ঢাকা ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদিতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, ধ্বংস ৬ অস্ত্র রোনালদোকে ছাড়াই ডেনমার্কের মাঠে পর্তুগালের দুর্দান্ত জয় স্তন ক্যানসারের সাথে লড়াই ও চিকিৎসকের নতুন জীবনবোধ দখল ও অপরাধের অভিযোগ: এমপি মিষ্টির পদত্যাগ ও সাংগঠনিক আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টে ২২ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কাতারে আগ্নেয়াস্ত্র হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর হুঁশিয়ারি ধলেশ্বরীর মাটি অবৈধভাবে কাটতে আওয়ামীলীগ-বিএনপির গোপন বৈঠকে ডিবির হানা ২০২৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের গ্রুপ ঘোষণা সরকারি মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিতের নির্দেশ, অমান্যে কঠোর হুঁশিয়ারি

অ্যারো ডিফেন্সে ইরানের ছোড়া ৯৯ শতাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত; কি সেই অ্যারো ডিফেন্স

সৃষ্টি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৫৮:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪ ২২৫ বার পড়া হয়েছে

অ্যারো ডিফেন্সে ইরানের ছোড়া ৯৯ শতাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত; কি সেই অ্যারো ডিফেন্স

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অ্যারো ডিফেন্সে ইরানের ছোড়া ৯৯ শতাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত; কি সেই অ্যারো ডিফেন্স

ইসরায়েলে প্রথমবারের মতো নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে দেশটি। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের ছোড়া ৯৯ শতাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি বলেছেন, ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম অ্যারো এদের বেশিরভাগকে ইসরায়েলি সীমার বাইরে প্রতিহত করেছে। আমরা ইসরায়েল ভূখণ্ডে দিকে ছোড়া হুমকির ৯৯ শতাংশ প্রতিরোধ করেছি। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য।

তবে এবারই প্রথমবার নয়, এর আগেও অ্যারো ডিফেন্স ব্যবহার করে বেশ সফলতা পেয়েছে ইসরায়েল। গত বছর ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া রকেটও এই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবহার মাধ্যমে ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

এখন প্রশ্ন হলো এই অ্যারো ডিফেন্স আসলে কী, কীভাবে এতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে এটি? এক প্রতিবেদনে এসব প্রশ্নের উত্তর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। আয়রন ডোম, ডেভিডস স্লিং ও অ্যারো ডিফেন্স সিস্টেম দিয়ে দেশটির এই প্রতিরক্ষা ব্যূহ সাজানো হয়েছে। এদের মধ্যে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে আয়রন ডোম ও ডেভিডস স্লিং ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। আর দীর্ঘ পাল্লার কোনো হুমকি মোকাবিলায় অ্যারো ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে ইসরায়েলি বাহিনী।

পড়ুন>>ইসরায়েলে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

জানা যায়, ২০১৭ সাল থেকেই বেশ ব্যয়বহুল এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করে রেখেছে ইসরায়েল। তবে গত অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর আগ পর্যন্ত তা ব্যবহার করা হয়নি। এর কারণ হলো হামাস ও হিজবুল্লাহর ছোড়া রকেট ও স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসে আয়রন ডোম দিয়েই কাজ সেরে আসছিল তেল আবিব। তবে লোহিত সাগরে ইয়েমেনের ইরানপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে অ্যারো ডিফেন্স ব্যবহার করতে হয়।

মূলত হামাস ও হিজবুল্লাহর রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো স্বল্পপাল্লার। তবে গত কয়েক দশকে ইসরায়েলের চিরশত্রু ইরানের ভান্ডারে বিভিন্ন দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক মিসাইল যুক্ত হয়। এসব ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে শুধু ইসরায়েলি ভূখণ্ড নয়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ঘাঁটিতে আঘাত হানতে পারে।

তাই নিজেদের ভান্ডারে এতগুলো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকলেও জোটবদ্ধ হয়ে প্যাট্রিয়টের চেয়েও আধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অ্যারো ডিফেন্স নিয়ে আসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।

মূলত ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে অ্যারো ডিফেন্স প্রোগ্রাম হাতে নেয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইতিমধ্যে এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বেশ কয়েকটি সংস্করণ তৈরি করেছে দেশ দুটি। এদের মধ্যে সবচেয়ে আধুনিক সংস্করণ হলো অ্যারো থ্রি।

২০১১ সালের দিকে অ্যারো থ্রি-এর সংস্করণের সফল পরীক্ষা করে ইসরায়েল। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসে সক্ষম এই ব্যবস্থাটির গতি শব্দের চেয়ে ৯ গুণ বেশি। এর কার্যক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এর শক্তিশালী রাডার সিস্টেম রয়েছে। এটি বায়ুমণ্ডলের সর্বোচ্চ স্তরে গিয়ে শত্রুপক্ষের অস্ত্র ধ্বংস করে দিতে পারে।উৎস

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অ্যারো ডিফেন্সে ইরানের ছোড়া ৯৯ শতাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত; কি সেই অ্যারো ডিফেন্স

আপডেট সময় : ০২:৫৮:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

অ্যারো ডিফেন্সে ইরানের ছোড়া ৯৯ শতাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত; কি সেই অ্যারো ডিফেন্স

ইসরায়েলে প্রথমবারের মতো নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে দেশটি। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের ছোড়া ৯৯ শতাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি বলেছেন, ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম অ্যারো এদের বেশিরভাগকে ইসরায়েলি সীমার বাইরে প্রতিহত করেছে। আমরা ইসরায়েল ভূখণ্ডে দিকে ছোড়া হুমকির ৯৯ শতাংশ প্রতিরোধ করেছি। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য।

তবে এবারই প্রথমবার নয়, এর আগেও অ্যারো ডিফেন্স ব্যবহার করে বেশ সফলতা পেয়েছে ইসরায়েল। গত বছর ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া রকেটও এই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবহার মাধ্যমে ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

এখন প্রশ্ন হলো এই অ্যারো ডিফেন্স আসলে কী, কীভাবে এতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে এটি? এক প্রতিবেদনে এসব প্রশ্নের উত্তর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। আয়রন ডোম, ডেভিডস স্লিং ও অ্যারো ডিফেন্স সিস্টেম দিয়ে দেশটির এই প্রতিরক্ষা ব্যূহ সাজানো হয়েছে। এদের মধ্যে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে আয়রন ডোম ও ডেভিডস স্লিং ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। আর দীর্ঘ পাল্লার কোনো হুমকি মোকাবিলায় অ্যারো ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে ইসরায়েলি বাহিনী।

পড়ুন>>ইসরায়েলে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

জানা যায়, ২০১৭ সাল থেকেই বেশ ব্যয়বহুল এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করে রেখেছে ইসরায়েল। তবে গত অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর আগ পর্যন্ত তা ব্যবহার করা হয়নি। এর কারণ হলো হামাস ও হিজবুল্লাহর ছোড়া রকেট ও স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসে আয়রন ডোম দিয়েই কাজ সেরে আসছিল তেল আবিব। তবে লোহিত সাগরে ইয়েমেনের ইরানপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে অ্যারো ডিফেন্স ব্যবহার করতে হয়।

মূলত হামাস ও হিজবুল্লাহর রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো স্বল্পপাল্লার। তবে গত কয়েক দশকে ইসরায়েলের চিরশত্রু ইরানের ভান্ডারে বিভিন্ন দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক মিসাইল যুক্ত হয়। এসব ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে শুধু ইসরায়েলি ভূখণ্ড নয়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ঘাঁটিতে আঘাত হানতে পারে।

তাই নিজেদের ভান্ডারে এতগুলো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকলেও জোটবদ্ধ হয়ে প্যাট্রিয়টের চেয়েও আধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অ্যারো ডিফেন্স নিয়ে আসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।

মূলত ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে অ্যারো ডিফেন্স প্রোগ্রাম হাতে নেয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইতিমধ্যে এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বেশ কয়েকটি সংস্করণ তৈরি করেছে দেশ দুটি। এদের মধ্যে সবচেয়ে আধুনিক সংস্করণ হলো অ্যারো থ্রি।

২০১১ সালের দিকে অ্যারো থ্রি-এর সংস্করণের সফল পরীক্ষা করে ইসরায়েল। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসে সক্ষম এই ব্যবস্থাটির গতি শব্দের চেয়ে ৯ গুণ বেশি। এর কার্যক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এর শক্তিশালী রাডার সিস্টেম রয়েছে। এটি বায়ুমণ্ডলের সর্বোচ্চ স্তরে গিয়ে শত্রুপক্ষের অস্ত্র ধ্বংস করে দিতে পারে।উৎস

Facebook Comments Box