এল ক্লাসিকোয় মরিনহোর তিন কৌশলে কুপোকাত বার্সেলোনা
- আপডেট সময় : ১১:০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
এল ক্লাসিকোয় মরিনহোর তিন কৌশলে কুপোকাত বার্সেলোনা
এল ক্লাসিকোর অনিশ্চিত সমীকরণ যেন নতুন করে প্রমাণিত হলো সর্বশেষ ম্যাচে। ন্যু ক্যাম্পে রিয়াল মাদ্রিদ যে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেবে, তা অনেকের ধারণার বাইরে ছিল। তবে কোচ জোসে মরিনহোর নিখুঁত পরিকল্পনার সামনে বার্সেলোনার সব সমীকরণ ব্যর্থ হয়েছে। ম্যাচের আগে ও চলাকালীন নেওয়া মরিনহোর তিনটি বড় সিদ্ধান্ত এই জয়ের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। লোকে বলে এল ক্লাসিকো নাকি অত হিসাব-নিকাশের ধার ধারে না।
এই ম্যাচ রিয়াল মাদ্রিদ জিতবে, তা বোধ হয় পাঁড় রিয়াল-ভক্তও ভাবেননি। তুলে নিয়েছে ২-১ গোলের দুর্দান্ত এক জয়। আর এই দাপুটে জয়ের নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছেন দলটির কোচ জোসে মরিনিও। বার্সেলোনার বিপক্ষে সেটাই গছিয়ে দেওয়া হয় তার কাঁধে, সে ভূমিকাতে তিনি শুধু উতরেই যাননি, দলকেও তরিয়ে দিয়েছেন দারুণভাবে। সেই বার্সার প্রেসকে হারানোর কার্যকর উপায় এই রাতে বের করে দেখিয়েছেন মরিনিও।
পড়ুন>>ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ কার্যক্রম স্থগিত করল সরকার
মাস্টারস্ট্রোকের প্রথমটি ছিল বের্নার্দো সিলভাকে কেন্দ্র করে।
এই ম্যাচে মরিনহো তার পুরনো ৪ জনের মিডফিল্ড কৌশলে ফিরে যান, যেখানে ডাবল পিভোটে রক্ষণাত্মক দায়িত্ব পালন করেন সিলভা। রিয়াল মাদ্রিদে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র চারবার শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া সিলভাকে এবার ভিন্ন এক ভূমিকায় দেখা গেছে। সিলভার মতো প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ একজন খেলোয়াড় রক্ষণের দায়িত্ব সামলানোর ফলে রিয়ালের মাঝমাঠে অভাবনীয় ভারসাম্য তৈরি হয়, যা দলটির আক্রমণভাগকে আরও সৃজনশীল হওয়ার সুযোগ করে দেয়। কিন্তু শেষমেশ হলো সে ‘অভাবনীয়’ ঘটনাটাই। এই এক সিদ্ধান্তই রিয়ালের মাঝমাঠে ভারসাম্য নিয়ে এসেছে। তাও সেসব ম্যাচে তিনি খেলেছেন আরও বেশি সেন্ট্রাল ভূমিকায়। সিলভার মতো একজন টেকনিক্যাল খেলোয়াড়, যিনি আবার রক্ষণকাজটাও সারছেন দুর্দান্তভাবে, এমন একজনের উপস্থিতি দলের ওপরের দিকের খেলোয়াড়দের নির্ভার করে দেয়।
পড়ুন>>ডিমলায় বিআরটিসির অবৈধ পাথর বোঝাই ট্রাক আটক
দ্বিতীয়ত, হানসি ফ্লিকের বার্সেলোনার অতি পরিচিত প্রেসিং ফুটবলের জাল ছিন্ন করতে রিয়াল মাদ্রিদকে দারুণ কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে। মরিনহোর শিষ্যরা পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষকে নিজেদের সীমানায় টেনে নিয়ে খালি জায়গা তৈরি করার কৌশল গ্রহণ করে। বার্সার রক্ষণভাগের পেছনে থাকা বিশাল জায়গা ব্যবহার করে রিয়াল অন্তত চারবার সংখ্যাগত আধিক্য নিয়ে প্রতি-আক্রমণে বার্সার বিপদসীমায় ঢুকে পড়েছিল।
এমবাপ্পের পাশাপাশি দলের অন্য খেলোয়াড়দের লেট রান বার্সার রক্ষণকে পুরো ম্যাচে অস্বস্তিতে রেখেছে। গেল রাতের ম্যাচটা তার দারুণ একটা প্রমাণ দিয়ে গেল। দিনশেষে সেগুলোই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হয়ে গেল। মাস্টারস্ট্রোক নাম্বার ২: প্রেস রেজিস্ট্যান্সি হানসি ফ্লিকের বার্সেলোনা প্রেসিং ফুটবল খেলে অভ্যস্ত।
পড়ুন>>শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে গুঞ্জন, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন
তৃতীয় এবং শেষ মাস্টারস্ট্রোকটি ছিল এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে মাঠে নামানো। ফ্লিক যখন ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংকে নামিয়ে মাঝমাঠের দখল নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখন মরিনহো তার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি আনেন। কামাভিঙ্গাকে ওয়াইড এরিয়াতে ব্যবহার করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত জয়ের নায়ক হয়ে ওঠে। বেলিংহ্যামের বাড়ানো বল নিয়ে কামাভিঙ্গা যখন আক্রমণ তৈরি করেন, তখন তিনি পাউ কুবারসিকে দারুণ এক মুভে পরাস্ত করেন।
কামাভিঙ্গার সেই পাস থেকেই এমবাপ্পে লক্ষ্যভেদ করে রিয়াল মাদ্রিদকে জয় এনে দেন। মাস্টারস্ট্রোক নাম্বার ৩: এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা মরিনিওর শুরুর পরিকল্পনা যেমন ফল এনে দিয়েছে, তেমনি বেঞ্চ থেকে তার পরিবর্তনও ছিল সমান জরুরি।
























