সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মধ্যে নতুন ৪৮ ঘণ্টার পাল্টা অবরোধ
- আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে
সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মধ্যে নতুন ৪৮ ঘণ্টার পাল্টা অবরোধ
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে চলমান অনির্দিষ্টকালের অবরোধের পাশাপাশি নতুন করে ৪৮ ঘণ্টার একটি পাল্টা অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোর ৬টা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির নেতৃত্বে এই নতুন কর্মসূচি কার্যকর করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংগঠনটির সদস্য সচিব বিন্দু লাল চাকমা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সংগঠনটির সদস্য সচিব বিন্দু লাল চাকমা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৪৮ ঘণ্টার এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির ভাষ্যমতে, গত ১১ অক্টোবর থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে দফায় দফায় অবরোধের ফলে স্থানীয় অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং জুমচাষিরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অবরোধের কারণে কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে না পারায় চাষিদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
পড়ুন>>ডেমোক্র্যাটদের জয়ে অভিনন্দন জানিয়ে ট্রাম্প বললেন হারের কারণ ইরান যুদ্ধ
এছাড়া আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর চাপ ও প্রভাবের মুখে জুমচাষিরা এই অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও অভিযোগ তুলেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি। তারা অবিলম্বে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১, ১৫ ও ২২ থেকে ৩১ অক্টোবর এবং সর্বশেষ ২ নভেম্বর থেকে চতুর্থ দফায় সাজেক সড়কে অবরোধ চলছে। এ পরিস্থিতিতে সাজেকসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে অবরোধ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। অবরোধের সমর্থনে ভোর থেকেই সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা সাজেক-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। দীর্ঘদিনের এ কর্মসূচিতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পড়ুন>>মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলছে অর্থনৈতিক ও অভিবাসন ইস্যু
পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্টদের আয়-রোজগারও কমে গেছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতির পাশাপাশি সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে। আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় পাহাড়ের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ব্যাহত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সাজেক থেকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন গত ২২ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ পালন করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে তারা এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থায় সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ প্রায় বন্ধ রয়েছে, যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ২৬ অক্টোবর উজো বাজারে সরকারি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক হয়েছিল। সেখানে পাঁচটি দাবির মধ্যে চারটিতে সমঝোতা হলেও সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কোনো ঐকমত্য হয়নি।
আরও পড়ুন>>যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
এই অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন নিরাপত্তাজনিত কারণে গত ২২ অক্টোবর থেকেই সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। পাল্টা অবরোধের কারণে পাহাড়ি জনপদের জনজীবন এখন আরও বেশি স্থবির হয়ে পড়েছে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























