ঢাকা ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাণীশংকৈলে ইয়াবাসহ আটক যুবককে ৩ মাসের কারাদণ্ড সংযুক্ত আরব আমিরাতে বৃষ্টির কামনায় বিশেষ ইস্তিসকার নামাজ দিল্লি সফরে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী: মোদি-সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক অস্ট্রেলিয়ায় ক্ষমতার পালাবদলের আভাসে অভিবাসন ছাঁটাইয়ের কড়া পরিকল্পনা দেশে হাম ও উপসর্গে আরও ৬ শিশুর প্রাণহানি ইএসডিওতে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার পদে নিয়োগ, বেতন ৪৬ হাজার ‘চীনের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি আছে?’, যুক্তরাষ্ট্রকে: উত্তর কোরিয়ার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা: ভোলার জেলেদের দুশ্চিন্তা ও সরকারি সহায়তার বিনিয়োগ বাড়াতে ২০ উদ্যোগের সাতটি বাস্তবায়ন ইসির সঙ্গে নেপাল নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদলের বৈঠক

বর্ষার বিলের সৌন্দর্য শাপলা ফুলের সবজি হিসেবে চাহিদা প্রচুর 

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:০১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই ২০২৩ ৪৩০২ বার পড়া হয়েছে

বর্ষার বিলের সৌন্দর্য শাপলা ফুলের সবজি হিসেবে চাহিদা প্রচুর 

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বর্ষার বিলের সৌন্দর্য শাপলা ফুলের সবজি হিসেবে চাহিদা প্রচুর

 

বর্ষার বিলের সৌন্দর্য শাপলা ফুলের সবজি হিসেবে চাহিদা প্রচুর। ব‍্যাপক জনপ্রিয় সবজি হিসেবে  প্রচুর বিক্রি হচ্ছে।

 

বর্ষা মৌসুম আসলেই শাপলার চাহিদা বেড়ে যায় মানুষের মাঝে। যার কান্ড বা ডগা সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। এটি পুষ্টিকর সবজি এবং বেশ সুস্বাদু।

 

 

শাপলা কয়েক রকমের হয়ে থাকে। তবে সাদা,নীল ও লাল শাপলাই চোখে পড়ে বেশি। শহরে এটা তেমন দেখা না গেলেও গ্রামাঞ্চলের বিল-ঝিলে বেশি চোখে পড়ে।

 

 

আলাদাভাবে এটা চাষ করা লাগে না। এমনিতেই জলাশয়, বিল বা ঝিলের পানিতে জন্মে- ফুল ফোটে। গ্রামের বাজারগুলোতে প্রতি আঁটি (৪/৫টা দিয়ে বাঁধা) শাপলা ৫/১০ টাকা করে বিক্রি হয়ে থাকে।

শাপলা ফুল শুধু গ্রামেই নয়, শহরেও তরকারি হিসেবে শাপলার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের প্রায় সবখানে খাল, বিল, পুকুর, ডোবায় শাপলা পাওয়া যায়। বিলের একদল নিবেদিত প্রাণ এ শাপলায় সবজির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কাটাচ্ছেন নিজের সংসারের দৈন্যদশাও।

 

 

শাপলা সাধারণত স্রোতবিহীন জলাশয়ে জন্মে।
এটি দিনে ফোটে। এর মূল জলাশয়ের নিচে কাদার মধ্যে ডুবে থাকে। জলাশয়ের পানি বাড়লে এর ডাঁটাও বাড়তে থাকে। এর পাতা গোলাকৃতি ও আকারে থালার চেয়েও অনেক বড় হয়। এর সঙ্গেই লম্বা ডাঁটাসহ বিভিন্ন রঙের শাপলা ফুটে।

 

 

এর পাতা গোলাকৃতি ও ফর্মে থালার চেয়ে অনেক বড় হয়। এর সঙ্গে লম্বা ডাঁটা সহ বিভিন্ন রঙের শাপলা ফুটে।

ফুলগুলো দেখতে তারার মতো মনে হয়। কুঁড়ি অবস্থায় শাপলা অনেকটা কলার মোচার মতো হয়ে থাকে। কুঁড়িটি আস্তে আস্তে ফুটে দু-এক দিনের মধ্যেই পূর্ণতা পায়।

 

 

শাপলা ফুল দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি উপকারীও বটে। শাপলার ডাঁটা গ্রামাঞ্চলে, এমনকি শহরেও অনেকে সবজি হিসেবে খায়। লাল রঙের শাপলা ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গ্রামবাংলার ছেলে-মেয়েরা এ ফুল দিয়ে মালা গাঁথে।বিভিন্ন এলাকায় মঞ্চসজ্জার কাজেও এ ফুল ব্যবহৃত হয়। শাপলার ফুল থেকে আলুর মতো বড় বড় ফল হয়। এ ফল থেকে খই ও মোয়া তৈরি করা হয়।

 

 

শাপলা ফুলের বিভিন্ন নাম রয়েছে বাংলা নাম শাপলা ফুল, ইংরেজি নাম লিলি, মনিপুরী ভাষায় থরো, আংগৌরা, তামিল ভাষায় ভেলাম্বাল, সংস্কৃত ভাষায় কুমুডা, আসাম ভাষায় শাপলা ফুলকে নাল বলা হয়। শুধু বাংলাদেশ নয় শ্রীলংকায়ও জাতীয় ফুল এই শাপলা। শ্রীলংকায় শাপলাকে বলে নীল-মাহানেল।

 

 

গ্রিক দার্শনিক প্লেটো ও এরিস্টটল এর এক শিষ্য থিউফ্রাস্টাস বলেছেন, এটা একটি জলজ উদ্ভিদ যা প্রায় ৩০০ খ্রিস্টপূর্ব পুরোনো।

 

গ্রাম অঞ্চলে একসময় শাপলা গাছের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন রোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হতো। এর শুকনো ফুলের গুঁড়ো ঠাণ্ড ও কষায় উপকার করে। কলেরা, জ্বর ও যকৃতের অসুখ সারাতে শাপলার ফুল ব্যবহৃত হয়।

 

বীজ বিভিন্ন চর্মরোগ এমনকি কুষ্ঠ রোগের ঔষধ। ডাঁটা বা নাল খেলে পাকস্থলী থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয়। তবে সবচেয়ে উপকারী হলো শাপলা মোথা বা মূল। অর্শ, অজীর্ণ, শুক্রতারল্য ইত্যাদি রোগ নিরাময়ে মোথা কাজে লাগে।

ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে শাপলা ফুল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উজানী গ্রামের স্বপন বিশ্বাস।

তিনি  জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে প্রায় দুই থেকে তিন মাস খাল- বিলের মধ্যে পানি থাকে। তখন এলাকায় কৃষি কাজ কমে যায়। আর্থিক সংকটের কারনে তাদের শাপলা  বিক্রি করে সংসার  চলতে হয়।

শাপলা বিক্রিতে বড় ধরনের কোন মূলধনের প্রয়োজন না হওয়ায় দরিদ্র পরিবারের অনেকেই বর্ষার মৌসুমে শাপলা বিক্রি করছেন।
তিনি আরও বলেন, এক সময় সবজির দর চড়া থাকার কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটাতো শাপলা ।

কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের আজ ধনী -গরীব সবার কাছে শাপলা তরকারি হিসেবে শাপলার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বর্ষার বিলের সৌন্দর্য শাপলা ফুলের সবজি হিসেবে চাহিদা প্রচুর 

আপডেট সময় : ০৪:০১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই ২০২৩

বর্ষার বিলের সৌন্দর্য শাপলা ফুলের সবজি হিসেবে চাহিদা প্রচুর

 

বর্ষার বিলের সৌন্দর্য শাপলা ফুলের সবজি হিসেবে চাহিদা প্রচুর। ব‍্যাপক জনপ্রিয় সবজি হিসেবে  প্রচুর বিক্রি হচ্ছে।

 

বর্ষা মৌসুম আসলেই শাপলার চাহিদা বেড়ে যায় মানুষের মাঝে। যার কান্ড বা ডগা সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। এটি পুষ্টিকর সবজি এবং বেশ সুস্বাদু।

 

 

শাপলা কয়েক রকমের হয়ে থাকে। তবে সাদা,নীল ও লাল শাপলাই চোখে পড়ে বেশি। শহরে এটা তেমন দেখা না গেলেও গ্রামাঞ্চলের বিল-ঝিলে বেশি চোখে পড়ে।

 

 

আলাদাভাবে এটা চাষ করা লাগে না। এমনিতেই জলাশয়, বিল বা ঝিলের পানিতে জন্মে- ফুল ফোটে। গ্রামের বাজারগুলোতে প্রতি আঁটি (৪/৫টা দিয়ে বাঁধা) শাপলা ৫/১০ টাকা করে বিক্রি হয়ে থাকে।

শাপলা ফুল শুধু গ্রামেই নয়, শহরেও তরকারি হিসেবে শাপলার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের প্রায় সবখানে খাল, বিল, পুকুর, ডোবায় শাপলা পাওয়া যায়। বিলের একদল নিবেদিত প্রাণ এ শাপলায় সবজির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কাটাচ্ছেন নিজের সংসারের দৈন্যদশাও।

 

 

শাপলা সাধারণত স্রোতবিহীন জলাশয়ে জন্মে।
এটি দিনে ফোটে। এর মূল জলাশয়ের নিচে কাদার মধ্যে ডুবে থাকে। জলাশয়ের পানি বাড়লে এর ডাঁটাও বাড়তে থাকে। এর পাতা গোলাকৃতি ও আকারে থালার চেয়েও অনেক বড় হয়। এর সঙ্গেই লম্বা ডাঁটাসহ বিভিন্ন রঙের শাপলা ফুটে।

 

 

এর পাতা গোলাকৃতি ও ফর্মে থালার চেয়ে অনেক বড় হয়। এর সঙ্গে লম্বা ডাঁটা সহ বিভিন্ন রঙের শাপলা ফুটে।

ফুলগুলো দেখতে তারার মতো মনে হয়। কুঁড়ি অবস্থায় শাপলা অনেকটা কলার মোচার মতো হয়ে থাকে। কুঁড়িটি আস্তে আস্তে ফুটে দু-এক দিনের মধ্যেই পূর্ণতা পায়।

 

 

শাপলা ফুল দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি উপকারীও বটে। শাপলার ডাঁটা গ্রামাঞ্চলে, এমনকি শহরেও অনেকে সবজি হিসেবে খায়। লাল রঙের শাপলা ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গ্রামবাংলার ছেলে-মেয়েরা এ ফুল দিয়ে মালা গাঁথে।বিভিন্ন এলাকায় মঞ্চসজ্জার কাজেও এ ফুল ব্যবহৃত হয়। শাপলার ফুল থেকে আলুর মতো বড় বড় ফল হয়। এ ফল থেকে খই ও মোয়া তৈরি করা হয়।

 

 

শাপলা ফুলের বিভিন্ন নাম রয়েছে বাংলা নাম শাপলা ফুল, ইংরেজি নাম লিলি, মনিপুরী ভাষায় থরো, আংগৌরা, তামিল ভাষায় ভেলাম্বাল, সংস্কৃত ভাষায় কুমুডা, আসাম ভাষায় শাপলা ফুলকে নাল বলা হয়। শুধু বাংলাদেশ নয় শ্রীলংকায়ও জাতীয় ফুল এই শাপলা। শ্রীলংকায় শাপলাকে বলে নীল-মাহানেল।

 

 

গ্রিক দার্শনিক প্লেটো ও এরিস্টটল এর এক শিষ্য থিউফ্রাস্টাস বলেছেন, এটা একটি জলজ উদ্ভিদ যা প্রায় ৩০০ খ্রিস্টপূর্ব পুরোনো।

 

গ্রাম অঞ্চলে একসময় শাপলা গাছের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন রোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হতো। এর শুকনো ফুলের গুঁড়ো ঠাণ্ড ও কষায় উপকার করে। কলেরা, জ্বর ও যকৃতের অসুখ সারাতে শাপলার ফুল ব্যবহৃত হয়।

 

বীজ বিভিন্ন চর্মরোগ এমনকি কুষ্ঠ রোগের ঔষধ। ডাঁটা বা নাল খেলে পাকস্থলী থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয়। তবে সবচেয়ে উপকারী হলো শাপলা মোথা বা মূল। অর্শ, অজীর্ণ, শুক্রতারল্য ইত্যাদি রোগ নিরাময়ে মোথা কাজে লাগে।

ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে শাপলা ফুল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উজানী গ্রামের স্বপন বিশ্বাস।

তিনি  জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে প্রায় দুই থেকে তিন মাস খাল- বিলের মধ্যে পানি থাকে। তখন এলাকায় কৃষি কাজ কমে যায়। আর্থিক সংকটের কারনে তাদের শাপলা  বিক্রি করে সংসার  চলতে হয়।

শাপলা বিক্রিতে বড় ধরনের কোন মূলধনের প্রয়োজন না হওয়ায় দরিদ্র পরিবারের অনেকেই বর্ষার মৌসুমে শাপলা বিক্রি করছেন।
তিনি আরও বলেন, এক সময় সবজির দর চড়া থাকার কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটাতো শাপলা ।

কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের আজ ধনী -গরীব সবার কাছে শাপলা তরকারি হিসেবে শাপলার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।

 

Facebook Comments Box