ঢাকা ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদকের আখড়া নয়-হরিকেশ হোক নিরাপদ আবাসভূমি, মাদক নির্মূলে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ চায় এলাকাবাসী মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ও ছবি প্রচার করায় ৬ ব্যক্তির নামে সাধারণ ডায়রী করেছে এমপির এপিএস পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে ভূরুঙ্গামারীতে বিএনপির সমাবেশ ও মিছিল অযৌক্তিক দাম বাড়ালে ব্যবস্থা নেবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী কুমিল্লা সীমান্তে ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এমপি নজরুল ও তার স্ত্রী আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৭ মৃত্যু সেরা চোরাচালান উদ্ধারকারী অফিসারের ক্রেস্ট পেলেন মাহমুদুল হাসান আশুলিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: ছেলের খোঁজে দিশেহারা বাবা দেশে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল ৬ শিশুর

উলিপুরে বেড়াতে আসা কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার আভিযোগে মামলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৯:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ অগাস্ট ২০২২ ৩১৮ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামের উলিপুরে বেড়াতে আসা কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার আভিযোগে মামলা

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রামের উলিপুরে রংপুর থেকে দাদুর বাড়ীতে বেড়াতে আসা কিশোরীকে(১৩) ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ৪ জনকে আসামী করে উলিপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে গত ১১ আগষ্ট দুপুরে উপজেলার কর্পূরা চাপড়ারপাড়া নামক গ্রামে।ভিকটিমের মা বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন। এ মামলার আসামীরা গ্রেফতার করা হয়নি। তবে গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

আসামীরা হলেন, ঐ এলাকার চতলারপাড়ার শফিকুলের পুত্র সাকিল, কদমতলার আঃ সালামের পুত্র হাবিবুর, কর্পূরা চাপড়ারপাড়ার রফিকুলের পুত্র আরিফুল ও একই গ্রামের লাল মিয়ার পুত্র রাসেল।

জানাগেছে, রংপুর সাতগাড়া সবুজ পাড়ার ভাড়াটে বাসিন্দা ও উলিপুর উপজেলার উত্তর দলদলিয়া চতলারপাড় গ্রামের বাসিন্দার ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরী গত ৫ আগষ্ট চতলারপাড়ায় দাদুর বাড়ীতে বেড়াতে আসে।

এলাকাবসীর অনেকে জানান, অল্প বয়সী কিশোরী হলেও মোবাইলে প্রচন্ড আসক্ত । দাদুর বাড়ীতে আসার ২-৪ দিনের মধ্যে সে মোবাইলের মাধ্যমে কয়েক ছেলের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। এবং তাদের সাথে স্থানীয় ব্রীজের পাড়, বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে ও আড্ডা দিতেও তারা দেখতো। এরই ধারাবহিগতায় ঘটনার দিন গত ১১ আগষ্ট দুপুরে পার্শ্ববর্তী কর্পূরার চরে তিস্তা নদী দেখতে যাওয়ার উদ্দেশ্য মেয়েটি ৩ বন্ধুকে সাথে নেয়। তিস্তা চরে হাঁটতে হাঁটতে তারা ক্লান্ত হয়ে দুপুর ১ টায় দিকে বাসায় ফেরার জন্য রওয়ানা দেন। ফেরার পথে তারা নদী এলাকার চাপড়ারপাড়া নামক গ্রাম হয়ে আসছিলো ।

ঘটনাক্রমে ঐ গ্রামে সঙ্গীয় বন্ধু রাসেলের দাদী মৃত কাচু মামুদের স্ত্রী জমিলা বেওয়ার বাড়ীতে বিশ্রাম নেয়ার লক্ষ্যে রাসেলের আহ্বানে আসে। কিন্ত এসে দেখে ঘরের দরজা তালাবদ্ধ, রাসেলের দাদী বাড়ীতে নেই। এদিকে ঐ বাড়ীর দক্ষিণের জমিতে কিছু লোক কাজ করছিলো। তারা ছেলে-মেয়েদের ওই বাড়ীতে ঢুকতে দেখে জমিতে কাজ বন্ধ করে সবাই দ্রুত ঐ বাড়ীতে আসে। এবং অতর্কিত ভাবে তাদেরকে ধাওয়া করে। ভয়ে বন্ধুরা দৌড়িয়ে পালানোর চেষ্টা  করে। দৌড়ানোর সময় কিশোরীটি পা-ফসকে খাদে পরে যায়। এদিকে কাজের লোকদের ধর-ধর চিৎকার শুনে গ্রামের অনেক মানুষ ছুটে আসে। কিশোরীকে ও তার বন্ধু হাবিবুর, আরিফুল, রাসেলকে আটক করে স্থানীয় ইউ,পি সদস্য নুরুজ্জামানের নিকট নিয়ে আসে।

ইউ,পি সদস্য নুরুজ্জামান জানান,”পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর কিশোরীটিকে এ বিষয়ে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করলে সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে সে অকপটে জানিয়ে দেয়। ফলে, ইউ,পি সদস্য বিষয়টি আর না বাড়িয়ে সেখানেই মিটিয়ে ফেলেন এবং কিশোরীর অভিভাবক দাদীকে ও ছেলেদের স্ব স্ব বাবার হাতে তুলে দেন।”

এদিকে রহস্য জনক কারণে ঘটনার দিন রাতে কিশোরীটি পূর্বে বলা কথা না বলে সম্পুর্ণ আলাদা কথা বলেন। কিশোরীটির দাদু পক্ষের লোকজন তাদের গ্রামের অসহায় পরিবার সাকিলের বাবা-মায়ের উপর হামলা করে এবং এ ঘটনায় সাকিলকে অযৌক্তিক দোষারোপ করে ক্ষতিপুরণ স্বরূপ ৫০ হাজার টাকা দাবী করে। সাকিলের বাবা সফিকুল ইসলাম টাকা দিতে অপারগতা জানালে,পরের দিন সকালে কিশোরীটির বাবা-মাকে রংপুর থেকে ডেকে আনেন।তবে,ঘটনার সময় মামলায় অভিযুক্ত সাকিল নামে কেউ ছিলো না বলে প্রতক্ষ্যদর্শিরা জানান।সাকিলের বাবা জানান, কিশোরীটির মা সাকিলকে প্রধান আসামী করে উলিপুর থানায় ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেন। যার নং ১৪, তাং ১২/০৮/২২ইং।এ ব্যাপারে মামলার বাদীর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগের চেষ্ঠা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে, ভিকটিম বলেছেন, সাকিল তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে অপর ৩ জনের সাথে সাক্ষাৎ করে দেয়।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

উলিপুরে বেড়াতে আসা কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার আভিযোগে মামলা

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ অগাস্ট ২০২২

কুড়িগ্রামের উলিপুরে রংপুর থেকে দাদুর বাড়ীতে বেড়াতে আসা কিশোরীকে(১৩) ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ৪ জনকে আসামী করে উলিপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে গত ১১ আগষ্ট দুপুরে উপজেলার কর্পূরা চাপড়ারপাড়া নামক গ্রামে।ভিকটিমের মা বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন। এ মামলার আসামীরা গ্রেফতার করা হয়নি। তবে গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

আসামীরা হলেন, ঐ এলাকার চতলারপাড়ার শফিকুলের পুত্র সাকিল, কদমতলার আঃ সালামের পুত্র হাবিবুর, কর্পূরা চাপড়ারপাড়ার রফিকুলের পুত্র আরিফুল ও একই গ্রামের লাল মিয়ার পুত্র রাসেল।

জানাগেছে, রংপুর সাতগাড়া সবুজ পাড়ার ভাড়াটে বাসিন্দা ও উলিপুর উপজেলার উত্তর দলদলিয়া চতলারপাড় গ্রামের বাসিন্দার ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরী গত ৫ আগষ্ট চতলারপাড়ায় দাদুর বাড়ীতে বেড়াতে আসে।

এলাকাবসীর অনেকে জানান, অল্প বয়সী কিশোরী হলেও মোবাইলে প্রচন্ড আসক্ত । দাদুর বাড়ীতে আসার ২-৪ দিনের মধ্যে সে মোবাইলের মাধ্যমে কয়েক ছেলের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। এবং তাদের সাথে স্থানীয় ব্রীজের পাড়, বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে ও আড্ডা দিতেও তারা দেখতো। এরই ধারাবহিগতায় ঘটনার দিন গত ১১ আগষ্ট দুপুরে পার্শ্ববর্তী কর্পূরার চরে তিস্তা নদী দেখতে যাওয়ার উদ্দেশ্য মেয়েটি ৩ বন্ধুকে সাথে নেয়। তিস্তা চরে হাঁটতে হাঁটতে তারা ক্লান্ত হয়ে দুপুর ১ টায় দিকে বাসায় ফেরার জন্য রওয়ানা দেন। ফেরার পথে তারা নদী এলাকার চাপড়ারপাড়া নামক গ্রাম হয়ে আসছিলো ।

ঘটনাক্রমে ঐ গ্রামে সঙ্গীয় বন্ধু রাসেলের দাদী মৃত কাচু মামুদের স্ত্রী জমিলা বেওয়ার বাড়ীতে বিশ্রাম নেয়ার লক্ষ্যে রাসেলের আহ্বানে আসে। কিন্ত এসে দেখে ঘরের দরজা তালাবদ্ধ, রাসেলের দাদী বাড়ীতে নেই। এদিকে ঐ বাড়ীর দক্ষিণের জমিতে কিছু লোক কাজ করছিলো। তারা ছেলে-মেয়েদের ওই বাড়ীতে ঢুকতে দেখে জমিতে কাজ বন্ধ করে সবাই দ্রুত ঐ বাড়ীতে আসে। এবং অতর্কিত ভাবে তাদেরকে ধাওয়া করে। ভয়ে বন্ধুরা দৌড়িয়ে পালানোর চেষ্টা  করে। দৌড়ানোর সময় কিশোরীটি পা-ফসকে খাদে পরে যায়। এদিকে কাজের লোকদের ধর-ধর চিৎকার শুনে গ্রামের অনেক মানুষ ছুটে আসে। কিশোরীকে ও তার বন্ধু হাবিবুর, আরিফুল, রাসেলকে আটক করে স্থানীয় ইউ,পি সদস্য নুরুজ্জামানের নিকট নিয়ে আসে।

ইউ,পি সদস্য নুরুজ্জামান জানান,”পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর কিশোরীটিকে এ বিষয়ে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করলে সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে সে অকপটে জানিয়ে দেয়। ফলে, ইউ,পি সদস্য বিষয়টি আর না বাড়িয়ে সেখানেই মিটিয়ে ফেলেন এবং কিশোরীর অভিভাবক দাদীকে ও ছেলেদের স্ব স্ব বাবার হাতে তুলে দেন।”

এদিকে রহস্য জনক কারণে ঘটনার দিন রাতে কিশোরীটি পূর্বে বলা কথা না বলে সম্পুর্ণ আলাদা কথা বলেন। কিশোরীটির দাদু পক্ষের লোকজন তাদের গ্রামের অসহায় পরিবার সাকিলের বাবা-মায়ের উপর হামলা করে এবং এ ঘটনায় সাকিলকে অযৌক্তিক দোষারোপ করে ক্ষতিপুরণ স্বরূপ ৫০ হাজার টাকা দাবী করে। সাকিলের বাবা সফিকুল ইসলাম টাকা দিতে অপারগতা জানালে,পরের দিন সকালে কিশোরীটির বাবা-মাকে রংপুর থেকে ডেকে আনেন।তবে,ঘটনার সময় মামলায় অভিযুক্ত সাকিল নামে কেউ ছিলো না বলে প্রতক্ষ্যদর্শিরা জানান।সাকিলের বাবা জানান, কিশোরীটির মা সাকিলকে প্রধান আসামী করে উলিপুর থানায় ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেন। যার নং ১৪, তাং ১২/০৮/২২ইং।এ ব্যাপারে মামলার বাদীর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগের চেষ্ঠা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে, ভিকটিম বলেছেন, সাকিল তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে অপর ৩ জনের সাথে সাক্ষাৎ করে দেয়।

Facebook Comments Box