ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাতারের সানাইয়া লজিস্টিক ভিলেজে মাইন উদ্দিন সোহেলের নতুন ওয়্যারহাউস জামালপুর নার্সিং কলেজে ৩ দিন ধরে শাটডাউন আইএমএফের ঋণ পেতে নির্ধারিত শর্ত মানতে হবে: অর্থমন্ত্রী তিন মাসে সরকারের ব্যাংক ঋণ ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ডাক প্রধানমন্ত্রীর পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে ১৬ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ইসরাইলের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানের ক্যানসারের ওষুধ পাচারের চেষ্টা: চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৪ পাতার বাঁশিতে সুর তোলা গোলাম রাব্বানীর অনন্য জাদু দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে আয়োজনে সিসিকের বিশেষ প্রস্তুতি

তিন মাসে সরকারের ব্যাংক ঋণ ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সরকার ব্যাংক খাত থেকে মোট ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা নিট ঋণ গ্রহণ করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে সরকার উল্টো ঋণ পরিশোধ করেছিল। রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং সরকারি ব্যয় মেটানোর চাপে এবার ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ও চাপে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ২৩ হাজার ২২৭ কোটি টাকা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১ হাজার ১৭ কোটি টাকা নিট ঋণ নিয়েছে। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ ছিল ঋণাত্মক ৪ হাজার ২২৬ কোটি টাকা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ছিল ঋণাত্মক ২ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের পুরো সময়ের জন্য ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসেবে প্রথম তিন মাসেই লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২১ দশমিক ৬৫ শতাংশ ঋণ নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাস শেষে ব্যাংক খাতে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকের স্থিতি ৬ লাখ ১৪ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্থিতি ৯৫ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১৪ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। গত জুন শেষে এ পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি বেড়েছে ২৩ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। গত জুন শেষে এ পরিমাণ ছিল ৯৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা।

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি বর্তমানে ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসায় সরকারকে ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোর বড় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে সরকারি ঋণের সুদহার তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে তা আমানতের সুদের চেয়েও নিচে নেমে যাচ্ছে, যা ব্যাংকের মুনাফায় নতুন চাপের সৃষ্টি করছে।

এদিকে, সরকারি ব্যয় নির্বাহে এই ব্যাংক ঋণের চাপের মূল কারণ হিসেবে রাজস্ব আদায় কমে যাওয়াকে দেখছেন বিশ্লেষকরা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হয়েছে ২৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। এই সময়ে ৮১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে জমা হয়েছে মাত্র ৫৫ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৬৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা কারণে উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সামগ্রিক রাজস্ব আদায়ে এই বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এদিকে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির কারণে সরকারি ব্যয় মেটাতে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তিন মাসে সরকারের ব্যাংক ঋণ ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি

আপডেট সময় : ০১:০৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সরকার ব্যাংক খাত থেকে মোট ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা নিট ঋণ গ্রহণ করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে সরকার উল্টো ঋণ পরিশোধ করেছিল। রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং সরকারি ব্যয় মেটানোর চাপে এবার ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ও চাপে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ২৩ হাজার ২২৭ কোটি টাকা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১ হাজার ১৭ কোটি টাকা নিট ঋণ নিয়েছে। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ ছিল ঋণাত্মক ৪ হাজার ২২৬ কোটি টাকা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ছিল ঋণাত্মক ২ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের পুরো সময়ের জন্য ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসেবে প্রথম তিন মাসেই লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২১ দশমিক ৬৫ শতাংশ ঋণ নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাস শেষে ব্যাংক খাতে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকের স্থিতি ৬ লাখ ১৪ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্থিতি ৯৫ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১৪ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। গত জুন শেষে এ পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি বেড়েছে ২৩ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। গত জুন শেষে এ পরিমাণ ছিল ৯৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা।

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি বর্তমানে ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসায় সরকারকে ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোর বড় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে সরকারি ঋণের সুদহার তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে তা আমানতের সুদের চেয়েও নিচে নেমে যাচ্ছে, যা ব্যাংকের মুনাফায় নতুন চাপের সৃষ্টি করছে।

এদিকে, সরকারি ব্যয় নির্বাহে এই ব্যাংক ঋণের চাপের মূল কারণ হিসেবে রাজস্ব আদায় কমে যাওয়াকে দেখছেন বিশ্লেষকরা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হয়েছে ২৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। এই সময়ে ৮১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে জমা হয়েছে মাত্র ৫৫ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৬৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা কারণে উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সামগ্রিক রাজস্ব আদায়ে এই বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এদিকে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির কারণে সরকারি ব্যয় মেটাতে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box