ঢাকা ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালদ্বীপে যথাযথ মর্যাদায় পালিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঢাকা কর অঞ্চল-১৭ এ ৫৫ কর্মী নিয়োগ হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কাতার কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তরুণ পরিবেশকর্মী রিফাত প্রতি বাংলাদেশির মাথায় ৬৪৬ ডলার বৈদেশিক ঋণ: বিশ্বব্যাংক দুর্নীতিতে অনেক সমবায় সমিতি অকার্যকর হয়ে পড়েছে: রাষ্ট্রপতি ইসরাইলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকট: সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ৩৫ টাকা দরে ৩ লাখ টন আমন ধান কিনবে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী ডিএমপি: জনমনে আতঙ্ক ছড়াতেই বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন হত্যায় বিচার শুরুর নির্দেশ

মালদ্বীপে যথাযথ মর্যাদায় পালিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৩:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেছে মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত এক একাডেমিক সেমিনার ও প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাস, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অসামান্য অবদান এবং বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের বিবর্তন ও বিকাশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষাবিদ, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড পাবলিক পলিসি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ হুদ ইব্রাহিম। আলোচনায় ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে এই দিনের গুরুত্ব এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও দেশপ্রেমের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে রাষ্ট্রগঠন ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ় করার যে প্রয়াস নেওয়া হয়েছিল, তা বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম ৭ নভেম্বর ১৯৭৫-এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য স্মরণ করে জাতীয় ঐক্য, সংহতি, দেশপ্রেম এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্মিলিত অঙ্গীকারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আলোচনার অন্যতম মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সম্পর্ক। সেমিনারে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রপতিত্বকালে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্কের যাত্রা শুরু হয়। এই ঐতিহাসিক উদ্যোগই উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেছে। প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলমান এই সম্পর্ক বর্তমানে আরও বহুমাত্রিক ও গভীর হয়েছে। প্রবন্ধ উপস্থাপক মোহাম্মদ হুদ ইব্রাহিম দুই দেশের এই কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি বিশ্লেষণ করে ১৯৭৮ সালের তাৎপর্য পুনর্নির্মাণ করেন।

প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণকারী মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. কে. এম. হুরিয়া পারভীন একাডেমিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক বোঝাপড়া ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের গুরুত্ব আলোচনা করেন। প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও কমিউনিটি নেতা খলিলুর রহমান দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি মালদ্বীপের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, কর্মঠ প্রবাসীরা দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের এক জীবন্ত সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন।

সভাপতির বক্তব্যে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ১৯৭৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের যে ভিত্তি রচিত হয়েছিল, তা আজ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি নাগরিক মালদ্বীপে কর্মরত রয়েছেন, যারা দেশটির অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। প্রবাসীদের প্রতি মালদ্বীপ সরকার ও জনগণের সমর্থন ও আতিথেয়তার জন্য তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

হাইকমিশনার আরও বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষা, একাডেমিক বিনিময় ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা প্রয়োজন। এই সেমিনার দুই দেশের মধ্যে একাডেমিক সম্পৃক্ততা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুরআন তিলাওয়াত, দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সবশেষে দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত ও আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মালদ্বীপে যথাযথ মর্যাদায় পালিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

আপডেট সময় : ০৭:০৩:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেছে মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত এক একাডেমিক সেমিনার ও প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাস, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অসামান্য অবদান এবং বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের বিবর্তন ও বিকাশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষাবিদ, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড পাবলিক পলিসি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ হুদ ইব্রাহিম। আলোচনায় ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে এই দিনের গুরুত্ব এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও দেশপ্রেমের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে রাষ্ট্রগঠন ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ় করার যে প্রয়াস নেওয়া হয়েছিল, তা বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম ৭ নভেম্বর ১৯৭৫-এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য স্মরণ করে জাতীয় ঐক্য, সংহতি, দেশপ্রেম এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্মিলিত অঙ্গীকারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আলোচনার অন্যতম মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সম্পর্ক। সেমিনারে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রপতিত্বকালে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্কের যাত্রা শুরু হয়। এই ঐতিহাসিক উদ্যোগই উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেছে। প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলমান এই সম্পর্ক বর্তমানে আরও বহুমাত্রিক ও গভীর হয়েছে। প্রবন্ধ উপস্থাপক মোহাম্মদ হুদ ইব্রাহিম দুই দেশের এই কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি বিশ্লেষণ করে ১৯৭৮ সালের তাৎপর্য পুনর্নির্মাণ করেন।

প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণকারী মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. কে. এম. হুরিয়া পারভীন একাডেমিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক বোঝাপড়া ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের গুরুত্ব আলোচনা করেন। প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও কমিউনিটি নেতা খলিলুর রহমান দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি মালদ্বীপের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, কর্মঠ প্রবাসীরা দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের এক জীবন্ত সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন।

সভাপতির বক্তব্যে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ১৯৭৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের যে ভিত্তি রচিত হয়েছিল, তা আজ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি নাগরিক মালদ্বীপে কর্মরত রয়েছেন, যারা দেশটির অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। প্রবাসীদের প্রতি মালদ্বীপ সরকার ও জনগণের সমর্থন ও আতিথেয়তার জন্য তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

হাইকমিশনার আরও বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষা, একাডেমিক বিনিময় ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা প্রয়োজন। এই সেমিনার দুই দেশের মধ্যে একাডেমিক সম্পৃক্ততা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুরআন তিলাওয়াত, দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সবশেষে দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত ও আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

Facebook Comments Box