ঢাকা ০৭:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এনসিসি ব্যাংকে শাখা ব্যবস্থাপক পদে নিয়োগ তাড়াশ উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিঃ পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন রাণীশংকৈলে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন দোহা–রিয়াদ রুটে কাতার এয়ারওয়েজের একাধিক ফ্লাইট বাতিল বিরল ও পীরগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও মদ উদ্ধার রাণীশংকৈলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা, ৫৫ মণ্ডপের নিরাপত্তায় জোর দিল্লি পুলিশ আমাকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনায় করেছে: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাদরাসার সাবেক উপাধ্যক্ষের পেনশন বণ্টন নিয়ে পরিবারের বিরোধ তাহিরপুরে থমকে গেছে ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগের বিচার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও

কৃষিপণ্য আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:১২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

কৃষিপণ্য আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

 

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও অগ্রগতি সন্তোষজনক। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে দেশ পর্যায়ক্রমে কৃষিপণ্য আমদানি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসবে।

 

গতকাল কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় কৃষি সচিব মো. সেলিম খান উপস্থিত ছিলেন।

পড়ুন>>বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্সের সদস্য সচিব হলেন শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ

 

মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই, বরং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সার মজুত রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার সারের মজুত পরিস্থিতি অনেক ভালো। সারের কৃত্রিম সংকটের কথা বলে যারা বিভ্রান্তি তৈরি করছে, তা একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

কৃষি খাতের উন্নয়ন ও সরকারের বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, প্রতি মাসে সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ কৃষকের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হবে। ইতোমধ্যে পাইলট পর্যায়ে প্রায় ১৪ লাখ কৃষকের ডেটাবেজ প্রস্তুত করা হয়েছে, যা কৃষকদের সরকারি সেবা প্রাপ্তি সহজতর করবে।

বৃক্ষরোপণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের তথ্য দিয়ে মন্ত্রী জানান, গত ছয় মাসে ২৫ লাখ গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ২৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি চারা রোপণ করা সম্ভব হয়েছে। একই সময়ে ৪৭৮ দশমিক ৯ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪৭৫ দশমিক ৬১ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে।

পড়ুন>>ভারতীয় বিমানের ওপর পাকিস্তানি আকাশসীমা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ল

 

পেঁয়াজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ বিষয়ে তিনি বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। আগে সংরক্ষণের অভাবে পেঁয়াজ পচে নষ্ট হতো, তবে বর্তমানে প্রযুক্তির কল্যাণে ছয় মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। আগামীতে ৩ লাখ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণের অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

পাটবীজ, পেঁয়াজবীজ ও আদার ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা থেকে পর্যায়ক্রমে বের হয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে কোনো কৃষিপণ্য যেন বাইরে থেকে আমদানি করতে না হয়। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের অংশ হিসেবে আগামী বছর থেকে ‘ব্রি ১১৮’ নামের নতুন একটি ধানের জাতের চাষ শুরু হবে। এই জাতটি হাওর অঞ্চলে প্রচলিত সময়ের ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই রোপণ করা সম্ভব হবে। ফলে আগাম বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষায় এই নতুন জাতটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন>>ইসরাইল রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে: রুশ সামরিক কর্মকর্তা

কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সেচ খরচ একটি বড় চিন্তার বিষয়। সেচের জন্য ব্যবহৃত দেশের সব পাম্প সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ইতোমধ্যে ৬০ থেকে ৬২ হাজার পাম্প সৌরবিদ্যুতে পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

 

কৃষিভিত্তিক দেশ হিসেবে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণের ওপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। D/ A

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কৃষিপণ্য আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:১২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

 

কৃষিপণ্য আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

 

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও অগ্রগতি সন্তোষজনক। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে দেশ পর্যায়ক্রমে কৃষিপণ্য আমদানি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসবে।

 

গতকাল কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় কৃষি সচিব মো. সেলিম খান উপস্থিত ছিলেন।

পড়ুন>>বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্সের সদস্য সচিব হলেন শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ

 

মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই, বরং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সার মজুত রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার সারের মজুত পরিস্থিতি অনেক ভালো। সারের কৃত্রিম সংকটের কথা বলে যারা বিভ্রান্তি তৈরি করছে, তা একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

কৃষি খাতের উন্নয়ন ও সরকারের বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, প্রতি মাসে সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ কৃষকের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হবে। ইতোমধ্যে পাইলট পর্যায়ে প্রায় ১৪ লাখ কৃষকের ডেটাবেজ প্রস্তুত করা হয়েছে, যা কৃষকদের সরকারি সেবা প্রাপ্তি সহজতর করবে।

বৃক্ষরোপণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের তথ্য দিয়ে মন্ত্রী জানান, গত ছয় মাসে ২৫ লাখ গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ২৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি চারা রোপণ করা সম্ভব হয়েছে। একই সময়ে ৪৭৮ দশমিক ৯ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪৭৫ দশমিক ৬১ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে।

পড়ুন>>ভারতীয় বিমানের ওপর পাকিস্তানি আকাশসীমা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ল

 

পেঁয়াজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ বিষয়ে তিনি বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। আগে সংরক্ষণের অভাবে পেঁয়াজ পচে নষ্ট হতো, তবে বর্তমানে প্রযুক্তির কল্যাণে ছয় মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। আগামীতে ৩ লাখ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণের অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

পাটবীজ, পেঁয়াজবীজ ও আদার ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা থেকে পর্যায়ক্রমে বের হয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে কোনো কৃষিপণ্য যেন বাইরে থেকে আমদানি করতে না হয়। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের অংশ হিসেবে আগামী বছর থেকে ‘ব্রি ১১৮’ নামের নতুন একটি ধানের জাতের চাষ শুরু হবে। এই জাতটি হাওর অঞ্চলে প্রচলিত সময়ের ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই রোপণ করা সম্ভব হবে। ফলে আগাম বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষায় এই নতুন জাতটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন>>ইসরাইল রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে: রুশ সামরিক কর্মকর্তা

কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সেচ খরচ একটি বড় চিন্তার বিষয়। সেচের জন্য ব্যবহৃত দেশের সব পাম্প সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ইতোমধ্যে ৬০ থেকে ৬২ হাজার পাম্প সৌরবিদ্যুতে পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

 

কৃষিভিত্তিক দেশ হিসেবে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণের ওপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। D/ A

 

 

Facebook Comments Box