ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে ৯৪ বছর বয়সী ব্রিটিশ আইনজীবী গ্রেপ্তার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্রিটেনের লিভারপুলে লেবার পার্টির সম্মেলনের বাইরে ফিলিস্তিনের পক্ষে এবং প্যালেস্টাইন অ্যাকশন নামক সংগঠনের সমর্থনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ৯৪ বছর বয়সী প্রবীণ মানবাধিকার আইনজীবী মার্গারেট ওয়েনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বিক্ষোভে একটি প্ল্যাকার্ড বহন করছিলেন। ২০১৩ সালে বিধবাদের অধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ওবিই সম্মাননা পেয়েছিলেন। মার্গারেট ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের প্রয়াত মা ম্যারিয়ন কোজাকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। কোজাক একজন ইহুদি ও হলোকাস্ট থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি হওয়ার পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন বলে জানিয়েছেন মার্গারেট।

প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসবাদ আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করার পর থেকেই সংগঠনটির সমর্থনে তিনি কয়েক মাস ধরে সরব ছিলেন। তিনি লন্ডনে আয়োজিত প্রায় ১২টি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ‘আমি গণহত্যার বিরোধিতা করি, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি’ লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অংশ নিয়েছেন। এমনকি তিনি নিজের বাড়ির জানালায় একই বার্তা সংবলিত পোস্টার লাগিয়েছিলেন এবং পুলিশকে তার ছবি পাঠিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। অবশেষে লিভারপুলে তাকে আটক করা হয়। এরপর সংগঠনটির সমর্থনে প্রকাশ্যে বক্তব্য বা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করাও আইনি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

মার্সিসাইড পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থনে লেখা বা সামগ্রী বহনের সন্দেহে লিভারপুলের ওই বিক্ষোভে ৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যাদের পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৭৯ জনের বিরুদ্ধে সমনের জন্য রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালে গঠিত প্যালেস্টাইন অ্যাকশন ইসরায়েলি অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযানে সক্রিয় ছিল। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ব্রিটিশ সরকার এটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পর থেকে এর সমর্থনে প্রকাশ্যে যেকোনো কার্যক্রম আইনি জটিলতার সৃষ্টি করেছে। সংগঠনটি ইসরাইলি অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান চালিয়েছে।

এই গ্রেপ্তারের বিষয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন যে, তিনি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকারকে সম্মান করেন। তবে বয়স্ক ব্যক্তি বা ধর্মীয় নেতাদের গ্রেপ্তার করার কোনো উদ্দেশ্য সরকারের ছিল না বলে তিনি উল্লেখ করেন। মিলিব্যান্ড আরও জানান, সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন আছে, তাই চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করা উচিত। ব্যক্তিগত সম্পর্কের খাতিরে মার্গারেট ওয়েনকে স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, তার মা ম্যারিয়ন কোজাক ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা এবং ১৯৪৮ সালের নাকবার বিষয়টি আগেই অনুধাবন করেছিলেন।

ব্রিটেনে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে ঘিরে এই ঘটনা রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কেবল প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের দায়ে গ্রেপ্তারের ঘটনা মতপ্রকাশ ও প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকারকে সংকুচিত করছে। অন্যদিকে ব্রিটিশ পুলিশের ভাষ্যমতে, তারা শান্তিপূর্ণ এবং আইনসম্মত প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান জানায়, তবে আইনের লঙ্ঘন হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মার্গারেট ওয়েনের এই গ্রেপ্তার দেশটিতে ফিলিস্তিনপন্থী প্রতিবাদ, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রয়োগ এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকারের সংঘাতকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই, আল-জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ান।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে ৯৪ বছর বয়সী ব্রিটিশ আইনজীবী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ১১:২২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ব্রিটেনের লিভারপুলে লেবার পার্টির সম্মেলনের বাইরে ফিলিস্তিনের পক্ষে এবং প্যালেস্টাইন অ্যাকশন নামক সংগঠনের সমর্থনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ৯৪ বছর বয়সী প্রবীণ মানবাধিকার আইনজীবী মার্গারেট ওয়েনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বিক্ষোভে একটি প্ল্যাকার্ড বহন করছিলেন। ২০১৩ সালে বিধবাদের অধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ওবিই সম্মাননা পেয়েছিলেন। মার্গারেট ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের প্রয়াত মা ম্যারিয়ন কোজাকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। কোজাক একজন ইহুদি ও হলোকাস্ট থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি হওয়ার পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন বলে জানিয়েছেন মার্গারেট।

প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসবাদ আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করার পর থেকেই সংগঠনটির সমর্থনে তিনি কয়েক মাস ধরে সরব ছিলেন। তিনি লন্ডনে আয়োজিত প্রায় ১২টি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ‘আমি গণহত্যার বিরোধিতা করি, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি’ লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অংশ নিয়েছেন। এমনকি তিনি নিজের বাড়ির জানালায় একই বার্তা সংবলিত পোস্টার লাগিয়েছিলেন এবং পুলিশকে তার ছবি পাঠিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। অবশেষে লিভারপুলে তাকে আটক করা হয়। এরপর সংগঠনটির সমর্থনে প্রকাশ্যে বক্তব্য বা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করাও আইনি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

মার্সিসাইড পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থনে লেখা বা সামগ্রী বহনের সন্দেহে লিভারপুলের ওই বিক্ষোভে ৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যাদের পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৭৯ জনের বিরুদ্ধে সমনের জন্য রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালে গঠিত প্যালেস্টাইন অ্যাকশন ইসরায়েলি অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযানে সক্রিয় ছিল। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ব্রিটিশ সরকার এটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পর থেকে এর সমর্থনে প্রকাশ্যে যেকোনো কার্যক্রম আইনি জটিলতার সৃষ্টি করেছে। সংগঠনটি ইসরাইলি অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান চালিয়েছে।

এই গ্রেপ্তারের বিষয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন যে, তিনি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকারকে সম্মান করেন। তবে বয়স্ক ব্যক্তি বা ধর্মীয় নেতাদের গ্রেপ্তার করার কোনো উদ্দেশ্য সরকারের ছিল না বলে তিনি উল্লেখ করেন। মিলিব্যান্ড আরও জানান, সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন আছে, তাই চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করা উচিত। ব্যক্তিগত সম্পর্কের খাতিরে মার্গারেট ওয়েনকে স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, তার মা ম্যারিয়ন কোজাক ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা এবং ১৯৪৮ সালের নাকবার বিষয়টি আগেই অনুধাবন করেছিলেন।

ব্রিটেনে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে ঘিরে এই ঘটনা রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কেবল প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের দায়ে গ্রেপ্তারের ঘটনা মতপ্রকাশ ও প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকারকে সংকুচিত করছে। অন্যদিকে ব্রিটিশ পুলিশের ভাষ্যমতে, তারা শান্তিপূর্ণ এবং আইনসম্মত প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান জানায়, তবে আইনের লঙ্ঘন হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মার্গারেট ওয়েনের এই গ্রেপ্তার দেশটিতে ফিলিস্তিনপন্থী প্রতিবাদ, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রয়োগ এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকারের সংঘাতকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই, আল-জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ান।

Facebook Comments Box