ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

লংগদুতে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ হত্যা মামলায় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

রাঙামাটি থেকে কামরুল ইসলাম রানা
  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ ১২০৪০ বার পড়া হয়েছে

লংগদুতে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ হত্যা মামলায় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

 

লংগদুতে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ হত্যা মামলায় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

 

 

​
রাঙামাটির লংগদুতে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে স্বামী সাইদুল মিয়াকে (৩৭) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ২ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

​

 

 

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে রাঙামাটির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা দায়রা জজ মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।  আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার গাউসপুর গ্রামের বাসিন্দা রানু আক্তারের সঙ্গে সাইদুল মিয়ার বিয়ে হয়।

 

 

বিয়ের পর থেকেই সাইদুল বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। একাধিকবার পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও সাইদুলের নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

​

পড়ুন>> কাউনিয়ায় স্বাস্থ্যকর্মীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট

 

২০২০ সালের ২২ নভেম্বর রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পুনরায় কলহ সৃষ্টি হলে সাইদুল মিয়া তার স্ত্রী রানু আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। ঘটনাটি আড়াল করতে তিনি মরদেহ বাড়ির পাশের কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ডুবিয়ে রাখেন। পরদিন ২৩ নভেম্বর সকালে হ্রদের পানিতে মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন। সুরতহাল প্রতিবেদনে গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় বিষয়টি হত্যাকাণ্ড হিসেবে স্পষ্ট হয়।

 

 

 

ঘটনার পরদিন ২৪ নভেম্বর ২০২০ সালে নিহতের পিতা চাঁন মিয়া বাদী হয়ে লংগদু থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর বিচারিক কার্যক্রম চলে। আদালত ১২ জন সাক্ষী, চিকিৎসা প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় আলামত পর্যালোচনা শেষে আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

 

পড়ুন>> মাদকমুক্ত সুনামগঞ্জ গড়তে পুলিশের কঠোর অবস্থান: আটক দুইজন

 

রায় প্রদানকালে আদালত পর্যবেক্ষণ দেন যে, যৌতুকের জন্য নারী নির্যাতন ও হত্যার মতো অপরাধ সমাজে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। এ ধরনের সামাজিক ব্যাধি রুখতে কঠোর শাস্তির কোনো বিকল্প নেই।

​

 

রাঙামাটির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই রায় সমাজের জন্য একটি কড়া বার্তা। নারীর প্রতি সহিংসতা করে কেউ পার পাবে না। ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ন্যায়বিচার পেয়েছে। ​রায় ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে পুলিশি পাহারায় জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

লংগদুতে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ হত্যা মামলায় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ১১:৪৮:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

 

 

 

 

লংগদুতে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ হত্যা মামলায় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

 

 

​
রাঙামাটির লংগদুতে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে স্বামী সাইদুল মিয়াকে (৩৭) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ২ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

​

 

 

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে রাঙামাটির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা দায়রা জজ মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।  আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার গাউসপুর গ্রামের বাসিন্দা রানু আক্তারের সঙ্গে সাইদুল মিয়ার বিয়ে হয়।

 

 

বিয়ের পর থেকেই সাইদুল বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। একাধিকবার পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও সাইদুলের নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

​

পড়ুন>> কাউনিয়ায় স্বাস্থ্যকর্মীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট

 

২০২০ সালের ২২ নভেম্বর রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পুনরায় কলহ সৃষ্টি হলে সাইদুল মিয়া তার স্ত্রী রানু আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। ঘটনাটি আড়াল করতে তিনি মরদেহ বাড়ির পাশের কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ডুবিয়ে রাখেন। পরদিন ২৩ নভেম্বর সকালে হ্রদের পানিতে মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন। সুরতহাল প্রতিবেদনে গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় বিষয়টি হত্যাকাণ্ড হিসেবে স্পষ্ট হয়।

 

 

 

ঘটনার পরদিন ২৪ নভেম্বর ২০২০ সালে নিহতের পিতা চাঁন মিয়া বাদী হয়ে লংগদু থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর বিচারিক কার্যক্রম চলে। আদালত ১২ জন সাক্ষী, চিকিৎসা প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় আলামত পর্যালোচনা শেষে আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

 

পড়ুন>> মাদকমুক্ত সুনামগঞ্জ গড়তে পুলিশের কঠোর অবস্থান: আটক দুইজন

 

রায় প্রদানকালে আদালত পর্যবেক্ষণ দেন যে, যৌতুকের জন্য নারী নির্যাতন ও হত্যার মতো অপরাধ সমাজে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। এ ধরনের সামাজিক ব্যাধি রুখতে কঠোর শাস্তির কোনো বিকল্প নেই।

​

 

রাঙামাটির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই রায় সমাজের জন্য একটি কড়া বার্তা। নারীর প্রতি সহিংসতা করে কেউ পার পাবে না। ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ন্যায়বিচার পেয়েছে। ​রায় ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে পুলিশি পাহারায় জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

 

 

 

Facebook Comments Box