ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢালচরের পর্যটন বিকাশে মতবিনিময় করল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন শ্রীপুরে পিতাকে লাঠি দিয়ে আঘাতের অভিযোগে পলাতক তরুণ আটক ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: ইসি সচিব ডাকসুতে জয়ই ইসলাম প্রতিষ্ঠার পথ: মিয়া গোলাম পরওয়ার পাঁচ খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কল্যাণপুর জঙ্গি অভিযান: শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের শুনানি পেছাল ট্রাম্প: আমার সমর্থন পাওয়ায় নেতানিয়াহু নিশ্চিত পরাজয় এড়িয়েছেন ব্যালন ডি’অর না জিতলেও আত্মবিশ্বাসী লামিন ইয়ামাল: আসবে আমার সময়ও আইইডিসিআর কার্যালয়ে ঢুকে পরিচালককে নিরাপত্তা ঘটনায়, অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি ড্যাব গাজীপুর কর অঞ্চলে ৩৪টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

ডাকসুতে জয়ই ইসলাম প্রতিষ্ঠার পথ: মিয়া গোলাম পরওয়ার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৯:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতিরা বলতেন, আমরা যেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-তে জিতব, সেদিনই বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী আয়োজিত ‘২৮ অক্টোবর ২০০৬: আওয়ামী নৃশংসতা ও ফ্যাসিবাদের উত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি যোগ করেন, বর্তমানে ডাকসুসহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী আন্দোলনের যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, তা দেশে ইসলামের বিজয়েরই স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।

স্মৃতিচারণ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ছাত্রজীবন থেকে আমরা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে জানতে চাইতাম দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদে বিজয়ী হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবে জয় আসবে। তখন তারা দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বলতেন, ডাকসুতে বিজয়ের দিনেই বাংলাদেশে ইসলাম পূর্ণ বিজয় লাভ করবে। আজ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবিরের ক্রমবর্ধমান সাফল্য সেই ঐতিহাসিক অঙ্গীকার পূরণেরই প্রতিফলন বলে তিনি দাবি করেন।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের পল্টন ট্র্যাজেডির ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, সেদিন লগি-বৈঠা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ১৪ দল ও বামপন্থীরা পৈশাচিক হামলা চালিয়েছিল। তৎকালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও অন্যান্য নেতারা মঞ্চে থাকাবস্থায় শিবিরের তরুণ কর্মীরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে মানবঢাল তৈরি করেছিলেন। তিনি বলেন, সেদিন সেই রক্তপাতের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ অগণতান্ত্রিক এক-এগারোর সরকার এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করেছিল। পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের গণহত্যা ও বিচারিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল, যার পতন ঘটিয়েছে চব্বিশের ছাত্র-জনতা।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে কোনো আপস বা সমঝোতার জন্য নয়। যদি কোনো দল আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করে জনগণের আকাঙ্ক্ষার সাথে প্রতারণা করে, তবে জনগণ তাদেরও ক্ষমা করবে না। তিনি অবিলম্বে ২৮ অক্টোবরের পল্টন ট্র্যাজেডিসহ গত ১৫ বছরের সব হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ডাকসুতে জয়ই ইসলাম প্রতিষ্ঠার পথ: মিয়া গোলাম পরওয়ার

আপডেট সময় : ০৪:৫৯:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতিরা বলতেন, আমরা যেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-তে জিতব, সেদিনই বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী আয়োজিত ‘২৮ অক্টোবর ২০০৬: আওয়ামী নৃশংসতা ও ফ্যাসিবাদের উত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি যোগ করেন, বর্তমানে ডাকসুসহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী আন্দোলনের যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, তা দেশে ইসলামের বিজয়েরই স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।

স্মৃতিচারণ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ছাত্রজীবন থেকে আমরা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে জানতে চাইতাম দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদে বিজয়ী হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবে জয় আসবে। তখন তারা দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বলতেন, ডাকসুতে বিজয়ের দিনেই বাংলাদেশে ইসলাম পূর্ণ বিজয় লাভ করবে। আজ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবিরের ক্রমবর্ধমান সাফল্য সেই ঐতিহাসিক অঙ্গীকার পূরণেরই প্রতিফলন বলে তিনি দাবি করেন।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের পল্টন ট্র্যাজেডির ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, সেদিন লগি-বৈঠা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ১৪ দল ও বামপন্থীরা পৈশাচিক হামলা চালিয়েছিল। তৎকালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও অন্যান্য নেতারা মঞ্চে থাকাবস্থায় শিবিরের তরুণ কর্মীরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে মানবঢাল তৈরি করেছিলেন। তিনি বলেন, সেদিন সেই রক্তপাতের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ অগণতান্ত্রিক এক-এগারোর সরকার এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করেছিল। পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের গণহত্যা ও বিচারিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল, যার পতন ঘটিয়েছে চব্বিশের ছাত্র-জনতা।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে কোনো আপস বা সমঝোতার জন্য নয়। যদি কোনো দল আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করে জনগণের আকাঙ্ক্ষার সাথে প্রতারণা করে, তবে জনগণ তাদেরও ক্ষমা করবে না। তিনি অবিলম্বে ২৮ অক্টোবরের পল্টন ট্র্যাজেডিসহ গত ১৫ বছরের সব হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

Facebook Comments Box