সৌদি আরামকোর ভবনে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নতুন করে উত্তেজনা
- আপডেট সময় : ০৯:৪১:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে অবস্থিত একটি প্রশাসনিক ভবনে মঙ্গলবার গভীর রাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। বুধবার দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, হামলায় ভবনটির একটি অফিস টাওয়ারে আঘাত লাগে এবং সেখানে সীমিত পরিসরে আগুন ধরে যায়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে রয়টার্সকে আরামকোর একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভবনটির ওপরের তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পরপরই কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ধাহরানে আরামকোর এই কমপ্লেক্সটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান থেকেই কোম্পানিটির বিশাল তেল অবকাঠামো, শোধনাগার, পাইপলাইন এবং সমুদ্রভিত্তিক উত্তোলন কেন্দ্রগুলোর নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ওই সূত্রের দাবি, কমপ্লেক্সের একটি অফিস টাওয়ারে ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে। আরামকোর ওই কমপ্লেক্সে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনাকেন্দ্র আছে। এর আগে রয়টার্সকে ছয়টি সূত্র জানিয়েছিল, তারা আরামকোর কমপ্লেক্সের আশপাশে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছে।
ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। সৌদি রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও এ পর্যন্ত চারবার হামলা হয়েছে, যার মধ্যে শনিবারের হামলায় ১৩ জন নিহত হন। এটি গত এক দশকে সৌদি আরবে চালানো সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। রিয়াদসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর ধ্বংসাবশেষ রিয়াদের ১৫টি বাড়িতে পড়ায় চারজন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন, যার মধ্যে শিশুও রয়েছে। এর পর দেশজুড়ে আরও হামলার কারণে বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এতে রাজধানীর ১৫টি বাড়ি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজন নারী, একজন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে। সৌদি আরবে তেলশিল্পে কর্মরত ব্যক্তিদেরও সতর্ক করেছে হুতিরা।
সংঘাতের ধারাবাহিকতায় হুতিরা এর আগেও কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছিল। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি ধাহরানে আরামকোর সদর দপ্তর এবং রিয়াদের তেল শোধনাগারকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এর জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানার উপকণ্ঠে ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির সাবাহ কেন্দ্রীয় স্টেশনে পাল্টা অভিযান চালিয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সৌদি জোট জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নৌপথ ও সৌদি আরবের সুরক্ষায় হুতিদের সক্ষমতা নিষ্ক্রিয় করাই তাদের এই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য। একই দিনে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে হুতিদের বারবার হামলার পরিণতি ভোগের ব্যাপারে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে জ্বলে ওঠার পেছনে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির বড় প্রভাব রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনের বর্তমান সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে সৌদি আরব। গত মাসে হুতিরা আকস্মিকভাবে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হলে রিয়াদ তাদের হটিয়ে দিতে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করে। ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এই প্রণালির গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। সরকারি বাহিনীর অভিযানে হুতিদের প্রণালির নিকটবর্তী এলাকা থেকে হটিয়ে দেওয়া হলেও তারা পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন শহরে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। সৌদি আরব এখন মিত্রদের কাছে এ ধরনের হামলা মোকাবিলায় আরও সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে এখন পর্যন্ত অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।
বৃহত্তর এই সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের আঁচ ইয়েমেনের মাটিতেও ছড়িয়ে পড়ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রোববার হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের বিরোধ মীমাংসার একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে সেই প্রস্তাব পুনরায় তুলে ধরা হয়েছে। তবে বর্তমানে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।
সূত্র: মানবজমিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























