ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রেনের শেষ বগিতেই ৩৫ বছরের জীবন কাটিয়ে দিলেন সিরাজ মিয়া খুলনায় ১৫ মাস বকেয়া বেতনে ৩০ কর্মীকে ছাঁটাই বিমান কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যায় দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সাজেকে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে দেড় ঘণ্টা গোলাগুলি ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে জামানত হারালেন চরমোনাইয়ের প্রার্থীসহ তিনজন প্রতিবন্ধকতা জয় করে পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ: অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে স্বপ্ন ছোঁয়া কলি রানীর গল্প আলোর পথে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থীর আত্মসমর্পণ ৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস, শেফালীর সাফল্যে গর্বিত পরিবার পিংক অক্টোবর শেষ, ক্যানসার চিকিৎসায় বিশেষ কর্মসূচিতে সিএসসিআর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পিসিডিতে ২২০ জনের বড় নিয়োগ

খুলনায় ১৫ মাস বকেয়া বেতনে ৩০ কর্মীকে ছাঁটাই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫১:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ৩০ জন আউটসোর্সিং কর্মীকে একযোগে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ার অভিযোগের মধ্যেই এই ছাঁটাইয়ের ঘটনায় কর্মীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ নিয়ে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।

ঘটনার সূত্রপাত খুলনার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ২৬ অক্টোবরের একটি পত্রের মাধ্যমে। ডা. মো. মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মীদের অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত বেতন পরিশোধের শর্ত পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং জনবলের ১৫ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। তাই রাজস্ব খাতের কর্মচারীদের মাধ্যমে সেবাকার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অব্যাহতিপ্রাপ্ত কর্মীদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স তাকদির এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের দায়িত্ব পালনের শর্ত ছিল। বর্তমান সিভিল সার্জন সেই চুক্তি উপেক্ষা করে সব কর্মীকে ছাঁটাই করেছেন। তার অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের পেছনে ঘুষ নেওয়ার উদ্দেশ্য রয়েছে। তবে সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামান এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, ‘ঘুষ চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’ মনিরুজ্জামান বলেন, ঠিকাদারের সঙ্গে আমার এখনো কথা হয়নি।

কর্মীদের ছাঁটাইয়ের ফলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের ওয়ার্ড ও বারান্দায় ময়লা-আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। রোগীদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, সিভিল সার্জনের নির্দেশেই এই অব্যাহতি কার্যকর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে ইতিমধ্যে এক বছরের বেতন-ভাতার অর্থ আইবাসে (iBAS) চলে এসেছে, তবে একসঙ্গে বিশাল সংখ্যক কর্মীকে ছাঁটাই করায় রাজস্ব খাতের স্বল্প জনবল দিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবেশ এতটাই অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে যে রোগীদের কেউ কেউ কাপড় দিয়ে নাক ঢেকে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

এদিকে বকেয়া বেতন পরিশোধ ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে গত ১ নভেম্বর (রোববার) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন অব্যাহতিপ্রাপ্ত কর্মীরা। এতে মো. মাহাবুবুর রহমান, মো. মাসুদুর রহমান, মো. আফজাল হোসেন, আবদুর রউফ, মো. আহম্মেদ মোস্তজা, আনিসুজ্জামান টুটুল, আবদুল কাদের ও মো. আশিকুর রহমানসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।

কর্মীদের দাবি, ১৫ মাস ধরে বেতন না পাওয়ার দায় তাদের নয়। তারা জানান, ইতিমধ্যে এক বছরের বেতন-ভাতা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাবে জমা হয়েছে এবং কেবল অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়াটি বাকি ছিল। এমন পরিস্থিতিতে চাকরি হারানোয় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

সিভিল সার্জন অবশ্য দাবি করেছেন, বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল বলেই কর্মীদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, দ্রুতই তাদের পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে সেবা কার্যক্রম ভেঙে পড়ায় স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

খুলনায় ১৫ মাস বকেয়া বেতনে ৩০ কর্মীকে ছাঁটাই

আপডেট সময় : ১০:৫১:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ৩০ জন আউটসোর্সিং কর্মীকে একযোগে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ার অভিযোগের মধ্যেই এই ছাঁটাইয়ের ঘটনায় কর্মীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ নিয়ে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।

ঘটনার সূত্রপাত খুলনার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ২৬ অক্টোবরের একটি পত্রের মাধ্যমে। ডা. মো. মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মীদের অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত বেতন পরিশোধের শর্ত পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং জনবলের ১৫ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। তাই রাজস্ব খাতের কর্মচারীদের মাধ্যমে সেবাকার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অব্যাহতিপ্রাপ্ত কর্মীদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স তাকদির এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের দায়িত্ব পালনের শর্ত ছিল। বর্তমান সিভিল সার্জন সেই চুক্তি উপেক্ষা করে সব কর্মীকে ছাঁটাই করেছেন। তার অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের পেছনে ঘুষ নেওয়ার উদ্দেশ্য রয়েছে। তবে সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামান এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, ‘ঘুষ চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’ মনিরুজ্জামান বলেন, ঠিকাদারের সঙ্গে আমার এখনো কথা হয়নি।

কর্মীদের ছাঁটাইয়ের ফলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের ওয়ার্ড ও বারান্দায় ময়লা-আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। রোগীদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, সিভিল সার্জনের নির্দেশেই এই অব্যাহতি কার্যকর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে ইতিমধ্যে এক বছরের বেতন-ভাতার অর্থ আইবাসে (iBAS) চলে এসেছে, তবে একসঙ্গে বিশাল সংখ্যক কর্মীকে ছাঁটাই করায় রাজস্ব খাতের স্বল্প জনবল দিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবেশ এতটাই অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে যে রোগীদের কেউ কেউ কাপড় দিয়ে নাক ঢেকে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

এদিকে বকেয়া বেতন পরিশোধ ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে গত ১ নভেম্বর (রোববার) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন অব্যাহতিপ্রাপ্ত কর্মীরা। এতে মো. মাহাবুবুর রহমান, মো. মাসুদুর রহমান, মো. আফজাল হোসেন, আবদুর রউফ, মো. আহম্মেদ মোস্তজা, আনিসুজ্জামান টুটুল, আবদুল কাদের ও মো. আশিকুর রহমানসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।

কর্মীদের দাবি, ১৫ মাস ধরে বেতন না পাওয়ার দায় তাদের নয়। তারা জানান, ইতিমধ্যে এক বছরের বেতন-ভাতা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাবে জমা হয়েছে এবং কেবল অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়াটি বাকি ছিল। এমন পরিস্থিতিতে চাকরি হারানোয় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

সিভিল সার্জন অবশ্য দাবি করেছেন, বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল বলেই কর্মীদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, দ্রুতই তাদের পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে সেবা কার্যক্রম ভেঙে পড়ায় স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

Facebook Comments Box