ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমান ও বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালাচ্ছে ফ্যাসিস্ট ও গুপ্ত বাহিনী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার নির্ধারণী কর্মশালা ও উপাচার্যের দিকনির্দেশনা চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের নিয়োগ, আবেদন শুরু নভেম্বরে ঢালচরের পর্যটন বিকাশে মতবিনিময় করল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন শ্রীপুরে পিতাকে লাঠি দিয়ে আঘাতের অভিযোগে পলাতক তরুণ আটক ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: ইসি সচিব ডাকসুতে জয়ই ইসলাম প্রতিষ্ঠার পথ: মিয়া গোলাম পরওয়ার পাঁচ খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কল্যাণপুর জঙ্গি অভিযান: শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের শুনানি পেছাল ট্রাম্প: আমার সমর্থন পাওয়ায় নেতানিয়াহু নিশ্চিত পরাজয় এড়িয়েছেন

আইনের তোয়াক্কা না করেই বইয়ের বোঝা চাপিয়ে অর্থ আদায় করছে কিন্ডারগার্টেনগুলো

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২৩:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ জুলাই ২০২২ ৩৫৫ বার পড়া হয়েছে

আইনের তোয়াক্কা না করেই বইয়ের বোঝা চাপিয়ে অর্থ আদায় করছে কিন্ডারগার্টেনগুলো

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 


শিক্ষাক্রম নতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে ,কমানো হচ্ছে বই ও পরীক্ষার বোঝা।শিখনকালীন মূল্যায়নের গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে । অনেকেই নতুন এই শিক্ষাক্রমকে স্বাগত জানিয়েছেন তবে ফের একই প্রশ্ন নতুন সিদ্ধান্ত মানবে তো বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনগুলো? প্রায় ৬০ হাজার কিন্ডারগার্টেন বর্তমানে দেশব্যাপী রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজস্ব সিলেবাসে পড়াশোনা হয়,প্রতিষ্ঠানের পছন্দ অনুযায়ী পাঠ্যসূচিও থাকে । ২০২৩ সাল থেকে ১ম, ২য়, ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণিতে শুরু হচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রমের কার্যক্রম। আর ধাপে ধাপে শুরু হবে পরের বছর থেকে। কিন্ডারগার্টেনে সরকার প্রণীতি শিক্ষাক্রম অনুসরণ করা হবে কিনা- এ নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে
এসব প্রতিষ্ঠানকে আগেও নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে জানতে চাইলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি স্কুলের প্রতিষ্ঠান প্রধান বলেন, নতুন শিক্ষাক্রম ভালো সিদ্ধান্ত। তবে শিক্ষার্থীদের অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে আলাদা করার জন্য কিছু বিষয় যুক্ত করা প্রয়োজন। আমরা এখনো পূর্ণ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারিনি। তিনি বলেন, আমরা অপেক্ষা করবো অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কি সিদ্ধান্ত নেয়। বরাবরই আইনের তোয়াক্কা করে না কিন্ডারগার্টেনগুলো। রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় ১০ থেকে ১২টি বিষয়। এমনকি প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা শিখছে কম্পিউটার, সায়েন্স, জেনারেল নলেজের মতো বিষয়।




এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনেকটা বাধ্য হয়েই সন্তানদের পড়ান অভিভাবকরা। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বল্পতার কারণেও কিন্ডারগার্টেনে পাঠান অনেক অভিভাবক। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বাড়তি বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে আদায় করছে বাড়তি অর্থ। অধিকাংশেরই নেই অনুমোদন। এসব প্রতিষ্ঠান পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করে থাকে ভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে
রাজধানীর আদাবরের রেইনবো স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্লে ক্লাসের শিক্ষার্থীকে পড়তে হয় আটটি বই। সে বইগুলো আবার দেয়া হয় স্কুল থেকে। বইয়ের অর্থের পাশাপাশি ভর্তির সময় রাখা হয় দুই জোড়া পোশাক ও ২০ সেট খাতার দাম। এই প্রতিষ্ঠানের একজন অভিভাবক বলেন, বাচ্চাকে পড়াতে বাধ্য। এখানে ভর্তির সময় দিতে হয়েছে ১৮ হাজার টাকা। আর প্রতি মাসে বেতন ১২শ’ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির নেই কোনো অনুমোদন।

 





নতুন শিক্ষা বছরে কীভাবে চলবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো। এই বিষয়ে কিন্ডারগার্টেনগুলোর এক শিক্ষক নেতা বলেন, আমাদের শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আকর্ষণ করে শিক্ষার্থী আনতে হয়। আবার প্রতিষ্ঠান পরিচালনাসহ শিক্ষকদেরও বেতন দিতে হয় মাসিক বেতন থেকে। আমরা সরকার অনুমোদিত বিষয় যদি শুধু পড়াই অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থী পাবো না। কারণ অভিভাবকদের মধ্যে সন্তান পিছিয়ে পড়ার একটা ভয় সব সময়ই থাকে। এখন এসব কারণে হয়তো আমরা নতুন শিক্ষাক্রম আসার পরও আমরা কিছু বিষয় চালু রাখার চেষ্টা করবো।



বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান এম ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, প্রথমত সরকার আমাদের দেখানো নীতিতে এক জায়গায় মিলিত হয়েছে। আমরা প্রথম শ্রেণির আগে দুই বছর পড়াতাম, নতুন কারিকুলামেও দুই বছর রাখা হয়েছে। আর আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্তের সন্তানরা পড়েন। আমরা যদি একটু আপডেট বিষয় না পড়াই তবে কেন আমাদের প্রতিষ্ঠানে পড়বে? তবে আমরাও বাড়তি বইয়ের চাপে বিশ্বাসী নই।

 



 

তিনি আরও বলেন, আমরা তো চাই সরকারের সঙ্গে একীভূত হতে। ২০১১ সালে উদ্যোগ নেয়ার পর হাজার হাজার ফাইল আটকা আছে, আমাদের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে না। আমাদের যদি অনুমোদনের আওতায় আনা হয় তাহলে আমরাও সরকারের বেঁধে দেয়া নিয়মে চলবো। আমরাও তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করতে চাই।
আমাদের অনুমোদনের ব্যবস্থা করলে আমরাও নিয়ম যথাযথভাবে পালন করবো। এ বিষয়ে জানতে চাইলে, ডিপিই মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মুহিবুর রহমান বলেন, আমরা এই বিষয়টি শিগগিরই আলোচনা করবো। সেই সঙ্গে একটা সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করবো।সূত্রঃমানবজমিন

 





 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

One thought on “আইনের তোয়াক্কা না করেই বইয়ের বোঝা চাপিয়ে অর্থ আদায় করছে কিন্ডারগার্টেনগুলো”

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আইনের তোয়াক্কা না করেই বইয়ের বোঝা চাপিয়ে অর্থ আদায় করছে কিন্ডারগার্টেনগুলো

আপডেট সময় : ০৪:২৩:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ জুলাই ২০২২

 


শিক্ষাক্রম নতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে ,কমানো হচ্ছে বই ও পরীক্ষার বোঝা।শিখনকালীন মূল্যায়নের গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে । অনেকেই নতুন এই শিক্ষাক্রমকে স্বাগত জানিয়েছেন তবে ফের একই প্রশ্ন নতুন সিদ্ধান্ত মানবে তো বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনগুলো? প্রায় ৬০ হাজার কিন্ডারগার্টেন বর্তমানে দেশব্যাপী রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজস্ব সিলেবাসে পড়াশোনা হয়,প্রতিষ্ঠানের পছন্দ অনুযায়ী পাঠ্যসূচিও থাকে । ২০২৩ সাল থেকে ১ম, ২য়, ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণিতে শুরু হচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রমের কার্যক্রম। আর ধাপে ধাপে শুরু হবে পরের বছর থেকে। কিন্ডারগার্টেনে সরকার প্রণীতি শিক্ষাক্রম অনুসরণ করা হবে কিনা- এ নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে
এসব প্রতিষ্ঠানকে আগেও নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে জানতে চাইলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি স্কুলের প্রতিষ্ঠান প্রধান বলেন, নতুন শিক্ষাক্রম ভালো সিদ্ধান্ত। তবে শিক্ষার্থীদের অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে আলাদা করার জন্য কিছু বিষয় যুক্ত করা প্রয়োজন। আমরা এখনো পূর্ণ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারিনি। তিনি বলেন, আমরা অপেক্ষা করবো অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কি সিদ্ধান্ত নেয়। বরাবরই আইনের তোয়াক্কা করে না কিন্ডারগার্টেনগুলো। রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় ১০ থেকে ১২টি বিষয়। এমনকি প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা শিখছে কম্পিউটার, সায়েন্স, জেনারেল নলেজের মতো বিষয়।




এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনেকটা বাধ্য হয়েই সন্তানদের পড়ান অভিভাবকরা। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বল্পতার কারণেও কিন্ডারগার্টেনে পাঠান অনেক অভিভাবক। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বাড়তি বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে আদায় করছে বাড়তি অর্থ। অধিকাংশেরই নেই অনুমোদন। এসব প্রতিষ্ঠান পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করে থাকে ভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে
রাজধানীর আদাবরের রেইনবো স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্লে ক্লাসের শিক্ষার্থীকে পড়তে হয় আটটি বই। সে বইগুলো আবার দেয়া হয় স্কুল থেকে। বইয়ের অর্থের পাশাপাশি ভর্তির সময় রাখা হয় দুই জোড়া পোশাক ও ২০ সেট খাতার দাম। এই প্রতিষ্ঠানের একজন অভিভাবক বলেন, বাচ্চাকে পড়াতে বাধ্য। এখানে ভর্তির সময় দিতে হয়েছে ১৮ হাজার টাকা। আর প্রতি মাসে বেতন ১২শ’ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির নেই কোনো অনুমোদন।

 





নতুন শিক্ষা বছরে কীভাবে চলবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো। এই বিষয়ে কিন্ডারগার্টেনগুলোর এক শিক্ষক নেতা বলেন, আমাদের শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আকর্ষণ করে শিক্ষার্থী আনতে হয়। আবার প্রতিষ্ঠান পরিচালনাসহ শিক্ষকদেরও বেতন দিতে হয় মাসিক বেতন থেকে। আমরা সরকার অনুমোদিত বিষয় যদি শুধু পড়াই অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থী পাবো না। কারণ অভিভাবকদের মধ্যে সন্তান পিছিয়ে পড়ার একটা ভয় সব সময়ই থাকে। এখন এসব কারণে হয়তো আমরা নতুন শিক্ষাক্রম আসার পরও আমরা কিছু বিষয় চালু রাখার চেষ্টা করবো।



বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান এম ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, প্রথমত সরকার আমাদের দেখানো নীতিতে এক জায়গায় মিলিত হয়েছে। আমরা প্রথম শ্রেণির আগে দুই বছর পড়াতাম, নতুন কারিকুলামেও দুই বছর রাখা হয়েছে। আর আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্তের সন্তানরা পড়েন। আমরা যদি একটু আপডেট বিষয় না পড়াই তবে কেন আমাদের প্রতিষ্ঠানে পড়বে? তবে আমরাও বাড়তি বইয়ের চাপে বিশ্বাসী নই।

 



 

তিনি আরও বলেন, আমরা তো চাই সরকারের সঙ্গে একীভূত হতে। ২০১১ সালে উদ্যোগ নেয়ার পর হাজার হাজার ফাইল আটকা আছে, আমাদের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে না। আমাদের যদি অনুমোদনের আওতায় আনা হয় তাহলে আমরাও সরকারের বেঁধে দেয়া নিয়মে চলবো। আমরাও তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করতে চাই।
আমাদের অনুমোদনের ব্যবস্থা করলে আমরাও নিয়ম যথাযথভাবে পালন করবো। এ বিষয়ে জানতে চাইলে, ডিপিই মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মুহিবুর রহমান বলেন, আমরা এই বিষয়টি শিগগিরই আলোচনা করবো। সেই সঙ্গে একটা সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করবো।সূত্রঃমানবজমিন

 





 

Facebook Comments Box