ঢাকা ১১:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা নেমে ১৬ ডিগ্রিতে, বাড়ছে শীতের প্রকোপ নিউজিল্যান্ড উপকূলে আটকে পড়া ৪৩টি তিমির মর্মান্তিক মৃত্যু ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন বিরোধী নেতা আইজেনকোট দেশ পুনর্গঠনে সরকার কাজ করছে, জানালেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আহমেদ আজম খান জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ যেকোনো ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী ইসরাইলে সরকার গঠনের জন্য আইজেনকটকে আমন্ত্রণ জানালেন প্রেসিডেন্ট ফিনিশিংয়ের আক্ষেপ ঘোচাতে শেখ মোরছালিনকে ফেরাতে চায় বাংলাদেশ সাতকানিয়ায় শিক্ষা সফরের বাস খাদে, নিহত ২ ও আহত ৩০ শ্রীলঙ্কার ম্যাচের আগেই ফিরছেন হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলি ওয়াহিদ

যেকোনো ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত বিশাল এক র‌্যালি-পূর্ব সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অতীতের মতোই এখনো দেশে ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব খর্ব করতে চায় এবং আবারও ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনের মতো অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চাপিয়ে দিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমরা দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত। একাত্তর, নব্বই এবং ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। মানিক মিয়া এভিনিউতে র‌্যালির সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন। বিকালে র‌্যালিটি নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়। পুরো রাস্তা জুড়ে র‌্যালিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। নেতাকর্মীদের হাতে বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আলোকচিত্র সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। তিনি বলেন, ৭ই নভেম্বর হচ্ছে, জাতীয় ঐক্যের দিন, ৭ই নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে রক্ষার দিন, ৭ই নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের বাক-স্বাধীনতার দিন। তার নেতৃত্বে র‌্যালিটি কাকরাইল মোড়, প্রধান বিচারপতির বাস ভবনের পাশ দিয়ে রমনা পার্ক সড়ক, হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল মোড় হয়ে বাংলামোটর, ফার্মগেট, ইন্দিরা রোড সড়ক হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়। তিনি বলেন, ওই সড়কের দুই পাশে গাছ লাগানো হবে।

র‌্যালি শুরুর প্রাক্কালে নয়াপল্টনে অস্থায়ী মঞ্চে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১২টা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হতে শুরু করেন। কাকরাইল থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা জনস্রোতে পরিণত হয়। র‌্যালির সামনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা কী আমাদের সঙ্গে আছেন?’ প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানে উপস্থিত জনতা করতালি ও স্লোগান দিয়ে সমর্থন জানান। হাফহাতা শার্ট ও প্যান্ট পরিহিত প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের ভেতরে বা বাইরে যেখান থেকেই গণতন্ত্রবিরোধী ষড়যন্ত্র আসুক না কেন, তা সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট যেভাবে অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মতো ষড়যন্ত্রকারীরা আবারও পরাজিত হবে। এই সময়ে নেতা-কর্মী-সমর্থকরা করতালি ও স্লোগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানায়। কোনো ষড়যন্ত্র দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক করে মানুষকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না। নিজে স্লোগান ধরে সরকারপ্রধান বলেন, আবারো আমি বলতে চাই, দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। দেশের মানুষেরা সেই স্বৈরাচার সেই ষড়যন্ত্রকারী তাদেরকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছেন।

দেশের প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়নকে নিরাপদ রাখা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার রাজধানী ঢাকাতে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, গ্রামীণ জনপদ নিরাপদ থাকলেই বাংলাদেশ নিরাপদ থাকবে। এ সময় তিনি গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দেন। এর মধ্যে অবসরকালীন আনুতোষিক ভাতা ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানের ক্ষেত্রে ৮০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া, যোগাযোগ সুবিধার জন্য মাসিক ১৫০ টাকা মোবাইল খরচ এবং যাতায়াত ভাতা বৃদ্ধির কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, এখন থেকে একজন গ্রাম পুলিশ সদস্য মাসিক ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশের প্রধান ১১ হাজার টাকা বেতন পাবেন। পাশাপাশি প্রত্যেক সদস্যকে প্রতি মাসে ১৫০ টাকা করে মোবাইল বিল দেবে সরকার। বর্তমানে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে ৩০০ টাকা যাতায়াত ভাতা পান। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি থানায় যাতায়াত ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে এ ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছে। গাছ বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

নারীদের ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে দুইজন করে নতুন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নারী গ্রাম পুলিশদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করা হবে। এছাড়া কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি দীর্ঘ সড়ক গ্রাম পুলিশের নামে নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম পুলিশ সদস্যদের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সবাইকে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ার অনুরোধ করেন। সন্ধ্যায় সেখানে কনসার্টের আয়োজন করা হয়। আর তৃণমূল মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় গ্রাম পুলিশের ভূমিকা অনেক বেশি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পদবি পরিবর্তন নয়, গ্রাম পুলিশের আর্থিক ও পেশাগত মর্যাদা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি স্টেডিয়ামে বিএনসিসি, ক্যাডেট ও স্কাউটদের ডিসপ্লে প্রদর্শনীতেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী। সেখানে তিনি ৭ই নভেম্বরকে স্বাধীন বাংলাদেশের ‘ম্যাগনাকার্টা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, এই দিনটি আমাদের দলমত নির্বিশেষে বাংলাদেশি পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ করেছে। প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাস সচেতন হতে হবে, কারণ ইতিহাস কেবল স্মৃতিচারণ নয়, বরং এটি আত্মমর্যাদা ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের মূল চালিকাশক্তি।

অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মেজবাহ-উল আজীম। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম শামছুল ইসলামসহ মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য ও শীর্ষ নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সরকার একটি কল্যাণমূলক ও নিরাপদ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নাগরিক সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের দায়িত্ববোধ থাকা প্রয়োজন। মহাসমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সাথে প্রধানমন্ত্রী কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কোথায় অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, কোথায় অপরাধের আশঙ্কা রয়েছে- এসব বিষয়ে গ্রাম পুলিশ আগেভাগে তথ্য সংগ্রহ করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে পারে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যেকোনো ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৯:০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত বিশাল এক র‌্যালি-পূর্ব সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অতীতের মতোই এখনো দেশে ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব খর্ব করতে চায় এবং আবারও ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনের মতো অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চাপিয়ে দিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমরা দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত। একাত্তর, নব্বই এবং ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। মানিক মিয়া এভিনিউতে র‌্যালির সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন। বিকালে র‌্যালিটি নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়। পুরো রাস্তা জুড়ে র‌্যালিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। নেতাকর্মীদের হাতে বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আলোকচিত্র সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। তিনি বলেন, ৭ই নভেম্বর হচ্ছে, জাতীয় ঐক্যের দিন, ৭ই নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে রক্ষার দিন, ৭ই নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের বাক-স্বাধীনতার দিন। তার নেতৃত্বে র‌্যালিটি কাকরাইল মোড়, প্রধান বিচারপতির বাস ভবনের পাশ দিয়ে রমনা পার্ক সড়ক, হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল মোড় হয়ে বাংলামোটর, ফার্মগেট, ইন্দিরা রোড সড়ক হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়। তিনি বলেন, ওই সড়কের দুই পাশে গাছ লাগানো হবে।

র‌্যালি শুরুর প্রাক্কালে নয়াপল্টনে অস্থায়ী মঞ্চে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১২টা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হতে শুরু করেন। কাকরাইল থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা জনস্রোতে পরিণত হয়। র‌্যালির সামনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা কী আমাদের সঙ্গে আছেন?’ প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানে উপস্থিত জনতা করতালি ও স্লোগান দিয়ে সমর্থন জানান। হাফহাতা শার্ট ও প্যান্ট পরিহিত প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের ভেতরে বা বাইরে যেখান থেকেই গণতন্ত্রবিরোধী ষড়যন্ত্র আসুক না কেন, তা সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট যেভাবে অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মতো ষড়যন্ত্রকারীরা আবারও পরাজিত হবে। এই সময়ে নেতা-কর্মী-সমর্থকরা করতালি ও স্লোগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানায়। কোনো ষড়যন্ত্র দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক করে মানুষকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না। নিজে স্লোগান ধরে সরকারপ্রধান বলেন, আবারো আমি বলতে চাই, দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। দেশের মানুষেরা সেই স্বৈরাচার সেই ষড়যন্ত্রকারী তাদেরকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছেন।

দেশের প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়নকে নিরাপদ রাখা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার রাজধানী ঢাকাতে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, গ্রামীণ জনপদ নিরাপদ থাকলেই বাংলাদেশ নিরাপদ থাকবে। এ সময় তিনি গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দেন। এর মধ্যে অবসরকালীন আনুতোষিক ভাতা ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানের ক্ষেত্রে ৮০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া, যোগাযোগ সুবিধার জন্য মাসিক ১৫০ টাকা মোবাইল খরচ এবং যাতায়াত ভাতা বৃদ্ধির কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, এখন থেকে একজন গ্রাম পুলিশ সদস্য মাসিক ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশের প্রধান ১১ হাজার টাকা বেতন পাবেন। পাশাপাশি প্রত্যেক সদস্যকে প্রতি মাসে ১৫০ টাকা করে মোবাইল বিল দেবে সরকার। বর্তমানে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে ৩০০ টাকা যাতায়াত ভাতা পান। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি থানায় যাতায়াত ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে এ ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছে। গাছ বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

নারীদের ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে দুইজন করে নতুন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নারী গ্রাম পুলিশদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করা হবে। এছাড়া কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি দীর্ঘ সড়ক গ্রাম পুলিশের নামে নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম পুলিশ সদস্যদের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সবাইকে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ার অনুরোধ করেন। সন্ধ্যায় সেখানে কনসার্টের আয়োজন করা হয়। আর তৃণমূল মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় গ্রাম পুলিশের ভূমিকা অনেক বেশি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পদবি পরিবর্তন নয়, গ্রাম পুলিশের আর্থিক ও পেশাগত মর্যাদা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি স্টেডিয়ামে বিএনসিসি, ক্যাডেট ও স্কাউটদের ডিসপ্লে প্রদর্শনীতেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী। সেখানে তিনি ৭ই নভেম্বরকে স্বাধীন বাংলাদেশের ‘ম্যাগনাকার্টা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, এই দিনটি আমাদের দলমত নির্বিশেষে বাংলাদেশি পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ করেছে। প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাস সচেতন হতে হবে, কারণ ইতিহাস কেবল স্মৃতিচারণ নয়, বরং এটি আত্মমর্যাদা ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের মূল চালিকাশক্তি।

অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মেজবাহ-উল আজীম। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম শামছুল ইসলামসহ মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য ও শীর্ষ নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সরকার একটি কল্যাণমূলক ও নিরাপদ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নাগরিক সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের দায়িত্ববোধ থাকা প্রয়োজন। মহাসমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সাথে প্রধানমন্ত্রী কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কোথায় অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, কোথায় অপরাধের আশঙ্কা রয়েছে- এসব বিষয়ে গ্রাম পুলিশ আগেভাগে তথ্য সংগ্রহ করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে পারে।

Facebook Comments Box