মুচলেকা দিয়ে আদালত থেকে জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি
- আপডেট সময় : ০৪:০৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালতে তিনি হাজিরা দেন। শুনানি শেষে আদালত ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাকে জামিন প্রদান করেছেন।
এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে উপস্থিত হন পরীমনি। তার সঙ্গে এ সময় ১১ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে তিনি আদালতের এজলাসে প্রবেশ করেন। তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী আদালতে জামিনের আবেদন উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন মঞ্জুর করলে বেলা ১২টার দিকে তিনি আদালত চত্বর ত্যাগ করেন। তবে এসময় তার দেহরক্ষীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং পরে এক সাংবাদিকের ফোন নিয়ে হট্টগোল তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে সমাধান করা হয়। এসময় তার সঙ্গে দেহরক্ষীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। পরে গাড়িতে উঠার সময় এক সাংবাদিক তার গায়ে হাত দিয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন পরীমনি। তবে পরবর্তীতে তার ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়। তাদের সঙ্গে কিছু সময় বসারও অনুরোধ করেন।
এর আগের দিন, অর্থাৎ বুধবার মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে সেদিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন পরীমনি। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, এলার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারছেন না। তবে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল এই সময়ের আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের সময় নষ্ট করছেন এবং জামিন বাতিলযোগ্য। সেই প্রেক্ষিতে আদালত সময়ের আবেদন নাকচ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন এবং আগামী ২৩ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলাটির দীর্ঘ ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে নালিশি মামলা করেন। অপর দুই আসামি হলেন পরীমণির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি। পরীমণি তার পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানির ভয় দেখান।
মামলার অভিযোগে নাসির উদ্দিন উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন অর্থাৎ ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারে অবস্থিত বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন।
সেখানে তারা ওয়াশরুম ব্যবহারের পর ক্লাবের ভেতরে অ্যালকোহল পান করেন। রাত ১টা ১৫ মিনিটে ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদীকে ডাক দেন এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে তাকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন। নাসির উদ্দিন জানান, এ সময় পরীমনি একটি দামী অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার দাবি তুললে তিনি তাতে আপত্তি জানান। এতে পরীমনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হাতের সার্ভিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন, যার আঘাতে তিনি মাথায় ও বুকে জখম হন। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। এতে আরও বলা হয়, বাদী (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম রাত ১টা ১৫ মিনিটে যখন ক্লাব ত্যাগ করছিলেন, তখন পরীমণি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাসিরকে ডাক দেন।
নাসির উদ্দিনের অভিযোগ অনুযায়ী, পরীমনি ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেন এবং ক্লাবের ভেতরে ভাঙচুর চালান। এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরবর্তীতে পরীমনি সাভার থানায় নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে পাল্টা মামলা করেছিলেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২৪ সালে পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তার ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদীর বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি। আদালত সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমনি ও জুনায়েদ বোগদাদীকে সমন জারি করেন এবং এর আগে ২৫ জুন তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছিলেন। এছাড়া গত বছরের ২৬ জানুয়ারি আদালত এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























