার কারণে নির্ধারিত কার্গো উড়োজাহাজটি নির্দিষ্ট সময়ে রওনা হতে পারেনি। বর্তমানে রাশিয়া এই চালানটি অন্য কোনো রুট দিয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে এসব চালান দেশে পৌঁছায়। এখন ভিন্ন রুটে আগামী মাসে জ্বালানির চালান পাঠানোর চেষ্টা করছে রাশিয়া।
প্রকল্পের দায়িত্বশীল সূত্র ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পারমাণবিক জ্বালানির মতো সংবেদনশীল পণ্য পরিবহনে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজ ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে যেসব দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করা হবে, তাদের আগাম অনুমতির প্রয়োজন পড়ে। শেষ সময়ে কোনো দেশের কাছ থেকে অনুমতি না পাওয়ায় উড়োজাহাজটি বাংলাদেশে আসতে ব্যর্থ হয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রোসাটম এ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, চালান পাঠাতে বিলম্ব হচ্ছে।
পড়ুন>>>সোনারায়ে ডি বি স্পোর্টিং ফুটবল টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ আসর: জমকালো আয়োজনে উত্তর খেলা অনুষ্ঠিত
দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি আমদানির সময়সূচি কয়েক দফা পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গত জুনে এটি আসার কথা থাকলেও পরবর্তীতে তা দুই দফা পিছিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছিল। এমনকি রাশিয়ায় উড়োজাহাজে জ্বালানি লোড করার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছিল এবং বাংলাদেশেও তা গ্রহণের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি ছিল। কোন দেশের আকাশসীমা নিয়ে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বিলম্বের ফলে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ বা কমিশনিং কাজে তাৎক্ষণিক কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, কারণ দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি লোডিং পর্যায়ে যেতে এখনো কিছুটা সময় বাকি রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি আনার সময়ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিধি মেনে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় তা ঢাকায় আনা হয়েছিল এবং পরে বিশেষ পাহারায় রূপপুর প্রকল্প এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছিল। পরে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় বিশেষ যানবাহনে সড়কপথে তা পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন>>
উল্লেখ্য, রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য এর আগে সাতটি চালানে ইউরেনিয়াম দেশে পৌঁছেছে। এবার দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি চালানে মোট ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এগুলো পর্যায়ক্রমে দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম ইউনিটের জ্বালানি ইতিমধ্যে রিঅ্যাক্টরে লোড করা হলেও, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে কিছু জ্বালানি পরিবর্তন করতে হয়, যা এবারের চালানের মাধ্যমেই আসবে।
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত রূপপুর বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এখানে ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির দুটি ইউনিট রয়েছে, যার প্রতিটি ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন। দুটি ইউনিট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























