নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনায় প্রতিরোধে মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৫:০৮:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৬ সালের বার্ষিক ‘ট্রাফিকিং ইন পারসনস রিপোর্ট’-এ মানব পাচার নির্মূলে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ৮ অক্টোবর প্রকাশিত এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ মানব পাচার রোধের ন্যূনতম মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করতে সক্ষম হয়নি। তবে সরকার এ লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পূর্বের প্রতিবেদনের সময়ের তুলনায় সামগ্রিক অগ্রগতির কারণে এবারও বাংলাদেশকে ‘টায়ার-২’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে।
পাচার প্রতিরোধে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে সরকার ইতিমধ্যে ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। এছাড়া পাচারের ঘটনায় তদন্তের পরিধি বাড়ানো, মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অপরাধ শনাক্তকরণের নির্দেশিকা হালনাগাদ করার কাজ চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দ্রুত সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে একটি ডিজিটাল ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম বা এনআরএম পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে এবং অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছরগুলোর তুলনায় মানব পাচারবিরোধী উদ্যোগ জোরদার হলেও অপরাধীদের দণ্ডিত করার সংখ্যা কমেছে।
প্রতিবেদনে সরকারের প্রচেষ্টার পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং তাদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এখনো পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বিদেশ থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকরা মানব পাচারের ক্ষেত্রে অধিক ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। এছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে উচ্চহারে নিয়োগ ফি আদায়ের বিষয়টি এখনো বন্ধ হয়নি, যা তাদের ঋণগ্রস্ত করে তুলছে এবং পাচারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এসব ফি দিতে গিয়ে অনেক শ্রমিক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন, যা তাদের মানব পাচারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমাস ‘টমি’ পিগট জানিয়েছেন, মানব পাচার স্বাধীনতা ও মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত, যা আমেরিকার মৌলিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। ২০২৬ সালের এই প্রতিবেদনে অপরাধী চক্রগুলো আর্থিক লাভের জন্য পাচারের ক্ষেত্রে যে নতুন নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করছে, তা বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাচারকারীদের শাস্তি দিতে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যর্থ দেশগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পিগট আরও বলেন, পাচারকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং তাদের বিচারের আওতায় আনতে ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের আইনি ও বিদ্যমান উপায় ব্যবহার করবে। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে অপরাধী সংগঠন ও দমনমূলক শাসনব্যবস্থাগুলো কীভাবে আর্থিক লাভের জন্য এই ঘৃণ্য অপরাধের নতুন নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করছে, তা তুলে ধরা হয়েছে।
সূত্র: মানবজমিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























