ঢাকা ১০:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীতে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ ​নাগেশ্বরীতে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস ডোমারে উদযাপন কাউনিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন   কাউনিয়ায় যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আনন্দ র‍্যালি তারেক রহমান ও বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালাচ্ছে ফ্যাসিস্ট ও গুপ্ত বাহিনী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার নির্ধারণী কর্মশালা ও উপাচার্যের দিকনির্দেশনা চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের নিয়োগ, আবেদন শুরু নভেম্বরে ঢালচরের পর্যটন বিকাশে মতবিনিময় করল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন

আইজিপি’র ‘ক্রসফায়ার’ সম্পর্কিত বক্তব্যের অপব্যাখ্যা অপরাধীদের উৎসাহিত করবে

সৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৬:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

আইজিপি’র ‘ক্রসফায়ার’ সম্পর্কিত বক্তব্যের অপব্যাখ্যা অপরাধীদের উৎসাহিত করবে

 

 

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্য নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল, সংবাদ মাধ্যম ও টিআইবি বক্তব্য প্রদান করেছেন যা অনেকেই অপব্যাখ্যা হিসাবে মনে করছেন। এ নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্য কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন করে না বলে অবস্থান স্পষ্ট করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। আইন প্রয়োগে চরম কঠোরতা প্রদর্শন এবং অর্পিত দায়িত্ব পালনে আত্মরক্ষার বিষয়টি বোঝাতে আক্ষরিক অর্থে শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ব্যাখ্যা দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। এতে উল্লেখ করা হয়, রাজধানীতে কমিউনিটি ব্যাংকের চকবাজার ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপির দেওয়া বক্তব্য ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বিভ্রান্তি নিরসনে এই বক্তব্য দেওয়া হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও জননিরাপত্তা বিনষ্টকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করতে আইজিপি পুলিশের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেছিলেন। কোনো অবস্থাতেই বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে শাস্তি দেওয়া তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল না। রাষ্ট্রের প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা বিধানে পুলিশকে প্রায়ই মারাত্মক আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়।

সরকারি দায়িত্ব পালন ও অপরাধী গ্রেপ্তার করতে গিয়ে চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে সারা দেশে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় চারজন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩৭০ জন। দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১ অনুযায়ী দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের আত্মরক্ষার পূর্ণ আইনি অধিকার রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে আইজিপির করা মন্তব্যের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে ঢালাও মন্তব্য করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না, বিষয়টি অসাবধানতাবশত ঘটেছে। বাংলাদেশ পুলিশ মানবাধিকার সমুন্নত রেখে পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ।

অপরদিকে কিছু সংবাদ মাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আইজিপির বক্তব্য ঘিরে যে প্রচারণা চালানো হয়েছে তার মধ্যে অনেকেই রাজনৈতিক উদ্যেশ্য আছে বলে মনে করেন। তরুণ ব্যবসায়ী সেগুন বাগিচার সুজন মিয়া বলেন, আইজিপি সাহেব সঠিক বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকারের অনুমোদনে পুলিশ ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবেন না। কিন্তু তিনিতো বলেননি, পুলিশ ক্রসফায়ার করবে। এ নিয়ে এত কথা কেন ?

একটি জাতীয় গণমাধ্যমের একজন জেলা প্রতিনিধি সাইয়েদ আহমেদ এ সম্পর্কে বলেন, আইজিপির বক্তব্যকে অপব্যাখ্যা হিসাবে দাড় করালে সমাজের দুস্কৃতিকারী,মাদক ব্যবসায়ী সহ সকল অপরাধীরা উৎসাহিত হবে। ভয়মুক্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা সমাজের শান্তি বিনষ্ট করবে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কাঁচা সবজি বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, পুলিশ রাত জেগে মশার কামড় খেয়ে জীবনবাজী রেখে আসামিকে গ্রেফতার করে আর আদালত জামিন দিয়ে ছেড়ে দেয়। সরকারের মৌখিক নির্দেশে যদি আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের জামিন দেওয়া না হয় তাহলে সকল সন্ত্রাসী, প্রকাশ্য খুনি, মাদক ব্যবসায়ী চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারীদের জামিনও বন্ধ করা উচিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রবীণ শিক্ষক বলেছেন, আইজিপি মহোদয়ের বক্তব্য বিভিন্ন কারণে অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে । মানুষকে শান্তিতে ঘুমানোর ব্যবস্থা করতে চাইলে পুলিশ সহ সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। মানবতার দোহাই দিয়ে কোন রাজনৈতিক দল অথবা কোন সংস্থার জল ঘোলা করা বক্তব্যে দেশের মানুষের কিছু যায় আসেনা। মানুষ চায় নিরাপদ জীবন।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আইজিপি’র ‘ক্রসফায়ার’ সম্পর্কিত বক্তব্যের অপব্যাখ্যা অপরাধীদের উৎসাহিত করবে

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

 

 

 

আইজিপি’র ‘ক্রসফায়ার’ সম্পর্কিত বক্তব্যের অপব্যাখ্যা অপরাধীদের উৎসাহিত করবে

 

 

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্য নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল, সংবাদ মাধ্যম ও টিআইবি বক্তব্য প্রদান করেছেন যা অনেকেই অপব্যাখ্যা হিসাবে মনে করছেন। এ নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্য কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন করে না বলে অবস্থান স্পষ্ট করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। আইন প্রয়োগে চরম কঠোরতা প্রদর্শন এবং অর্পিত দায়িত্ব পালনে আত্মরক্ষার বিষয়টি বোঝাতে আক্ষরিক অর্থে শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ব্যাখ্যা দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। এতে উল্লেখ করা হয়, রাজধানীতে কমিউনিটি ব্যাংকের চকবাজার ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপির দেওয়া বক্তব্য ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বিভ্রান্তি নিরসনে এই বক্তব্য দেওয়া হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও জননিরাপত্তা বিনষ্টকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করতে আইজিপি পুলিশের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেছিলেন। কোনো অবস্থাতেই বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে শাস্তি দেওয়া তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল না। রাষ্ট্রের প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা বিধানে পুলিশকে প্রায়ই মারাত্মক আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়।

সরকারি দায়িত্ব পালন ও অপরাধী গ্রেপ্তার করতে গিয়ে চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে সারা দেশে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় চারজন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩৭০ জন। দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১ অনুযায়ী দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের আত্মরক্ষার পূর্ণ আইনি অধিকার রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে আইজিপির করা মন্তব্যের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে ঢালাও মন্তব্য করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না, বিষয়টি অসাবধানতাবশত ঘটেছে। বাংলাদেশ পুলিশ মানবাধিকার সমুন্নত রেখে পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ।

অপরদিকে কিছু সংবাদ মাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আইজিপির বক্তব্য ঘিরে যে প্রচারণা চালানো হয়েছে তার মধ্যে অনেকেই রাজনৈতিক উদ্যেশ্য আছে বলে মনে করেন। তরুণ ব্যবসায়ী সেগুন বাগিচার সুজন মিয়া বলেন, আইজিপি সাহেব সঠিক বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকারের অনুমোদনে পুলিশ ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবেন না। কিন্তু তিনিতো বলেননি, পুলিশ ক্রসফায়ার করবে। এ নিয়ে এত কথা কেন ?

একটি জাতীয় গণমাধ্যমের একজন জেলা প্রতিনিধি সাইয়েদ আহমেদ এ সম্পর্কে বলেন, আইজিপির বক্তব্যকে অপব্যাখ্যা হিসাবে দাড় করালে সমাজের দুস্কৃতিকারী,মাদক ব্যবসায়ী সহ সকল অপরাধীরা উৎসাহিত হবে। ভয়মুক্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা সমাজের শান্তি বিনষ্ট করবে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কাঁচা সবজি বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, পুলিশ রাত জেগে মশার কামড় খেয়ে জীবনবাজী রেখে আসামিকে গ্রেফতার করে আর আদালত জামিন দিয়ে ছেড়ে দেয়। সরকারের মৌখিক নির্দেশে যদি আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের জামিন দেওয়া না হয় তাহলে সকল সন্ত্রাসী, প্রকাশ্য খুনি, মাদক ব্যবসায়ী চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারীদের জামিনও বন্ধ করা উচিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রবীণ শিক্ষক বলেছেন, আইজিপি মহোদয়ের বক্তব্য বিভিন্ন কারণে অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে । মানুষকে শান্তিতে ঘুমানোর ব্যবস্থা করতে চাইলে পুলিশ সহ সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। মানবতার দোহাই দিয়ে কোন রাজনৈতিক দল অথবা কোন সংস্থার জল ঘোলা করা বক্তব্যে দেশের মানুষের কিছু যায় আসেনা। মানুষ চায় নিরাপদ জীবন।

 

Facebook Comments Box