ঢাকা ১২:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অনুপ্রবেশ ও অবকাঠামো নির্মাণের তীব্র নিন্দা বারবার হামলা, নাসীরুদ্দীনের নিরাপত্তা নিয়ে এনসিপির গভীর উদ্বেগ প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন আড়াই লাখের বেশি শিক্ষক সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করা জরুরি: রাষ্ট্রপতি প্রতিটি জেলা ও সিটি করপোরেশনে মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ইরানে যুদ্ধের উত্তেজনা কমার লক্ষণ দেখছেন না কূটনীতিকরা নিরাপত্তার কড়াকড়ির মধ্যেও গুলশানে কেন বাড়ছে অপরাধ? রাবিতে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা: প্রক্টর-প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কানাডার উৎসবে নাজিফা তুষির প্রথম আন্তর্জাতিক পুরস্কার

এনায়েতপুরে যমুনা নদীয়ে টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও নদীশাসনের দাবিতে মাবনবন্ধন

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) থেকে সাত্তার আব্বাসী সোহেল
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫ ১৩৩ বার পড়া হয়েছে

এনায়েতপুরে যমুনা নদীয়ে টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও নদীশাসনের দাবিতে মাবনবন্ধন

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

এনায়েতপুরে যমুনা নদীয়ে টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও নদীশাসনের দাবিতে মাবনবন্ধন

এনায়েতপুরে যমুনা নদীয়ে টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও নদীশাসনের দাবিতে মাবনবন্ধন।
“যমুনা” এক সময় যার বুকজুড়ে ভেসেছে জীবনের স্বপ্ন, আজ সেই নদীই যেন পরিণত হয়েছে করাল গ্রাসে। সে কেবল জলধারা নয়, সে এখন এক নীরব শ্মশান, যেখানে প্রতিদিন ধসে পড়ে মানুষের স্বপ্ন, স্মৃতি আর শেকড়।

 

 

সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুর থানাধীন ২নং স্থল ইউনিয়নের মানুষ আজ সেই নিঃসঙ্গ মৃত্যুর প্রতীক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। ছোট চৌহালী থেকে চালুহারা পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটারজুড়ে যমুনার অদম্য স্রোত বিলীন করে দিয়েছে একের পর এক জনপদ। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫টি গ্রাম হয়ে গেছে অস্তিত্বহীন, হারিয়ে গেছে জমি, ঘর, মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান, শিশুর বিদ্যালয় আর প্রজন্মের প্রিয় স্মৃতি।

পড়ুন>>বিউটি অব ঝিনাইগাতী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে কৃষ্ণচূড়া গাছ রোপণ

 

এই হৃদয়বিদারক প্রেক্ষাপটে ৬ জুলাই, শনিবার সকাল ১১টা, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত শত শত নারী-পুরুষ, কৃষক, জেলে, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে দাঁড়ান যমুনার তীরে, হাতে ব্যানার, চোখে কান্না, কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয় একটাই অনুরোধ, “আমাদের দাবি মানতে হবে, যমুনার তীর বাঁধতে হবে।”

 

 

এই শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে অংশ নেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বগণ। উপস্থিত ছিলেন, ২নং স্থল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন বেপারী, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান আলী মেম্বার, ইউনিয়ন তাঁতী দলের সভাপতি সন্তেষ আলী ব্যাপারী, ছাত্রনেতা রাজ আহমেদ, ইউপি সদস্য সালমা জাহান শিল্পী, রাকিবুল ইসলাম বাচ্চু, নুর আলম, বেলাল খানসহ আরও অনেকেই।

 

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “এটা কেবল জমির ক্ষতি নয়, এটা আমাদের পরিচয় হারানোর ইতিহাস।
যমুনা প্রতিদিন আমাদের গিলে খাচ্ছে, আর রাষ্ট্র নির্বিকার নীরব দর্শক হয়ে আছে। আমরা কেবল মাটি হারাচ্ছি না, হারাচ্ছি স্বপ্ন, শিক্ষা, সংস্কৃতি আর আগামী প্রজন্মের ঠিকানা।”

পড়ুপ>> সুনামগঞ্জে জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে কটুক্তি করার প্রতিবাদে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত

 

স্থানীয় কৃষক মজিবর রহমান বলেন, “আমার বাবা যেখানে চাষ করতেন, এখন সেখানে শুধু পানি আর গর্ত। আমার ছেলেরা এখন স্কুলে যায় না, কারণ আমরা আর থাকিই না নিজের ভিটায়।”

 

 

নদীভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে অসংখ্য পরিবার বাস্তুচ্যুত। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না, কৃষকের মাঠ নদীতে তলিয়ে গেছে, বৃদ্ধ মা হারিয়েছেন তাঁর জীবনের শেষ আশ্রয়টুকু।

 

 

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জোরালোভাবে দাবি করেন, অবিলম্বে টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ, সুনির্দিষ্ট নদীশাসন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পূনর্বাসন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।

আরও পড়ুন>> সুনামগঞ্জে জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে কটুক্তি করার প্রতিবাদে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত

 

তারা জানান, বছরের পর বছর ধরে শুধু আশ্বাস মিলছে, কিন্তু যমুনার ভাঙন থামছে না, আর যদি দেরি হয়, তাহলে স্থল ইউনিয়নের নামটুকুই থাকবে শুধু মানচিত্রে, বাস্তবে থাকবে না কোনো অস্তিত্ব।

 

এ ছিল কেবল একটি মানববন্ধন নয়, এ ছিল এক নিঃস্ব জনপদের শেষ আর্তনাদ, যেখানে কান্না ও কণ্ঠ মিলেমিশে হয়ে উঠেছিল নদীর প্রতিধ্বনি। একটি জনপদের নিঃশব্দ মৃত্যুকে থামাতে এই ছিল তাদের শেষ চেষ্টা।

 

তবে প্রশ্ন রয়ে যায়, রাষ্ট্র কি শুনবে এই কান্নার সুর? যমুনার তীরে যে জীবন আজ ভেঙে পড়ছে প্রতিদিন, তার কাছে কি পৌঁছাবে প্রশাসনের সহানুভূতির ঢেউ?

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এনায়েতপুরে যমুনা নদীয়ে টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও নদীশাসনের দাবিতে মাবনবন্ধন

আপডেট সময় : ০৭:৫৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫

 

 

 

এনায়েতপুরে যমুনা নদীয়ে টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও নদীশাসনের দাবিতে মাবনবন্ধন

এনায়েতপুরে যমুনা নদীয়ে টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও নদীশাসনের দাবিতে মাবনবন্ধন।
“যমুনা” এক সময় যার বুকজুড়ে ভেসেছে জীবনের স্বপ্ন, আজ সেই নদীই যেন পরিণত হয়েছে করাল গ্রাসে। সে কেবল জলধারা নয়, সে এখন এক নীরব শ্মশান, যেখানে প্রতিদিন ধসে পড়ে মানুষের স্বপ্ন, স্মৃতি আর শেকড়।

 

 

সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুর থানাধীন ২নং স্থল ইউনিয়নের মানুষ আজ সেই নিঃসঙ্গ মৃত্যুর প্রতীক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। ছোট চৌহালী থেকে চালুহারা পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটারজুড়ে যমুনার অদম্য স্রোত বিলীন করে দিয়েছে একের পর এক জনপদ। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫টি গ্রাম হয়ে গেছে অস্তিত্বহীন, হারিয়ে গেছে জমি, ঘর, মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান, শিশুর বিদ্যালয় আর প্রজন্মের প্রিয় স্মৃতি।

পড়ুন>>বিউটি অব ঝিনাইগাতী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে কৃষ্ণচূড়া গাছ রোপণ

 

এই হৃদয়বিদারক প্রেক্ষাপটে ৬ জুলাই, শনিবার সকাল ১১টা, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত শত শত নারী-পুরুষ, কৃষক, জেলে, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে দাঁড়ান যমুনার তীরে, হাতে ব্যানার, চোখে কান্না, কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয় একটাই অনুরোধ, “আমাদের দাবি মানতে হবে, যমুনার তীর বাঁধতে হবে।”

 

 

এই শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে অংশ নেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বগণ। উপস্থিত ছিলেন, ২নং স্থল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন বেপারী, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান আলী মেম্বার, ইউনিয়ন তাঁতী দলের সভাপতি সন্তেষ আলী ব্যাপারী, ছাত্রনেতা রাজ আহমেদ, ইউপি সদস্য সালমা জাহান শিল্পী, রাকিবুল ইসলাম বাচ্চু, নুর আলম, বেলাল খানসহ আরও অনেকেই।

 

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “এটা কেবল জমির ক্ষতি নয়, এটা আমাদের পরিচয় হারানোর ইতিহাস।
যমুনা প্রতিদিন আমাদের গিলে খাচ্ছে, আর রাষ্ট্র নির্বিকার নীরব দর্শক হয়ে আছে। আমরা কেবল মাটি হারাচ্ছি না, হারাচ্ছি স্বপ্ন, শিক্ষা, সংস্কৃতি আর আগামী প্রজন্মের ঠিকানা।”

পড়ুপ>> সুনামগঞ্জে জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে কটুক্তি করার প্রতিবাদে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত

 

স্থানীয় কৃষক মজিবর রহমান বলেন, “আমার বাবা যেখানে চাষ করতেন, এখন সেখানে শুধু পানি আর গর্ত। আমার ছেলেরা এখন স্কুলে যায় না, কারণ আমরা আর থাকিই না নিজের ভিটায়।”

 

 

নদীভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে অসংখ্য পরিবার বাস্তুচ্যুত। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না, কৃষকের মাঠ নদীতে তলিয়ে গেছে, বৃদ্ধ মা হারিয়েছেন তাঁর জীবনের শেষ আশ্রয়টুকু।

 

 

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জোরালোভাবে দাবি করেন, অবিলম্বে টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ, সুনির্দিষ্ট নদীশাসন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পূনর্বাসন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।

আরও পড়ুন>> সুনামগঞ্জে জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে কটুক্তি করার প্রতিবাদে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত

 

তারা জানান, বছরের পর বছর ধরে শুধু আশ্বাস মিলছে, কিন্তু যমুনার ভাঙন থামছে না, আর যদি দেরি হয়, তাহলে স্থল ইউনিয়নের নামটুকুই থাকবে শুধু মানচিত্রে, বাস্তবে থাকবে না কোনো অস্তিত্ব।

 

এ ছিল কেবল একটি মানববন্ধন নয়, এ ছিল এক নিঃস্ব জনপদের শেষ আর্তনাদ, যেখানে কান্না ও কণ্ঠ মিলেমিশে হয়ে উঠেছিল নদীর প্রতিধ্বনি। একটি জনপদের নিঃশব্দ মৃত্যুকে থামাতে এই ছিল তাদের শেষ চেষ্টা।

 

তবে প্রশ্ন রয়ে যায়, রাষ্ট্র কি শুনবে এই কান্নার সুর? যমুনার তীরে যে জীবন আজ ভেঙে পড়ছে প্রতিদিন, তার কাছে কি পৌঁছাবে প্রশাসনের সহানুভূতির ঢেউ?

 

Facebook Comments Box