ঢাকা ০২:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে সহায়তা দেবে সরকার: ড. তিতুমীর

ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:৫০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে সহায়তা দেবে সরকার: ড. তিতুমীর

 

দেশের প্রযুক্তি খাতের বিকাশ, দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নাগরিক সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা করছে সরকার। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিদ্যমান কর নীতি, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ও ভূমিকা নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে।

 

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডার হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-সিলিকন ভ্যালি প্রযুক্তি সংলাপ’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান।

লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল আয়োজিত ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রযুক্তি, মেধা ও অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক এই সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিনিধিদল সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।

পড়ুন>>প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও দুর্নীতি রোধে ২৩ দফা নির্দেশনা সরকারের

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও সঞ্চালনা করেন কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

উপদেষ্টা ড. তিতুমীর বলেন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং নাগরিক সেবার মান নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, এর জন্য দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প চিহ্নিত করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।

পড়ুন>>পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর এই প্রতিনিধিদলে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ছাড়াও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

সংলাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. শরিফা সুলতানা, উবারের প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং এনভিডিয়ার গবেষক ড. মোস্তফা পাটোয়ারী প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেন গ্লোবালফাউন্ড্রিজের ড. মাহবুব রাশেদ।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডেভিসের অধ্যাপক ড. সাইফ ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ক্রিডো সেমিকন্ডাক্টরের ড. শতিল হক, এক্সোরের ড. ইউসুফ হক, ইন্টেলের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান ড. ওমর ইশরাক, উল্কাসেমির মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান এবং ক্লাউডএআইয়ের বদরুল সারওয়ার।

উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, গবেষণা, শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরির মাধ্যমে সরকার প্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিএইআর সামিটসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মেধাকে উদ্ভাবনী বিনিয়োগ ও দক্ষ কর্মসংস্থানে রূপান্তর করা জরুরি।

আরও পড়ুন>>হাভানার পাশে চীন, ট্রাম্পের ‘কিউবা ভেঙে পড়বে’ মন্তব্যের পর

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রযুক্তি কূটনীতিকে পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা ও উদ্ভাবন ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতেও এই প্রযুক্তি সহযোগিতা বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের যুগে শিশুদের ডিজিটাল দক্ষতার পাশাপাশি মৌলিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শিক্ষকদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষে এআইয়ের সঠিক প্রয়োগ এবং সব শিশুর কাছে মানসম্মত শিক্ষাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে নতুন শিক্ষাপদ্ধতি মূল শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত করার আগে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আলোচনার ধারাবাহিকতায় প্রতিনিধিদল এবং আগ্রহী অংশীজনদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে সহায়তা দেবে সরকার: ড. তিতুমীর

আপডেট সময় : ১২:৫০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে সহায়তা দেবে সরকার: ড. তিতুমীর

 

দেশের প্রযুক্তি খাতের বিকাশ, দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নাগরিক সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা করছে সরকার। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিদ্যমান কর নীতি, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ও ভূমিকা নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে।

 

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডার হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-সিলিকন ভ্যালি প্রযুক্তি সংলাপ’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান।

লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল আয়োজিত ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রযুক্তি, মেধা ও অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক এই সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিনিধিদল সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।

পড়ুন>>প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও দুর্নীতি রোধে ২৩ দফা নির্দেশনা সরকারের

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও সঞ্চালনা করেন কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

উপদেষ্টা ড. তিতুমীর বলেন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং নাগরিক সেবার মান নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, এর জন্য দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প চিহ্নিত করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।

পড়ুন>>পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর এই প্রতিনিধিদলে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ছাড়াও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

সংলাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. শরিফা সুলতানা, উবারের প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং এনভিডিয়ার গবেষক ড. মোস্তফা পাটোয়ারী প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেন গ্লোবালফাউন্ড্রিজের ড. মাহবুব রাশেদ।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডেভিসের অধ্যাপক ড. সাইফ ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ক্রিডো সেমিকন্ডাক্টরের ড. শতিল হক, এক্সোরের ড. ইউসুফ হক, ইন্টেলের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান ড. ওমর ইশরাক, উল্কাসেমির মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান এবং ক্লাউডএআইয়ের বদরুল সারওয়ার।

উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, গবেষণা, শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরির মাধ্যমে সরকার প্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিএইআর সামিটসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মেধাকে উদ্ভাবনী বিনিয়োগ ও দক্ষ কর্মসংস্থানে রূপান্তর করা জরুরি।

আরও পড়ুন>>হাভানার পাশে চীন, ট্রাম্পের ‘কিউবা ভেঙে পড়বে’ মন্তব্যের পর

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রযুক্তি কূটনীতিকে পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা ও উদ্ভাবন ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতেও এই প্রযুক্তি সহযোগিতা বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের যুগে শিশুদের ডিজিটাল দক্ষতার পাশাপাশি মৌলিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শিক্ষকদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষে এআইয়ের সঠিক প্রয়োগ এবং সব শিশুর কাছে মানসম্মত শিক্ষাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে নতুন শিক্ষাপদ্ধতি মূল শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত করার আগে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আলোচনার ধারাবাহিকতায় প্রতিনিধিদল এবং আগ্রহী অংশীজনদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

Facebook Comments Box