ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রবাসী আয় ও রিজার্ভে ভর করে শক্তিশালী বাংলাদেশের বৈদেশিক বুটেক্সের হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সতর্কতা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান মাউশির ৬১০ পদের ফল প্রকাশের দাবিতে জেলা পর্যায়ে স্মারকলিপি দুই মাসে ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ নেদারল্যান্ডসের কোচ হিসেবে জাভির প্রথম জয় রাজধানীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ৪৯৯ বাংলা কিউআর লেনদেন: ব্যর্থ পেমেন্টের টাকা ফিরবে ৩০ মিনিটে কুড়িগ্রামে ৭৪টি ইয়াবাসহ বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার, পদ থেকে অব্যাহতি শি জিনপিংকে মার্কিন অস্ত্র কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প: রাষ্ট্রদূত ৫১তম বিশেষ বিসিএসে ৫০০০ চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

মাউশির ৬১০ পদের ফল প্রকাশের দাবিতে জেলা পর্যায়ে স্মারকলিপি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৯:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ২০২০ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতাধীন অবশিষ্ট চার ক্যাটাগরির ৬১০ পদের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। এই দাবিতে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদের সদস্য ও প্রার্থীরা।

স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে রংপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আঞ্চলিক কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি মো. জোবায়ের আহমেদ স্মারকলিপি জমা দেন। একই দিনে পিরোজপুরে সংগঠনের সদস্যসচিব জাকারিয়া এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে মুখপাত্র লিটন কুমার বিশ্বাস ও হাজেরা খাতুন নিজ নিজ জেলার প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের কাছে ফল প্রকাশের জোর দাবি জানান। এ ছাড়াও দেশের অন্যান্য জেলার প্রতিনিধিরাও স্থানীয় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

চাকরিপ্রার্থীরা জানান, ২০২০ সালের সেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে মোট ২৮টি ক্যাটাগরিতে ৪ হাজার ৩২টি পদ ছিল। এর মধ্যে ২৪টি ক্যাটাগরির ৩ হাজার ৪২২ পদের নিয়োগ সম্পন্ন হলেও ৬১০টি পদের ফল এখনো আটকে আছে। এর ফলে অনেক প্রার্থীর সরকারি চাকরির আবেদনের বয়সসীমা পেরিয়ে গেছে, যা তাদের চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় তারা আর্থিক ও সামাজিক সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। এতে প্রার্থীদের মধ্যে আশার সৃষ্টি হলেও এখনো ফল প্রকাশ না হওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন ও হতাশ। অনেকের চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমাও শেষ হয়ে গেছে।

এর আগে এই নিয়োগের কোটা সংক্রান্ত জটিলতা ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর নিরসন হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর, ২৩ এপ্রিল মাউশির মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে সাত দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়া গত ১৩ সেপ্টেম্বর রংপুরে মাউশির আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে এবং বিভিন্ন সময়ে ঢাকায় মাউশি প্রধান কার্যালয়ের সামনে তারা আন্দোলন ও মানববন্ধন করেছেন। ২০২৫ সালের ১৭ থেকে ১৯ জুন আমরণ অনশনের মতো কঠিন কর্মসূচিও পালন করতে হয়েছে তাদের, যেখানে লাঠিচার্জের শিকার হওয়ার কথাও জানান প্রার্থীরা। পরে ২৯ জুন সংবাদ সম্মেলনে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও নিজেদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।

সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে ঐক্য পরিষদের মুখপাত্র লিটন কুমার বিশ্বাস জানান, চলতি বছরে শিক্ষা সচিব তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে মাউশির মহাপরিচালককে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই আশ্বাসে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, ফল প্রকাশে গড়িমসি তাদের নতুন করে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও তারা স্মারকলিপি দিয়েছেন। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রেখে দ্রুত মেধার ভিত্তিতে ৬১০ পদের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করাই তাদের একমাত্র দাবি।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মাউশির ৬১০ পদের ফল প্রকাশের দাবিতে জেলা পর্যায়ে স্মারকলিপি

আপডেট সময় : ০১:২৯:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ২০২০ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতাধীন অবশিষ্ট চার ক্যাটাগরির ৬১০ পদের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। এই দাবিতে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদের সদস্য ও প্রার্থীরা।

স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে রংপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আঞ্চলিক কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি মো. জোবায়ের আহমেদ স্মারকলিপি জমা দেন। একই দিনে পিরোজপুরে সংগঠনের সদস্যসচিব জাকারিয়া এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে মুখপাত্র লিটন কুমার বিশ্বাস ও হাজেরা খাতুন নিজ নিজ জেলার প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের কাছে ফল প্রকাশের জোর দাবি জানান। এ ছাড়াও দেশের অন্যান্য জেলার প্রতিনিধিরাও স্থানীয় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

চাকরিপ্রার্থীরা জানান, ২০২০ সালের সেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে মোট ২৮টি ক্যাটাগরিতে ৪ হাজার ৩২টি পদ ছিল। এর মধ্যে ২৪টি ক্যাটাগরির ৩ হাজার ৪২২ পদের নিয়োগ সম্পন্ন হলেও ৬১০টি পদের ফল এখনো আটকে আছে। এর ফলে অনেক প্রার্থীর সরকারি চাকরির আবেদনের বয়সসীমা পেরিয়ে গেছে, যা তাদের চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় তারা আর্থিক ও সামাজিক সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। এতে প্রার্থীদের মধ্যে আশার সৃষ্টি হলেও এখনো ফল প্রকাশ না হওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন ও হতাশ। অনেকের চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমাও শেষ হয়ে গেছে।

এর আগে এই নিয়োগের কোটা সংক্রান্ত জটিলতা ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর নিরসন হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর, ২৩ এপ্রিল মাউশির মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে সাত দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়া গত ১৩ সেপ্টেম্বর রংপুরে মাউশির আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে এবং বিভিন্ন সময়ে ঢাকায় মাউশি প্রধান কার্যালয়ের সামনে তারা আন্দোলন ও মানববন্ধন করেছেন। ২০২৫ সালের ১৭ থেকে ১৯ জুন আমরণ অনশনের মতো কঠিন কর্মসূচিও পালন করতে হয়েছে তাদের, যেখানে লাঠিচার্জের শিকার হওয়ার কথাও জানান প্রার্থীরা। পরে ২৯ জুন সংবাদ সম্মেলনে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও নিজেদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।

সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে ঐক্য পরিষদের মুখপাত্র লিটন কুমার বিশ্বাস জানান, চলতি বছরে শিক্ষা সচিব তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে মাউশির মহাপরিচালককে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই আশ্বাসে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, ফল প্রকাশে গড়িমসি তাদের নতুন করে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও তারা স্মারকলিপি দিয়েছেন। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রেখে দ্রুত মেধার ভিত্তিতে ৬১০ পদের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করাই তাদের একমাত্র দাবি।

Facebook Comments Box