ঢাকা ১২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

নেত্রকোনায় নিখোঁজের ছয় দিন পর প্রাক্তন স্ত্রী উদ্ধার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নেত্রকোনায় নাজু আক্তার (৩৫) নামের এক নারী নিখোঁজের ছয় দিন পর তার মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঢুকিয়ালি নদের পাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নাজুর সাবেক স্বামী নুরুল আমিনকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল তার সাবেক স্ত্রীকে হত্যার পর নদীর পাড়ে মাটিচাপা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রায় ১৪ বছর আগে নাজু আক্তার ও নুরুল আমিনের বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য ও পুলিশের তথ্যমতে, আড়াই বছর আগে দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর তাঁদের মধ্যে দুই দফায় বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর দেনমোহর বাবদ নুরুল দুই দফায় দুই লাখ টাকা পরিশোধ করলেও, নাজু তার বিরুদ্ধে খোরপোশ ও ধর্ষণের মামলা করেছিলেন। মামলাটি মীমাংসার জন্য নাজু পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন বলে জানা গেছে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নাজু আক্তার জেলা শহরে কীটনাশক কিনতে গেলে নুরুল আমিনের সঙ্গে তার দেখা হয়। সেই সময় টাকা দাবি নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও মুঠোফোন টানাটানি হয়। স্থানীয়রা সে সময় তাঁদের নিবৃত্ত করেছিলেন। ঘটনার রাতে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নুরুল ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে নাজুকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। বাড়ির কাছাকাছি খাটপুড়া সেতুর কাছে পুনরায় বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে নুরুল নাজুর বুকে ঘুষি মারেন এবং মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন।

নাজু বাড়ি না ফেরায় গত ২২ সেপ্টেম্বর তার ছোট ভাই মো. শুভ নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এই জিডির সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে পুলিশ নুরুল আমিনকে আটক করে। নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের জানিয়েছেন, আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মাটি খুঁড়ে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নেত্রকোনায় নিখোঁজের ছয় দিন পর প্রাক্তন স্ত্রী উদ্ধার

আপডেট সময় : ১০:২৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেত্রকোনায় নাজু আক্তার (৩৫) নামের এক নারী নিখোঁজের ছয় দিন পর তার মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঢুকিয়ালি নদের পাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নাজুর সাবেক স্বামী নুরুল আমিনকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল তার সাবেক স্ত্রীকে হত্যার পর নদীর পাড়ে মাটিচাপা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রায় ১৪ বছর আগে নাজু আক্তার ও নুরুল আমিনের বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য ও পুলিশের তথ্যমতে, আড়াই বছর আগে দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর তাঁদের মধ্যে দুই দফায় বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর দেনমোহর বাবদ নুরুল দুই দফায় দুই লাখ টাকা পরিশোধ করলেও, নাজু তার বিরুদ্ধে খোরপোশ ও ধর্ষণের মামলা করেছিলেন। মামলাটি মীমাংসার জন্য নাজু পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন বলে জানা গেছে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নাজু আক্তার জেলা শহরে কীটনাশক কিনতে গেলে নুরুল আমিনের সঙ্গে তার দেখা হয়। সেই সময় টাকা দাবি নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও মুঠোফোন টানাটানি হয়। স্থানীয়রা সে সময় তাঁদের নিবৃত্ত করেছিলেন। ঘটনার রাতে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নুরুল ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে নাজুকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। বাড়ির কাছাকাছি খাটপুড়া সেতুর কাছে পুনরায় বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে নুরুল নাজুর বুকে ঘুষি মারেন এবং মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন।

নাজু বাড়ি না ফেরায় গত ২২ সেপ্টেম্বর তার ছোট ভাই মো. শুভ নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এই জিডির সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে পুলিশ নুরুল আমিনকে আটক করে। নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের জানিয়েছেন, আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মাটি খুঁড়ে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Facebook Comments Box