ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আখ চাষে নতুন স্বপ্ন দেখছে ভূরুঙ্গামারীর দুধকুমার চরাঞ্চলের চাষিরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২২ ৫৫৭ বার পড়া হয়েছে

আখ চাষে নতুন স্বপ্ন দেখছে ভূরুঙ্গামারীর দুধকুমার চরাঞ্চলের চাষিরা

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে দুধকুমার নদ। এই নদের দুই পাড়ে চর জেগে ওঠে।বন্যা ছাড়া সারা বছর পানিতে নিমজ্জিত থাকেনা।এসব চরে কয়েক বছর প্রচুর কলার চাষ হত।কলার মড়ক আসায় কলা চাষ অনেক কমে গেছে। তারপর থেকে চাষিরা শীতকালিন সবজি প্রচুর পরিমানে চাষ করে।কিন্তু সার,কীটনাশক ও শ্রমিকের মুল্য বেড়ে যাওয়ায় জমিতে ফসল বুনে লাভের মুখ দেখতে পারছেনা।

আখ চাষ এখন নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে চরাঞ্চলের কৃষকদের।এবার জেগে ওঠা চরে আখ চাষ করেছেন চরাঞ্চলের অনেক কৃষক। আখের ফলনও হয়েছে ভালো।  সবজি বা অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখ চাষে খরচ কম ,পরিশ্রম কম এবং রোগবালাই তুলনা মুলক ভাবে অনেক কম।ফলন আশানুরুপ বেশি।তাই অন্য ফসলের তুলনায় আখ চাষে লাভের পরিমান অনেক বেশি। চরাঞ্চলের কৃষক এখন আখ চাষ করে লাভের স্বপ্ন বুনছে।

দুধকুমর নদের চরের জমিতে এ বছর ব্যাপকভাবে আখ চাষ করা হয়েছে। আখগুলো বেশ পুষ্ট, লম্বা ও মোটা হয়েছে। ফলনও হয়েছে ভালো। আখ কেটে বিক্রিও শুরু করেছেন অনেক কৃষক।অনেকে শেষ সময়ে আখ খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত।

আখ চাষীরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে আখ চাষ করতে প্রায় ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়।এখন জমি থেকেই পাইকেররা প্রতি একশত পিচ আখ ৮শ টাকা থেকে ১ হাজার টাকায় কিনছে।প্রতি বিঘা জমির আখ ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা বিক্রি করা যায়।

আখ চাষি আব্দুস ছামাদ বলেন,প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ করে ৩৬ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করেছি।ফলন বেশ ভালো হয়েছে।জমিতেই পাইকার সব আখ ৫০ হাজার টাকা দাম বলেছে কিন্তু বিক্রি করিনি।

চাষি সোহরাব হোসেন বলেন, ১ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। এখন বাজার ভালো আছে খরচ বাদে অর্ধেক লাভ হবে বলে আশা করছি।ফেরদৌস নামের আরেক চাষী জানান দেড় বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। এখনও বিক্রি শুরু করিনি।প্রতি বিঘা জমির আখ ৭০ হাজার টাকার উপরে বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুজন কুমার ভৌমিক বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। চরাঞ্চলের মাটি আখ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। ফলে জেগে ওঠা চরের জমিতে আখ চাষ বাড়ছে। আখের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষক আখ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন ।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আখ চাষে নতুন স্বপ্ন দেখছে ভূরুঙ্গামারীর দুধকুমার চরাঞ্চলের চাষিরা

আপডেট সময় : ০১:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২২

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে দুধকুমার নদ। এই নদের দুই পাড়ে চর জেগে ওঠে।বন্যা ছাড়া সারা বছর পানিতে নিমজ্জিত থাকেনা।এসব চরে কয়েক বছর প্রচুর কলার চাষ হত।কলার মড়ক আসায় কলা চাষ অনেক কমে গেছে। তারপর থেকে চাষিরা শীতকালিন সবজি প্রচুর পরিমানে চাষ করে।কিন্তু সার,কীটনাশক ও শ্রমিকের মুল্য বেড়ে যাওয়ায় জমিতে ফসল বুনে লাভের মুখ দেখতে পারছেনা।

আখ চাষ এখন নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে চরাঞ্চলের কৃষকদের।এবার জেগে ওঠা চরে আখ চাষ করেছেন চরাঞ্চলের অনেক কৃষক। আখের ফলনও হয়েছে ভালো।  সবজি বা অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখ চাষে খরচ কম ,পরিশ্রম কম এবং রোগবালাই তুলনা মুলক ভাবে অনেক কম।ফলন আশানুরুপ বেশি।তাই অন্য ফসলের তুলনায় আখ চাষে লাভের পরিমান অনেক বেশি। চরাঞ্চলের কৃষক এখন আখ চাষ করে লাভের স্বপ্ন বুনছে।

দুধকুমর নদের চরের জমিতে এ বছর ব্যাপকভাবে আখ চাষ করা হয়েছে। আখগুলো বেশ পুষ্ট, লম্বা ও মোটা হয়েছে। ফলনও হয়েছে ভালো। আখ কেটে বিক্রিও শুরু করেছেন অনেক কৃষক।অনেকে শেষ সময়ে আখ খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত।

আখ চাষীরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে আখ চাষ করতে প্রায় ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়।এখন জমি থেকেই পাইকেররা প্রতি একশত পিচ আখ ৮শ টাকা থেকে ১ হাজার টাকায় কিনছে।প্রতি বিঘা জমির আখ ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা বিক্রি করা যায়।

আখ চাষি আব্দুস ছামাদ বলেন,প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ করে ৩৬ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করেছি।ফলন বেশ ভালো হয়েছে।জমিতেই পাইকার সব আখ ৫০ হাজার টাকা দাম বলেছে কিন্তু বিক্রি করিনি।

চাষি সোহরাব হোসেন বলেন, ১ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। এখন বাজার ভালো আছে খরচ বাদে অর্ধেক লাভ হবে বলে আশা করছি।ফেরদৌস নামের আরেক চাষী জানান দেড় বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। এখনও বিক্রি শুরু করিনি।প্রতি বিঘা জমির আখ ৭০ হাজার টাকার উপরে বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুজন কুমার ভৌমিক বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। চরাঞ্চলের মাটি আখ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। ফলে জেগে ওঠা চরের জমিতে আখ চাষ বাড়ছে। আখের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষক আখ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন ।

 

 

 

Facebook Comments Box