উপনিবেশিক শিক্ষানীতি ও শাসিত জনপদের অন্দরমহল
- আপডেট সময় : ০৭:০৪:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
উপনিবেশিক শিক্ষানীতি ও শাসিত জনপদের অন্দরমহল
ঔপনিবেশিক শক্তির মূল কৌশল ছিল দখলীকৃত ভূখণ্ডে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত করা। এর জন্য তারা প্রধানত তিনটি পদ্ধতি অবলম্বন করত। প্রথমত, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ভেতর থেকে একটি নতুন স্বার্থবাদী শ্রেণি তৈরি করা, যারা বিদেশি শাসনকে কেবল মেনে নেবে না, বরং একে দীর্ঘস্থায়ী করতে সহযোগিতা করবে। দ্বিতীয়ত, ইতিহাস চর্চার নামে বিকৃত বয়ান ছড়িয়ে স্থানীয়দের ভেতর হীনম্মন্যতা তৈরি করা এবং নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা। তৃতীয়ত, একটি শিক্ষিত এলিট শ্রেণি তৈরি করা, যারা বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিকভাবে ঔপনিবেশিক ভাবাদর্শকে টিকিয়ে রাখবে।
পড়ুন>>ধামরাইয়ে ব্যাটারি কারখানায় লকার ভেঙে ৭০ লাখ টাকা লুট
শিক্ষাব্যবস্থা ও ভাষার পরিবর্তন ছিল এই নিয়ন্ত্রণের অন্যতম বড় হাতিয়ার। স্থানীয় ভাষার পরিবর্তে ঔপনিবেশিক ভাষা প্রবর্তনের মাধ্যমে শাসকরা তরুণ প্রজন্মকে তাদের নিজস্ব ইতিহাস ও ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিল। যদিও এই এলিট শ্রেণির একটি ক্ষুদ্র অংশ পরবর্তীকালে স্বাধীনতার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিল, তবুও সামগ্রিক শিক্ষানীতির মূল লক্ষ্য ছিল একটি জনবিচ্ছিন্ন নতুন এলিট সম্প্রদায় তৈরি করা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার “বাংলাসাহিত্যের প্রতি অবজ্ঞা” প্রবন্ধে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন যে, যারা ইংরেজি পড়াশোনা করতেন, তারা অনেক ক্ষেত্রে আধুনিক বাংলা ভাষা ও লেখকদের হেয় করতেন এবং ইতর-সাধারণ থেকে নিজেদের স্বতন্ত্র করে তোলার চেষ্টায় মগ্ন থাকতেন।
পড়ুন>>ময়মনসিংহ মেডিকেলে লিফটে আগুন
ভারতবর্ষে ইউরোপীয় উপনিবেশায়ন প্রক্রিয়ার সূত্রপাত ঘটে ১৫০৩ সালে কেরালায় পর্তুগিজদের বাণিজ্যিক কুঠি স্থাপনের মাধ্যমে। ১৫১০ সালে বিজাপুর রাজ্যের গোয়া দখল করে তারা সামরিক দুর্গ গড়ে তোলে। পর্তুগিজরা ১৫১৬ সালে বাংলায় আসে এবং ১৫৩৬ সালে তৎকালীন সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ্’র অনুমোদনে চট্টগ্রামে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে। তবে জলদস্যুতা ও বলপূর্বক ধর্মান্তকরণের অভিযোগে ১৬৩২ সালে সম্রাট শাহজাহান তাদের হুগলি থেকে এবং ১৬৬৬ সালে সম্রাট আওরঙ্গজেব চট্টগ্রাম থেকে বহিষ্কার করেন। যদিও গোয়াতে পর্তুগিজ শাসন ১৯৬১ সালের সামরিক অভিযানের আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৪ বছর ব্রিটিশদের ভারত ত্যাগের পরও টিকে ছিল।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাসও ছিল বাণিজ্যের পথ ধরে। ১৬০৯ সালে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমোদনে ইংরেজ বণিকরা বাণিজ্যকেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ পায়। তবে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের মূল ভিত্তি স্থাপিত হয় ১৬৩৩ সালে পুরনো বাংলা প্রদেশের উড়িষ্যা উপকূলের বালাসোর শহরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কারখানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। বাংলা প্রদেশে নিজস্ব কারখানা গড়ার জন্য কোম্পানিকে দীর্ঘ ২৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন ইউরোপীয় শক্তির সাথে বিবাদের পর ব্রিটিশরা চূড়ান্ত জয় লাভ করে এবং পুরো ভারত তাদের শাসনের অধীনস্থ হয়ে পড়ে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























