ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী |: উদ্যোক্তা তৈরিতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজ হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্য উইন্ডিজ অধিনায়কের বাসায় ডিজে পার্টি ও মাদক উদ্ধার: অতিরিক্ত ডিআইজি জহির বরখাস্ত জাতীয় ক্রিকেট লিগ: মিঠুন ও নুরুলের শতকে প্রথম দিন খুলনার২২০ রান পটিয়ায় শিশু অপহরণের ঘটনায় পলাতক বাবা-ছেলে রামুতে গ্রেপ্তার সাফে ২৩ বছরের দীর্ঘ খরা কাটাতে চায় বাংলাদেশ জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরে ৯৫ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন শুরু ২৯ অক্টোবর পরিবার নয়, মানুষের পরিচয় তার চরিত্রে: প্রভা চাকরি হারালেন সাবেক ডিবিপ্রধান হারুনসহ সাত পুলিশ কর্মকর্তা এইচএসসিতে অকৃতকার্য ৪ লাখ ২২ হাজার শিক্ষার্থীর বিশেষ পরীক্ষার সুযোগ

প্রধানমন্ত্রী |: উদ্যোক্তা তৈরিতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৫:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুবসমাজকে যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি ও অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, জাতীয় সংকট মোকাবিলা এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় তরুণদের অবদান অনস্বীকার্য। ১ নভেম্বর রবিবার জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদ্‌যাপন উপলক্ষে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এবারের যুব দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী জানান, নতুন প্রজন্মের মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীল উদ্যোগকে কাজে লাগাতে বর্তমান সরকার নানামুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো স্টার্টআপ খাতে এমন বাজেট বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে মূলধনের অভাবে কোনো উদ্ভাবনী প্রকল্প থেমে না যায়।

তরুণদের কারিগরি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় টিকে থাকতে প্রথাগত শিক্ষার বাইরে আধুনিক জ্ঞান অর্জন করা জরুরি। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রকল্প চালু করেছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে যুবসমাজ দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি অনলাইনে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ পাচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আধুনিক, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম জনশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাণীতে দেশের যুব উন্নয়ন কার্যক্রমের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নাম ধারণ করে। এরপর তৃণমূল পর্যায়ে এই কার্যক্রম পৌঁছে দিতে ১৯৮১ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর গঠন করা হয়। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে তরুণদের আত্মকর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে প্রতিটি জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয়টি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় হিসেবে পরিচিতি পায়।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অর্জনের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, এ পর্যন্ত ৮০ লাখেরও বেশি তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন মেয়াদে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্য থেকে প্রায় ২৫ লাখ যুব আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন, যাঁদের অনেকেই বর্তমানে মাসে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা বা তারও বেশি আয় করছেন। এ ছাড়া যুব উদ্যোক্তাদের আর্থিক সংকট দূর করতে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা যুবঋণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। কেউ কেউ এর চেয়েও বেশি উপার্জন করছেন।

জাতীয় গঠনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা জাতীয় যুব পুরস্কারের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী ও যুব সংগঠককে এই বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। বাণীতে তিনি এ বছর পুরস্কারপ্রাপ্তদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে তরুণদের পরিবেশ সংরক্ষণে এগিয়ে আসার বিষয়টিও প্রশংসা পান। জাতীয় যুব পুরস্কারকে যুবসমাজের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতি গঠনে অবদানের জন্য এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী নারী-পুরুষ ও যুব সংগঠককে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

আগামীর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও কর্মসংস্থানের কথা মাথায় রেখে স্মার্ট কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং এবং বিদেশি ভাষা শিক্ষাসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়াতে জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। বাণীর শেষাংশে তিনি দেশের যুবসমাজকে নিজেদের প্রতিভা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটিয়ে জাতীয় উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রধানমন্ত্রী |: উদ্যোক্তা তৈরিতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে

আপডেট সময় : ১০:৪৫:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

যুবসমাজকে যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি ও অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, জাতীয় সংকট মোকাবিলা এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় তরুণদের অবদান অনস্বীকার্য। ১ নভেম্বর রবিবার জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদ্‌যাপন উপলক্ষে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এবারের যুব দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী জানান, নতুন প্রজন্মের মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীল উদ্যোগকে কাজে লাগাতে বর্তমান সরকার নানামুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো স্টার্টআপ খাতে এমন বাজেট বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে মূলধনের অভাবে কোনো উদ্ভাবনী প্রকল্প থেমে না যায়।

তরুণদের কারিগরি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় টিকে থাকতে প্রথাগত শিক্ষার বাইরে আধুনিক জ্ঞান অর্জন করা জরুরি। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রকল্প চালু করেছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে যুবসমাজ দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি অনলাইনে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ পাচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আধুনিক, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম জনশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাণীতে দেশের যুব উন্নয়ন কার্যক্রমের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নাম ধারণ করে। এরপর তৃণমূল পর্যায়ে এই কার্যক্রম পৌঁছে দিতে ১৯৮১ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর গঠন করা হয়। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে তরুণদের আত্মকর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে প্রতিটি জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয়টি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় হিসেবে পরিচিতি পায়।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অর্জনের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, এ পর্যন্ত ৮০ লাখেরও বেশি তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন মেয়াদে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্য থেকে প্রায় ২৫ লাখ যুব আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন, যাঁদের অনেকেই বর্তমানে মাসে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা বা তারও বেশি আয় করছেন। এ ছাড়া যুব উদ্যোক্তাদের আর্থিক সংকট দূর করতে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা যুবঋণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। কেউ কেউ এর চেয়েও বেশি উপার্জন করছেন।

জাতীয় গঠনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা জাতীয় যুব পুরস্কারের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী ও যুব সংগঠককে এই বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। বাণীতে তিনি এ বছর পুরস্কারপ্রাপ্তদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে তরুণদের পরিবেশ সংরক্ষণে এগিয়ে আসার বিষয়টিও প্রশংসা পান। জাতীয় যুব পুরস্কারকে যুবসমাজের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতি গঠনে অবদানের জন্য এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী নারী-পুরুষ ও যুব সংগঠককে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

আগামীর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও কর্মসংস্থানের কথা মাথায় রেখে স্মার্ট কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং এবং বিদেশি ভাষা শিক্ষাসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়াতে জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। বাণীর শেষাংশে তিনি দেশের যুবসমাজকে নিজেদের প্রতিভা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটিয়ে জাতীয় উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

Facebook Comments Box