সন্তান জন্মের তিন দিনেই সড়কে প্রাণ গেল মার, আইসিইউতে নবজাতক
- আপডেট সময় : ০৮:৪৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
কন্যাসন্তানের জন্মের মাত্র তিন দিনের মাথায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন হালিমা বেগম (২০)। মারাত্মকভাবে আঘাত পাওয়া তাঁর নবজাতক শিশুটির অবস্থাও আশঙ্কাজনক। বর্তমানে শিশুটিকে সিলেট শহরের একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনায় শিশুটির স্বজনসহ আরও কয়েকজন আহত হন। একই দুর্ঘটনায় তাঁর নবজাতক সন্তানসহ পরিবারের চার সদস্য আহত হয়েছেন। এখন পরিবারের সবার একটাই চাওয়া, নবজাতক শিশুটি যেন বেঁচে থাকে।
রোববার রাত আটটার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাশিকাপন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হালিমা তাজপুর ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী রাজু মিয়ার স্ত্রী। সড়ক দুর্ঘটনায় হালিমার মা রুবেনা বেগম, শাশুড়ি শাহেনা বেগম, শ্বশুর আনহার মিয়া, ননদ ইমা বেগম ও অ্যাম্বুলেন্সের চালক মুহিবুর রহমান আঘাতপ্রাপ্ত হন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গত শুক্রবার সকালে তাজপুরের এক ক্লিনিকে প্রথম কন্যাসন্তানের জন্ম দেন হালিমা। রোববার রাতে নবজাতকের শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তাকে নিয়ে সিলেটে রওনা হন পরিবারটির সদস্যরা। পথিমধ্যে অ্যাম্বুলেন্সটি কাশিকাপন পৌঁছালে বেপরোয়া গতি ও চালকের অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি চালানোর কারণে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোড়ে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই হালিমার মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। গতকাল নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট নগরের একটি হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হলো না।
হালিমার মামা আলাল মিয়া জানান, প্রবাসে থাকা রাজু মিয়া তাঁর বড় বোনের ছেলে। প্রায় এক বছর আগে দেশে এসে বিয়ের চার মাস পর তিনি আবার সৌদি আরবে ফিরে যান। প্রথম সন্তান হওয়ার আনন্দে তিনি উদ্বেলিত ছিলেন। তবে নবজাতকের আইসিইউতে থাকা এবং স্ত্রীর আকস্মিক মৃত্যুর বার্তা পেয়ে তিনি প্রবাসে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। পরে অন্য প্রবাসীরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। আজ সোমবার দুপুরে হালিমার দাফন শেষ হয়েছে এবং সামান্য আহত স্বজনেরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্স দুটিই জব্দ করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সন্তান জন্মের খবরে খুব খুশি হয়েছিলেন রাজু। এমন খবর শুনে প্রবাসে রাজু নিজেও জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
সূত্র: প্রথম আলো
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























