ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীতে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ ​নাগেশ্বরীতে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস ডোমারে উদযাপন কাউনিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন   কাউনিয়ায় যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আনন্দ র‍্যালি তারেক রহমান ও বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালাচ্ছে ফ্যাসিস্ট ও গুপ্ত বাহিনী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার নির্ধারণী কর্মশালা ও উপাচার্যের দিকনির্দেশনা চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের নিয়োগ, আবেদন শুরু নভেম্বরে ঢালচরের পর্যটন বিকাশে মতবিনিময় করল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন

তাহিরপুর ঘুমন্ত কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা

সুনামগঞ্জ থেকে আমির হোসেন
  • আপডেট সময় : ১০:০৯:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০২৪ ৩৭২ বার পড়া হয়েছে

তাহিরপুর ঘুমন্ত কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তাহিরপুর ঘুমন্ত কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা

সুনামগঞ্জ তাহিরপুর পূর্ব বিরোধের জের ধরে রাতের আধারে ঘুমের মধ্যে এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে।

গুরুতর আহত কিশোরের নাম মনির হোসেন (১৫)। সে উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ছিলানী তাহিরপুর গ্রামের মৃত মোছাব্বির মিয়ার ছেলে।

শুক্রবার (২২ মার্চ) শেষ রাতে আহত কিশোরের নিজ ঘরের বারান্দা রুমের মধ্যে এই ছুরিকাঘাতের ঘটনাটি ঘটেছে। গুরুতর আহত কিশোর বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুশর্য্যায় রয়েছে। এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় গ্রামে এখন আতংক বিরাজ করছে।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকালে ছিলানী তাহিরপুর গ্রামের সামনের একটি চায়ের দোকানে মৃত মোসাব্বির মিয়ার বড় ছেলে তোফায়েল এবং পাশ্ববর্তী জয়পুর গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আল আমিনের মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়।

পরে গ্রামের মুরব্বিরা বসে তাৎক্ষণিক দুইজনকে মিলিয়ে মিমাংসা করে দেন। গত শুক্রবার তোফায়েলের ছোট ভাই মনির হোসেন রাতের খাবার খেয়ে নিজ বাড়ির ঘরের বারান্দার রুমে একা ঘুমিয়ে পড়ে।

হঠাৎ গভীর রাতে তার চিৎকার চেচামেচি শুনে ঘর থেকে লোকজন বেরিয়ে এসে দেখেন সে বিছানার মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে চটপট করছে।

তখন পরিবারের লোকজন জানতে চাইলে সে জানায়, জয়পুর গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আল আমিন সহ কয়েকজন বারান্দার রুমে ডুকে তার মুখ চেপে ধরে ছুরিকাঘাত করে দ্রুত বের হয়ে গেছে

। তখন ঘটনাটি থানায় জানালে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে এসে আহত মনিরকে উদ্ধার করে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্হ্য নিয়ে ভর্তি করে। এখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তার অবস্থা বেগতিক দেখে ভোর রাতে তাকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে গত দুইদিন ধরে গুরুতর আহত কিশোর মনির হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুশয্যায় রয়েছে।

গুরুতর আহত কিশোরের বড় ভাই তোফায়েল জানান, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আমার সঙ্গে দোকানে কথাকাটাকাটি হয়েছিল। এর জের ধরেই আমার বাড়িতে এসে আমাকে না পেয়ে আমার ছোট ভাইকে রাতে ঘুমের মধ্যে ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টা করেছে আলামিন গংরা। তিনি প্রশাসনের কাছে এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মির্জা রিয়াদ হাসান বলেন, আহত রুগিটির অবস্থা আশংকাজনক। তার পেটে এবং উড়ুতে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার অবস্থা ক্রিটিকাল হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন বলেন, ঘটনাটি মর্মান্তক। পুলিশ সংবাদ পাওয়া মাত্রই আহত কিশোরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় তাহিরপুর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তাহিরপুর ঘুমন্ত কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা

আপডেট সময় : ১০:০৯:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০২৪

তাহিরপুর ঘুমন্ত কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা

সুনামগঞ্জ তাহিরপুর পূর্ব বিরোধের জের ধরে রাতের আধারে ঘুমের মধ্যে এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে।

গুরুতর আহত কিশোরের নাম মনির হোসেন (১৫)। সে উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ছিলানী তাহিরপুর গ্রামের মৃত মোছাব্বির মিয়ার ছেলে।

শুক্রবার (২২ মার্চ) শেষ রাতে আহত কিশোরের নিজ ঘরের বারান্দা রুমের মধ্যে এই ছুরিকাঘাতের ঘটনাটি ঘটেছে। গুরুতর আহত কিশোর বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুশর্য্যায় রয়েছে। এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় গ্রামে এখন আতংক বিরাজ করছে।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকালে ছিলানী তাহিরপুর গ্রামের সামনের একটি চায়ের দোকানে মৃত মোসাব্বির মিয়ার বড় ছেলে তোফায়েল এবং পাশ্ববর্তী জয়পুর গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আল আমিনের মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়।

পরে গ্রামের মুরব্বিরা বসে তাৎক্ষণিক দুইজনকে মিলিয়ে মিমাংসা করে দেন। গত শুক্রবার তোফায়েলের ছোট ভাই মনির হোসেন রাতের খাবার খেয়ে নিজ বাড়ির ঘরের বারান্দার রুমে একা ঘুমিয়ে পড়ে।

হঠাৎ গভীর রাতে তার চিৎকার চেচামেচি শুনে ঘর থেকে লোকজন বেরিয়ে এসে দেখেন সে বিছানার মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে চটপট করছে।

তখন পরিবারের লোকজন জানতে চাইলে সে জানায়, জয়পুর গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আল আমিন সহ কয়েকজন বারান্দার রুমে ডুকে তার মুখ চেপে ধরে ছুরিকাঘাত করে দ্রুত বের হয়ে গেছে

। তখন ঘটনাটি থানায় জানালে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে এসে আহত মনিরকে উদ্ধার করে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্হ্য নিয়ে ভর্তি করে। এখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তার অবস্থা বেগতিক দেখে ভোর রাতে তাকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে গত দুইদিন ধরে গুরুতর আহত কিশোর মনির হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুশয্যায় রয়েছে।

গুরুতর আহত কিশোরের বড় ভাই তোফায়েল জানান, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আমার সঙ্গে দোকানে কথাকাটাকাটি হয়েছিল। এর জের ধরেই আমার বাড়িতে এসে আমাকে না পেয়ে আমার ছোট ভাইকে রাতে ঘুমের মধ্যে ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টা করেছে আলামিন গংরা। তিনি প্রশাসনের কাছে এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মির্জা রিয়াদ হাসান বলেন, আহত রুগিটির অবস্থা আশংকাজনক। তার পেটে এবং উড়ুতে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার অবস্থা ক্রিটিকাল হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন বলেন, ঘটনাটি মর্মান্তক। পুলিশ সংবাদ পাওয়া মাত্রই আহত কিশোরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় তাহিরপুর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Facebook Comments Box