ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা কর অঞ্চল-১৭ এ ৫৫ কর্মী নিয়োগ হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কাতার কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তরুণ পরিবেশকর্মী রিফাত প্রতি বাংলাদেশির মাথায় ৬৪৬ ডলার বৈদেশিক ঋণ: বিশ্বব্যাংক দুর্নীতিতে অনেক সমবায় সমিতি অকার্যকর হয়ে পড়েছে: রাষ্ট্রপতি ইসরাইলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকট: সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ৩৫ টাকা দরে ৩ লাখ টন আমন ধান কিনবে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী ডিএমপি: জনমনে আতঙ্ক ছড়াতেই বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন হত্যায় বিচার শুরুর নির্দেশ লন্ডনে উদ্বোধন হলো প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীর স্থায়ী ঠিকানা ‘চাটগাঁ হাউস’

রূপ পাল্টেও শেষ রক্ষা হলো না নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ক্যাডার সাদিক আব্দুল্লাহর

চট্টগ্রাম থেকে আব্দুল কাদের
  • আপডেট সময় : ০৬:২৭:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ২৫৪৯৪ বার পড়া হয়েছে

সাদিক আব্দুল্লাহ

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

 

রূপ পাল্টেও শেষ রক্ষা হলো না নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ক্যাডার সাদিক আব্দুল্লাহর

 

 

অবশেষে গ্রেফতার মুহসিন কলেজের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ক্যাডার সাদিক আব্দুল্লাহ।
চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজকেন্দ্রিক দীর্ঘদিনের আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তি ছাত্রলীগের ক্যাডার সাদিক আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার করেছে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর অক্সিজেন এলাকার তার নিজ বাসা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

 

 

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি একটি সিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ অবশেষে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

 

 

 

পুলিশ জানায়, সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে আগে থেকেই সহিংসতা, চাঁদাবাজি এবং ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে থাকার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান পরিবর্তন করে চলাফেরা করছিলেন। তবে সর্বশেষ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করা হলে তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।

পড়ুন>> ডোমারে ভোজ্য তেল মজুদ ও মেয়াদউর্ত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির অভিযোগে জরিমানা

 

 

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাদিক আব্দুল্লাহ একসময় সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজ ছাত্রলীগের দুর্ধর্ষ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ক্যাম্পাস রাজনীতিতে তার নাম ছিল বেশ আলোচিত এবং একইসঙ্গে বিতর্কিত। কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফজলে করিম জুনুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন তিনি। স্থানীয় সূত্র বলছে, কলেজের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জুনুর নির্দেশ বাস্তবায়নে সাদিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।

 

 

 

সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সেই সময় মুহসিন কলেজ ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একটি অঘোষিত বলয় তৈরি হয়েছিল। ছাত্রাবাসে সিট দখল, নতুন শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সাদিক আব্দুল্লাহর নাম জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, সে সময় ক্যাম্পাসে নিরপেক্ষভাবে মত প্রকাশ করা বা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়েছিল।

 

 

 

এছাড়া কলেজসংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, অনেক সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হতো এবং এতে কিছু ক্যাডারের নাম সামনে আসত। তবে স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ছিল।

 

পড়ুন>> কাউনিয়ার ইউপি সদস্য ও মহিলা সহ সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জনের মৃত্যু: ৪ জন আহত

 

 

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করলে সাদিক আব্দুল্লাহ নিজের অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তখন তিনি নিজেকে আড়াল করতে ভিন্ন পরিচয়ে চলাফেরা শুরু করেন এবং ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে নতুনভাবে অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই এটিকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন।

 

 

 

তবে নাম পরিবর্তন বা ভিন্ন পরিচয় গ্রহণ করলেও তার অতীতের কর্মকাণ্ড পুরোপুরি চাপা থাকেনি। বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, তিনি গোপনে তার আগের রাজনৈতিক অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন এবং পুরনো প্রভাববলয় টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন। এ কারণে তার চলাফেরা নিয়ে অনেকের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।

 

 

 

বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলায় ওয়ারেন্ট জারি ছিল। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই তাকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হয়। তবে তিনি বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করায় তাকে দীর্ঘদিন আটক করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়।

 

 

 

গ্রেফতারের পর তাকে থানায় নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। পাশাপাশি তার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

আরও পড়ুন>> জাপানে কর্মসংস্থানে কাউনিয়ায় জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ উদ্যোগ

 

এদিকে সাদিক আব্দুল্লাহর গ্রেফতারের খবর মুহূর্তের মধ্যে মুহসিন কলেজ এলাকা এবং আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তির প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একজন ব্যক্তির গ্রেফতারের মাধ্যমে অন্তত একটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

 

 

মুহসিন কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, অতীতে ক্যাম্পাসে নানা সময় সহিংসতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাই এমন একজন ব্যক্তির গ্রেফতার অনেকের কাছে স্বস্তির বিষয় হয়ে উঠেছে।

 

 

 

স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে সাদিক আব্দুল্লাহ নামটি এলাকায় বিভিন্ন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ থাকলেও অনেক সময় তা প্রকাশ্যে আসত না। তবে এবার তাকে গ্রেফতার করায় এলাকাবাসী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

 

 

এলাকাবাসীর মতে, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। এতে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একইভাবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

 

আরও পড়ুন>> ভূরুঙ্গামারীতে বিজ্ঞান উৎসবের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

 

 

অনেকেই আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা সহিংসতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করা। তাই ক্যাম্পাসকে সহিংসতামুক্ত রাখা সবার দায়িত্ব।

 

স্থানীয়রা আরও দাবি করেছেন, অতীতে যারা ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।এতে করে ভবিষ্যতে কেউ এমন কর্মকাণ্ডে জড়াতে সাহস পাবে না।

 

 

 

অপরদিকে শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে একটি ইতিবাচক বার্তা যাবে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার পরিবেশ আরও  সুন্দর হবে।

 

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রূপ পাল্টেও শেষ রক্ষা হলো না নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ক্যাডার সাদিক আব্দুল্লাহর

আপডেট সময় : ০৬:২৭:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

 

 

 

 

রূপ পাল্টেও শেষ রক্ষা হলো না নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ক্যাডার সাদিক আব্দুল্লাহর

 

 

অবশেষে গ্রেফতার মুহসিন কলেজের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ক্যাডার সাদিক আব্দুল্লাহ।
চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজকেন্দ্রিক দীর্ঘদিনের আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তি ছাত্রলীগের ক্যাডার সাদিক আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার করেছে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর অক্সিজেন এলাকার তার নিজ বাসা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

 

 

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি একটি সিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ অবশেষে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

 

 

 

পুলিশ জানায়, সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে আগে থেকেই সহিংসতা, চাঁদাবাজি এবং ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে থাকার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান পরিবর্তন করে চলাফেরা করছিলেন। তবে সর্বশেষ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করা হলে তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।

পড়ুন>> ডোমারে ভোজ্য তেল মজুদ ও মেয়াদউর্ত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির অভিযোগে জরিমানা

 

 

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাদিক আব্দুল্লাহ একসময় সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজ ছাত্রলীগের দুর্ধর্ষ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ক্যাম্পাস রাজনীতিতে তার নাম ছিল বেশ আলোচিত এবং একইসঙ্গে বিতর্কিত। কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফজলে করিম জুনুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন তিনি। স্থানীয় সূত্র বলছে, কলেজের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জুনুর নির্দেশ বাস্তবায়নে সাদিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।

 

 

 

সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সেই সময় মুহসিন কলেজ ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একটি অঘোষিত বলয় তৈরি হয়েছিল। ছাত্রাবাসে সিট দখল, নতুন শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সাদিক আব্দুল্লাহর নাম জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, সে সময় ক্যাম্পাসে নিরপেক্ষভাবে মত প্রকাশ করা বা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়েছিল।

 

 

 

এছাড়া কলেজসংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, অনেক সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হতো এবং এতে কিছু ক্যাডারের নাম সামনে আসত। তবে স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ছিল।

 

পড়ুন>> কাউনিয়ার ইউপি সদস্য ও মহিলা সহ সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জনের মৃত্যু: ৪ জন আহত

 

 

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করলে সাদিক আব্দুল্লাহ নিজের অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তখন তিনি নিজেকে আড়াল করতে ভিন্ন পরিচয়ে চলাফেরা শুরু করেন এবং ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে নতুনভাবে অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই এটিকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন।

 

 

 

তবে নাম পরিবর্তন বা ভিন্ন পরিচয় গ্রহণ করলেও তার অতীতের কর্মকাণ্ড পুরোপুরি চাপা থাকেনি। বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, তিনি গোপনে তার আগের রাজনৈতিক অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন এবং পুরনো প্রভাববলয় টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন। এ কারণে তার চলাফেরা নিয়ে অনেকের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।

 

 

 

বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলায় ওয়ারেন্ট জারি ছিল। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই তাকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হয়। তবে তিনি বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করায় তাকে দীর্ঘদিন আটক করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়।

 

 

 

গ্রেফতারের পর তাকে থানায় নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। পাশাপাশি তার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

আরও পড়ুন>> জাপানে কর্মসংস্থানে কাউনিয়ায় জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ উদ্যোগ

 

এদিকে সাদিক আব্দুল্লাহর গ্রেফতারের খবর মুহূর্তের মধ্যে মুহসিন কলেজ এলাকা এবং আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তির প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একজন ব্যক্তির গ্রেফতারের মাধ্যমে অন্তত একটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

 

 

মুহসিন কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, অতীতে ক্যাম্পাসে নানা সময় সহিংসতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাই এমন একজন ব্যক্তির গ্রেফতার অনেকের কাছে স্বস্তির বিষয় হয়ে উঠেছে।

 

 

 

স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে সাদিক আব্দুল্লাহ নামটি এলাকায় বিভিন্ন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ থাকলেও অনেক সময় তা প্রকাশ্যে আসত না। তবে এবার তাকে গ্রেফতার করায় এলাকাবাসী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

 

 

এলাকাবাসীর মতে, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। এতে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একইভাবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

 

আরও পড়ুন>> ভূরুঙ্গামারীতে বিজ্ঞান উৎসবের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

 

 

অনেকেই আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা সহিংসতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করা। তাই ক্যাম্পাসকে সহিংসতামুক্ত রাখা সবার দায়িত্ব।

 

স্থানীয়রা আরও দাবি করেছেন, অতীতে যারা ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।এতে করে ভবিষ্যতে কেউ এমন কর্মকাণ্ডে জড়াতে সাহস পাবে না।

 

 

 

অপরদিকে শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে একটি ইতিবাচক বার্তা যাবে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার পরিবেশ আরও  সুন্দর হবে।

 

 

 

 

Facebook Comments Box