ঢাকা ০৩:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনে প্রস্তুত কাতার, ৯৫ শতাংশ অবকাঠামোই তৈরি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফিফা বিশ্বকাপের সফল আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে কাতার। সেই অর্জিত অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘমেয়াদি উত্তরাধিকারকে পুঁজি করে এবার ২০৩৬ সালের অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক গেমস আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি। বিশ্বমানের ক্রীড়া অবকাঠামো এবং দক্ষ সাংগঠনিক কাঠামোর সমন্বয়ে অলিম্পিকের দরপ্রস্তাব বা বিড জমা দিয়েছে কাতার, যা বৈশ্বিক ক্রীড়াযজ্ঞে দেশটির অবস্থানের নতুন এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম এই ক্রীড়াযজ্ঞ দোহায় নিয়ে আসার মাধ্যমে দেশটি তাদের ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করতে যাচ্ছে। কাতারের এই উদ্যোগ কেবল একটি একক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের চেয়ে অনেক বড়, যার মূল লক্ষ্য হলো একটি ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়া।

কাতার অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট এবং বিড কমিটির চেয়ারম্যান মহামান্য শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল-থানির নেতৃত্বে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (IOC) সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু হয়। আইওসি-র আগ্রহী দেশগুলোর তালিকায় কাতারের অন্তর্ভুক্তি এই বিডকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০৩০ সালের এশিয়ান গেমস আয়োজন কাতারের অলিম্পিক প্রস্তুতির একটি বড় পরীক্ষা। এই টুর্নামেন্টটি দেশটির সাংগঠনিক দক্ষতা যাচাইয়ের পাশাপাশি এশিয়ার অলিম্পিক কাউন্সিল ও বৃহত্তর ক্রীড়া সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে কাজ করবে। কাতারের অলিম্পিক যাত্রায় পরবর্তী বড় মাইলফলক হতে চলেছে ২০৩০ সালের এশিয়ান গেমসের পতাকা গ্রহণ।

দেশটির এই অলিম্পিক বিডের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হলো বিদ্যমান উন্নত অবকাঠামো। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অলিম্পিক গেমস আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর প্রায় ৯৫ শতাংশই বর্তমানে প্রস্তুত রয়েছে। দোহায় আগে থেকেই আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক স্টেডিয়াম, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, জলক্রীড়া কমপ্লেক্সসহ অ্যাথলেটিক্স ও দলগত খেলার প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান। নতুন করে কোনো শহর বা অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিবর্তে বর্তমান সুযোগ-সুবিধার যথাযথ ব্যবহার ও রূপান্তরের ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

খেলোয়াড় ও দর্শকদের যাতায়াত সুবিধার জন্য আধুনিক পরিবহন নেটওয়ার্ক, লজিস্টিক সাপোর্ট এবং উন্নত আবাসন ব্যবস্থাও কাতারের এই প্রস্তাবনার বড় দিক। এর পাশাপাশি আরব লীগ কাউন্সিলের মন্ত্রিপর্যায়ের রাজনৈতিক সমর্থন কাতারের এই উদ্যোগকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিয়েছে। বিশ্বকাপের বর্ণাঢ্য উত্তরাধিকারকে সাথে নিয়ে অলিম্পিক আয়োজনের মাধ্যমে কাতার বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সক্ষমতার আরেকটি নতুন ইতিহাস রচনার পথে রয়েছে। এই আঞ্চলিক সমর্থন কাতারের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতিকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনে প্রস্তুত কাতার, ৯৫ শতাংশ অবকাঠামোই তৈরি

আপডেট সময় : ০১:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপের সফল আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে কাতার। সেই অর্জিত অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘমেয়াদি উত্তরাধিকারকে পুঁজি করে এবার ২০৩৬ সালের অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক গেমস আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি। বিশ্বমানের ক্রীড়া অবকাঠামো এবং দক্ষ সাংগঠনিক কাঠামোর সমন্বয়ে অলিম্পিকের দরপ্রস্তাব বা বিড জমা দিয়েছে কাতার, যা বৈশ্বিক ক্রীড়াযজ্ঞে দেশটির অবস্থানের নতুন এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম এই ক্রীড়াযজ্ঞ দোহায় নিয়ে আসার মাধ্যমে দেশটি তাদের ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করতে যাচ্ছে। কাতারের এই উদ্যোগ কেবল একটি একক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের চেয়ে অনেক বড়, যার মূল লক্ষ্য হলো একটি ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়া।

কাতার অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট এবং বিড কমিটির চেয়ারম্যান মহামান্য শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল-থানির নেতৃত্বে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (IOC) সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু হয়। আইওসি-র আগ্রহী দেশগুলোর তালিকায় কাতারের অন্তর্ভুক্তি এই বিডকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০৩০ সালের এশিয়ান গেমস আয়োজন কাতারের অলিম্পিক প্রস্তুতির একটি বড় পরীক্ষা। এই টুর্নামেন্টটি দেশটির সাংগঠনিক দক্ষতা যাচাইয়ের পাশাপাশি এশিয়ার অলিম্পিক কাউন্সিল ও বৃহত্তর ক্রীড়া সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে কাজ করবে। কাতারের অলিম্পিক যাত্রায় পরবর্তী বড় মাইলফলক হতে চলেছে ২০৩০ সালের এশিয়ান গেমসের পতাকা গ্রহণ।

দেশটির এই অলিম্পিক বিডের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হলো বিদ্যমান উন্নত অবকাঠামো। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অলিম্পিক গেমস আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর প্রায় ৯৫ শতাংশই বর্তমানে প্রস্তুত রয়েছে। দোহায় আগে থেকেই আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক স্টেডিয়াম, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, জলক্রীড়া কমপ্লেক্সসহ অ্যাথলেটিক্স ও দলগত খেলার প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান। নতুন করে কোনো শহর বা অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিবর্তে বর্তমান সুযোগ-সুবিধার যথাযথ ব্যবহার ও রূপান্তরের ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

খেলোয়াড় ও দর্শকদের যাতায়াত সুবিধার জন্য আধুনিক পরিবহন নেটওয়ার্ক, লজিস্টিক সাপোর্ট এবং উন্নত আবাসন ব্যবস্থাও কাতারের এই প্রস্তাবনার বড় দিক। এর পাশাপাশি আরব লীগ কাউন্সিলের মন্ত্রিপর্যায়ের রাজনৈতিক সমর্থন কাতারের এই উদ্যোগকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিয়েছে। বিশ্বকাপের বর্ণাঢ্য উত্তরাধিকারকে সাথে নিয়ে অলিম্পিক আয়োজনের মাধ্যমে কাতার বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সক্ষমতার আরেকটি নতুন ইতিহাস রচনার পথে রয়েছে। এই আঞ্চলিক সমর্থন কাতারের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতিকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

Facebook Comments Box