আষাঢ় (মধ্য জুন–মধ্য জুলাই) মাসে কী করবেন কৃষক ভাইয়েরা : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
আষাঢ় (মধ্য জুন–মধ্য জুলাই) মাসে কী করবেন কৃষক ভাইয়েরা : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পটিয়ায় কলা চুরির প্রতিবাদে মুন্সি সমিতির নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ ভূরুঙ্গামারীতে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনে মাদক কারবারির হামলায় আহত ১ ১ আগস্ট ২০২৬ শনিবার; আজকের রাশিফল: জেনেনিন কেমন কাটবে দিনটি ১ আগস্টের আবহাওয়া: দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টি, কোথাও হতে পারে ভারী বর্ষণ আজ শনিবার ১ আগষ্ট ২০২৬: আজকের নামাজের সময়সুচী শুভ সকাল; আজ শনিবার ১ আগষ্ট ২০২৬: আজকের পূর্ণাঙ্গ পঞ্জিকা আজ ১ আগস্ট: আজকের দিনে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক ঘটনাপঞ্জি কাউনিয়ায় ১৫০ পিস ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূরুঙ্গামারীতে দক্ষতা উন্নয়ন ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে ভূরুঙ্গামারীতে মানববন্ধন

আষাঢ় (মধ্য জুন–মধ্য জুলাই) মাসে কী করবেন কৃষক ভাইয়েরা

সৃষ্টি কৃষি ডেস্ক
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ৩ জুন, ২০২২
আষাঢ়
আমন ধান

আষাঢ় (মধ্য জুন–মধ্য জুলাই) মাসে কী করবেন কৃষক ভাইয়েরা।

 

 

গ্রীষ্মের দাবদাহের পর প্রশান্তির বৃষ্টি নেমে আসে ধরণীকে শীতল করে বর্ষাকাল। এই ঋতুর প্রথম মাস আষাঢ়। খাল-বিল, নদী-নালা, পুকুর, ডোবা ভরে ওঠে নতুন পানির জোয়ারে।

 

 

গাছপালা ধুয়ে মুছে চকচকে সবুজ হয়, কদমফুলের ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। প্রাচীন কৃষি শুরু হতোই মূলত এই মাসে। কারণ তখন মানুষ কৃষিতে পুরোপুরি প্রকৃতি নির্ভর ছিল। চেয়ে থাকতে হতো বৃষ্টির দিকে।

আষাঢ়ের বৃষ্টি নামলেই শুরু হয় কৃষকের ব্যস্ততা। তবে এখন কৃষিতে অনেক বৈচিত্র্য এসেছে। ফলে বছরের প্রথম বৃষ্টির পর বেড়েছে কৃষকের কাজও।

জেনে নেওয়া যাক এই মাসে কৃষকের অবশ্যকরণীয় কাজগুলো।

 পড়ুন>ধুন্দল চাষ (Dhundal cultivation)

আউশ ধান:

আউশ ধানের ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য যত্ন নিতে হবে। আইপিএমের  মাধ্যমে রোগ ও পোকামাকড় দমন করতে হবে। বন্যার আশঙ্কা হলে আগাম রোপণ করা আউশ ধান শতকরা ৮০ ভাগ পাকলেই কেটে মাড়াই-ঝাড়াই করে শুকিয়ে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

জেনে নিন>>লাভজনক পদ্ধতিতে লাউ চাষ

আমন ধান:

পানিতে ডুবে না এমন উঁচু খোলা জমিতে বীজতলা তৈরি করতে হবে। বন্যার কারণে রোপা আমনের বীজতলা করার মতো জায়গা না থাকলে ভাসমান বীজতলা বা দাপগ পদ্ধতিতে বীজতলা করে চারা উৎপাদন করতে হবে। বীজতলায় বীজ বপন করার আগে ভালো জাতের সুস্থ সবল বীজ নির্বাচন করতে হবে।

রোপা আমনের উন্নত জাত যেমন বিআর ১০, বিআর২৫, ব্রি ধান৩০, ব্রি ধান৩১, ব্রি ধান৩২, ব্রি ধান৩৩, ব্রি ধান৩৪, ব্রি ধান৩৭, ব্রি ধান৩৮, ব্রি ধান ৩৯, ব্রি ধান৪০, ব্রি ধান৪১।

এছাড়া লবণাক্ত জমিতে ব্রি ধান৪৪ চাষ করতে পারেন।

জেনে নিন>লাভজনক উপায়ে বেগুন চাষ পদ্ধতি  

খরাপ্রবণ এলাকাতে নাবি রোপার পরিবর্তে যথাসম্ভব আগাম রোপা আমনের (ব্রি ধান৩৩, ব্রি ধান ৩৯ এসব) চাষ করতেহবে। ভালো চারা পেতে প্রতি বর্গমিটার বীজতলার জন্য ২ কেজি গোবর, ১০ গ্রাম ইউরিয়া এবং ১০ গ্রাম জিপসাম প্রয়োগ করতে হবে। আষাঢ় মাসে রোপা আমন ধানের চারা রোপণ শুরু করা যায়।

মূল জমিতে শেষ চাষের সময় হেক্টরপ্রতি ৯০ কেজি টিএসপি, ৭০ কেজি এমওপি, ১১ কেজি দস্তা এবং ৬০ কেজি জিপসাম দিতে হবে। জমিতে চারা সারি করে রোপণ করতে হবে।

এতে পরবর্তী পরিচর্যা বিশেষ করে আগাছা দমন সহজ হবে। জমির এক কোণে মিনি পুকুর খনন করে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে পারেন, যেন পরবর্তীতে সম্পূরক সেচ নিশ্চিত করা যায়।

পড়ুন>>লাভ জনক পদ্ধতিতে বাধা কফি চাষ

পাট:

পাট গাছের বয়স চার মাস হলে ক্ষেতের পাট গাছ কেটে নিতে হবে। পাট কাটার পর চিকন ও মোটা পাট গাছ আলাদা করে আঁটি বেঁধে দুই-তিন দিন দাঁড় করিয়ে রাখতে হবে। পাতা ঝরে গেলে ৩-৪ দিন পাট গাছগুলোর গোড়া একফুট পানিতে ডুবিয়ে রাখার পর পরিষ্কার পানিতে জাগ িেদত হবে।

আরও পড়ুন>>নিষিদ্ধ ৮টি কীটনাশক ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন

পাট পচে গেলে পানিতে আঁটি ভাসিয়ে আঁশ ছাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে পাটের আঁশের গুণাগুণ ভালো থাকবে। ছাড়ানো আঁশ পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে বাঁশের আড়ে শুকাতে হবে।যেসব জায়গায় জাগ দেয়ার পানির অভাব সেখানে রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট পচাতে পারেন।

এতে আঁশের মান ভালো হয় এবং পচন সময় কমে যায়। পাটের বীজ উৎপাদনের জন্য ১০০ দিন বয়সের পাট গাছের এক থেকে দেড় ফুট ডগা কেটে নিয়ে দুটি গিটসহ ৩-৪ টুকরা করে ভেজা জমিতে দক্ষিণমুখী কাত করে রোপণ করতে হবে। রোপণ করা টুকরোগুলো থেকে ডালপালা বের হয়ে নতুন চারা হবে। পরবর্তীতে এসব চারায় প্রচুর ফল ধরবে এবং তা থেকে বীজ পাওয়া যাবে।

ভুট্টা:

পরিপক্ব হওয়ার পর বৃষ্টিতে নষ্ট হবার আগে মোচা সংগ্রহ করে ঘরের বারান্দায় সংগ্রহ করতে পারেন। রোদ হলে শুকিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মোচা পাকতে দেরি হলে মোচার আগা চাপ দিয়ে নিম্নমুখী করে দিতে হবে। এতে বৃষ্টিতে মোচা নষ্ট হবে না

আরও পড়ুন>>আলুর ভাইরাস জনিত রোগ Diseases caused by potato virus

 

শাকসবজি:

ডাঁটা, গিমাকলমি, পুঁইশাক, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, ঝিঙা, শসা, ঢেঁড়স, বেগুনের গোড়ার আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। প্রয়োজনে মাটি তুলে দিতে হবে।

এছাড়া বন্যার পানি সহনশীল লতিরাজ কচুর আবাদ করতে পারেন। উপকূলীয় অঞ্চলে ঘেরের পাড়ে গিমাকলমি ও অন্যান্য ফসল আবাদ করতে পারেন। সবজি ক্ষেতে পানি জমতে দেয়া যাবে না। পানি জমে গেলে সরানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

তাড়াতাড়ি ফুল ও ফল ধরার জন্য বেশি বৃদ্ধি সমৃদ্ধ লতা জাতীয় গাছের ১৫-২০ শতাংশের লতা পাতা কেটে দিতে হবে। কুমড়া জাতীয় সব সবজিতে হাত পরাগায়ন বা কৃত্রিম পরাগায়ন করতে হবে। গাছে ফুল ধরা শুরু হলে প্রতিদিন ভোরবেলা হাতপরাগায়ণ নিশ্চিত করলে ফলন অনেক বেড়ে যাবে।

আগাম জাতের শিম এবং লাউয়ের জন্য প্রায় ৩ ফুট দূরে দূরে ৩০.৪৮ সে.মি. (১ ফুট) চওড়া ও ৩০.৪৮ সে.মি. (১ ফুট) গভীর করে মাদা তৈরি করতে হবে।

মাদা তৈরির সময় গর্ত প্রতি ১০ কেজি গোবর, ২০০ গ্রাম সরিষার খৈল, ২ কেজি ছাই, ১০০ গ্রাম টিএসপি ভালভাবে মাদার মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। এরপর প্রতি গাদায় ৩-৪টি ভালো সবল বীজ রোপণ করতে হবে।

আরও জেনে নিন>>সূর্যমুখী চাষ করে অধিক লাভবান হউন

গাছপালা:

এ সময়টা গাছের চারা রোপণের জন্য খুবই উপযুক্ত। বসতবাড়ির আশপাশে, খোলা জায়গায়, চাষাবাদের অনুপযোগী পতিত জমিতে, রাস্তাঘাটের পাশে, পুকুর পাড়ে, নদীর তীরে গাছের চারা বা কলম রোপণের উদ্যোগ নিতে হবে।

    চারা রোপণের আগে গর্ত তৈরি করতে হবে।সাধারণ হিসাব অনুযায়ী এক ফুট চওড়া ও এক ফুট গভীর গর্ত করে গর্তের মাটির সাথে ১০০ গ্রাম করে টিএসপি ও এমওপি সার মিশিয়ে, দিন দশেক পরে চারা বা কলম লাগাতে হবে।

 

 

বৃক্ষ রোপণের ক্ষেত্রে উন্নত জাতের রোগমুক্ত সুস্থ সবল চারা বা কলম রোপন করতে হবে। চারা রোপণের পর শক্ত খুঁটির দিয়ে চারা বেঁধে দিতে হবে।

 

 

এরপর বেড়া বা খাঁচা দিয়ে চারা রক্ষা করা, গোড়ায় মাটি দেয়া, আগাছা পরিষ্কার, সেচনিকাশ নিশ্চিত করতে হবে। মাতৃগাছ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি খুব জরুরি। সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার, দুর্বল রোগাক্রান্ত ডালপালা কাটা বা ছেটে দেয়ার কাজ সুষ্ঠুভাবে করতে হবে।

জানুুন>>মৌমাছি পালন ও পরিচর্যা

প্রাণিসম্পদ:

বর্ষাকালে হাঁসমুরগির ঘর যাতে জীবাণুমুক্ত ও আলো-বাতাসপূর্ণ থাকে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। হাঁস-মুরগির কৃমি, কলেরা, রক্ত আমাশা, পুলরাম রোগ, সংক্রমণ সর্দি দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

 

হাঁস-মুরগিকে ভেজা স্যাঁতসেঁতে জয়গায় না রেখে শুকনো ঘরে রাখতে হবে এবং মাঝে মধ্যে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে। বর্ষাকালে গবাদিপশুকে সংরক্ষণ করা খড়, শুকনো ঘাস, ভুসি, কুঁড়া খেতে দিতে হবে।

সে সাথে কাঁচা ঘাস খাওয়াতে হবে। মাঠ থেকে সংগৃহীত সবুজ ঘাস ভালোভাবে পরিষ্কার না করে খাওয়ানো যাবে না। বর্ষাকালে গবাদিপশুর গলাফোল, তড়কা, বাদলা, ক্ষুরা রোগ মহামারি আকারে দেখা দিতে পারে।

এ জন্য প্রতিষেধক টিকা দিতে হবে। কৃমির আক্রমণ রোধ করার জন্য কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে হবে। হাল চাষের পর গরুকে ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

এছাড়া যে কোনো পরামর্শের জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন।

আরও জানুন>>সৌখিন পাখী কবুতর চাষ

মৎস্য সম্পদ:

বর্ষা মৌসুমে পুকুরের পাড় উঁচু করে দিতে হবে। বন্যার সময় পুকুরে মাছ আটকানোর জন্য জাল, বাঁশের চাটাই দিয়ে ঘেরা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আষাঢ় মাস মাছের পোনা ছাড়ার উপযুক্ত সময়। মাছ চাষের জন্য মিশ্র পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।

পুকুরে নিয়মিত খাবার দিতে হবে এবং জাল টেনে মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। বড় পুকুরে, হাওরে, বিলে, নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ করতে পারেন।

>>বৈশাখ (মধ্য এপ্রিল-মধ্য মে) মাসের কৃষিকাজ

>> বৈশাখ (মধ্য এপ্রিল-মধ্য মে) মাসের কৃষিকাজ

>> চৈত্র মাসের কৃষি

>> ফাল্গুন মাসের কৃষি কাজ

>> আশ্বিন (মধ্য সেপ্টেম্বর – মধ্য অক্টোবর) মাসে কৃষকের করণীয়

কৃষি ও কৃষকের কার্তিক (মধ্য অক্টোবর – মধ্য নভেম্বর) মাসে করণীয়

> ভাদ্র (মধ্য আগস্ট–মধ্য সেপ্টেম্বর) মাসের কৃষি ও কৃষকের করণীয়

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

2 responses to “আষাঢ় (মধ্য জুন–মধ্য জুলাই) মাসে কী করবেন কৃষক ভাইয়েরা”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!