ঢাকা ০৪:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজ

সৃষ্টি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:১৮:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজ

 

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজ। যুদ্ধের প্রভাবে আকাশসীমা বন্ধসহ নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে বর্তমানে এয়ারলাইনসটির বিভিন্ন ফ্লাইটে যাত্রী আসন পূরণের হার ৮০ শতাংশের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা হামাদ আলী আল-খাতের। ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভার পার্শ্ববর্তী এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।

আল-খাতের জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে কাতার আকাশসীমা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল, যা আধুনিক ইতিহাসে এয়ারলাইনসটির জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এই পরিস্থিতির কারণে মার্চ মাস পর্যন্ত বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। তবে বর্তমানে ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে। যদিও এখনো যুদ্ধের আগের পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরা সম্ভব হয়নি, তবুও যাত্রী চাহিদা প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত গতিতে বাড়ছে।

পড়ুন>>অর্থনৈতিক উৎকর্ষে বহুজাতিক কোম্পানির চেয়ে কৌশলী ব্যবস্থার গুরুত্ব

তিনি উল্লেখ করেন, অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরোপগামী দীর্ঘপথের রুটে যাত্রী চাহিদা পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও আফ্রিকা অঞ্চল থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। সংঘর্ষের শিকার অঞ্চলগুলোর বাইরে কাতার এয়ারওয়েজের যাত্রী সেবার চাহিদা বর্তমানে অত্যন্ত স্থিতিশীল। এছাড়া জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রায় ১৬৬টি গন্তব্যের প্রতিটি বিমানবন্দর ও স্টেশন থেকে জ্বালানি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলেও বিকল্প উপায়ে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখার মতো পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে বলে দাবি করেন আল-খাতের।

পড়ুন>>সিডনির বাসে স্কুলছাত্রীকে ‘অভিবাসী সন্ত্রাসী’ বলে গালাগাল

তবে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম এয়ারলাইনসটির জন্য এখনো একটি বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রভাব মোকাবিলায় টিকিটের মূল্য সমন্বয় করার প্রয়োজন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কর্মীদের চাকরি সুরক্ষিত রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

 

সংস্থার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের সঙ্গে ২১০টি ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ সংগ্রহের চুক্তি কার্যকর রয়েছে। এছাড়া আগামী অক্টোবর নাগাদ বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে এয়ারবাসের অত্যাধুনিক এ৩২১ লং রেঞ্জ উড়োজাহাজ, যা দীর্ঘপথে দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করবে।

 

অন্যদিকে, স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা ও নতুন প্রজন্মের কিউ স্যুট কেবিন চালুর মাধ্যমে যাত্রীদের সেবার মান বৃদ্ধির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজ

আপডেট সময় : ০১:১৮:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজ

 

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজ। যুদ্ধের প্রভাবে আকাশসীমা বন্ধসহ নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে বর্তমানে এয়ারলাইনসটির বিভিন্ন ফ্লাইটে যাত্রী আসন পূরণের হার ৮০ শতাংশের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা হামাদ আলী আল-খাতের। ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভার পার্শ্ববর্তী এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।

আল-খাতের জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে কাতার আকাশসীমা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল, যা আধুনিক ইতিহাসে এয়ারলাইনসটির জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এই পরিস্থিতির কারণে মার্চ মাস পর্যন্ত বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। তবে বর্তমানে ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে। যদিও এখনো যুদ্ধের আগের পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরা সম্ভব হয়নি, তবুও যাত্রী চাহিদা প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত গতিতে বাড়ছে।

পড়ুন>>অর্থনৈতিক উৎকর্ষে বহুজাতিক কোম্পানির চেয়ে কৌশলী ব্যবস্থার গুরুত্ব

তিনি উল্লেখ করেন, অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরোপগামী দীর্ঘপথের রুটে যাত্রী চাহিদা পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও আফ্রিকা অঞ্চল থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। সংঘর্ষের শিকার অঞ্চলগুলোর বাইরে কাতার এয়ারওয়েজের যাত্রী সেবার চাহিদা বর্তমানে অত্যন্ত স্থিতিশীল। এছাড়া জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রায় ১৬৬টি গন্তব্যের প্রতিটি বিমানবন্দর ও স্টেশন থেকে জ্বালানি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলেও বিকল্প উপায়ে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখার মতো পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে বলে দাবি করেন আল-খাতের।

পড়ুন>>সিডনির বাসে স্কুলছাত্রীকে ‘অভিবাসী সন্ত্রাসী’ বলে গালাগাল

তবে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম এয়ারলাইনসটির জন্য এখনো একটি বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রভাব মোকাবিলায় টিকিটের মূল্য সমন্বয় করার প্রয়োজন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কর্মীদের চাকরি সুরক্ষিত রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

 

সংস্থার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের সঙ্গে ২১০টি ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ সংগ্রহের চুক্তি কার্যকর রয়েছে। এছাড়া আগামী অক্টোবর নাগাদ বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে এয়ারবাসের অত্যাধুনিক এ৩২১ লং রেঞ্জ উড়োজাহাজ, যা দীর্ঘপথে দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করবে।

 

অন্যদিকে, স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা ও নতুন প্রজন্মের কিউ স্যুট কেবিন চালুর মাধ্যমে যাত্রীদের সেবার মান বৃদ্ধির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Facebook Comments Box