নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ: অস্কারজয়ী সুসান সারান্ডনসহ গ্রেপ্তার প্রায় ১০০
- আপডেট সময় : ০৬:০৩:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ: অস্কারজয়ী সুসান সারান্ডনসহ গ্রেপ্তার প্রায় ১০০
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানোর সময় অস্কারজয়ী অভিনেত্রী ও রাজনৈতিক কর্মীসহ প্রায় ১০০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে কেন্দ্র করে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা গাজায় চলমান হামলায় ৭২ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য নেতানিয়াহুকে সরাসরি দায়ী করে তাঁকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিহিত করেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে পুলিশের তথ্যের বরাতে জানানো হয়, ম্যানহাটনের মিডটাউন এলাকা থেকে প্রায় ১০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিখ্যাত মার্কিন অভিনেত্রী ও অস্কারজয়ী সুসান সারান্ডন, এমি পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডার, ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেসপ্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের এবং নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য চি ওসে।
পড়ুন>>শি জিনপিংয়ের সম্মানে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের জাঁকজমকপূর্ণ নৈশভোজ
ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ইহুদি সংগঠন ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’ জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে এই সমাবেশের ডাক দেয়। সেখানে প্রায় ২০০ বিক্ষোভকারী সাদা রঙের বিশেষ টি-শার্ট পরে জড়ো হন। তাঁদের পোশাকে লেখা ছিল ‘বোমা নয়, মানুষের জন্য অর্থ দাও’, ‘যুদ্ধ বন্ধ করো’ এবং ‘ফিলিস্তিনকে মুক্ত করো’।
বিক্ষোভের কারণে রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে পুলিশ লাউডস্পিকারে তাঁদের চলে যাওয়ার অনুরোধ করে। অনেকে সরে গেলেও একদল প্রতিবাদকারী রাস্তায় বসে স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর সাইকেলে আসা পুলিশ সদস্যরা চারপাশ থেকে তাঁদের ঘিরে ফেলেন।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় বসে থাকা আন্দোলনকারীদের একে একে টেনে নিয়ে হাত বেঁধে ফেলেন। প্লাস্টিকের জিপ টাই দিয়ে হাত বাঁধার পর তাঁদের পুলিশের বিশেষ বাসে তোলা হয়। বাসে তোলার সময়ও বাইরে থাকা কর্মীরা ‘নেতানিয়াহু জাহান্নামে যাও’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
পড়ুন>>এশিয়ান গেমসে আফগানিস্তানকে হারিয়ে নেপালের বড় অঘটন
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ৫০ বছর বয়সী মানিজেহ মোরাদিয়ান বলেন, গাজায় পুরো একটি সমাজকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে, যা তাঁদের করের অর্থে হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা তাঁদের দায়িত্ব। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চ ব্যবহার করে নেতানিয়াহুর এই নৃশংসতার সাফাই গাওয়ার কোনো অধিকার নেই।
এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার জন্য নেতানিয়াহু যখন মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান, তখন সেখানে তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বহু দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা একযোগে সাধারণ পরিষদ কক্ষ ত্যাগ করে বাইরে চলে যান।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু পোডিয়ামের দিকে যাওয়ার সময় হলের ভেতর প্রতিনিধিদের একটি অংশ উচ্চস্বরে দুয়ো দিতে শুরু করেন। তবে এই বিরোধিতার মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ও নিজস্ব প্রতিনিধিরা দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান।
আরও পড়ুন>> দুর্গাপূজায় সরকারি কর্মচারীদের টানা ৭ দিনের ছুটির সুযোগ যেভাবে
বক্তব্যে নেতানিয়াহু মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান একাকীত্ব ও বিচ্ছিন্নতা ঠেকাতেই তিনি এমন জোরালো বক্তব্য দেন। উল্লেখ্য, দেশের মাটিতেও নেতানিয়াহু একটি কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন, যেখানে আসন্ন নির্বাচনে তাঁর পরাজয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ























