সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনবে সরকার
- আপডেট সময় : ০৪:৩৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ও হয়রানি কমাতে সরাসরি ধান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে দেশের তিনটি জেলায় এই প্রকল্প পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা হবে।
কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব থেকে মুক্তি দিতে সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে দেশের তিনটি জেলায় পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সফলভাবে প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জেলাতেও এই কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে। সোমবার (১২ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ||।
সভায় খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষকরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই সরাসরি সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। বর্তমানে ধান বিক্রির ক্ষেত্রে কৃষকদের ব্যাংক হিসাব খোলাসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এই প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করে সংগ্রহপ্রক্রিয়া আরও সহজতর করা হবে। এমনকি কৃষকদের অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে বিকাশের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারের বিষয়টিও সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে তিনি জানান।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের কাছে সময়মতো নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার যে অঙ্গীকার রয়েছে, তা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে খাদ্য বিভাগে জমে থাকা বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও সমস্যাগুলো সমাধানে সময় প্রয়োজন। তবে সব সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করা সম্ভব নয় বিধায়, জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যেকোনো জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন খাদ্যমন্ত্রী। বর্তমানে দেশের মজুদ পরিস্থিতি সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি। একইসঙ্গে, আমদানিসহ যেকোনো উৎস থেকে সংগৃহীত খাদ্যশস্যের ক্ষেত্রে কঠোর গুণগত মান বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ না করলে কোনো ধরনের খাদ্যশস্য গ্রহণ করা যাবে না।
খাদ্য বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি খাদ্যশস্যের প্যাকেটে নির্ধারিত সিল বাধ্যতামূলক করতে হবে, যাতে বিতরণের সঠিক প্রমাণ থাকে এবং কোনো অনিয়ম হলে দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সহজ হয়। এছাড়া, খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদানের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুধ ও জুসসহ বিভিন্ন পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়ানো হবে। নিরাপদ খাদ্য কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে দেশের ৬৪ জেলাতেই খাদ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষ যানবাহন সরবরাহের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রকৃত চাহিদা সম্পর্কে তারা সবচেয়ে ভালো জানেন, তাই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কোনো দূরত্ব থাকা উচিত নয়। যৌক্তিক সমস্যাগুলো সমাধানে মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নেবে এবং যেসব বিষয় একক উদ্যোগে সমাধান সম্ভব নয়, সেগুলো প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হবে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুঃ জসীম উদ্দিন খান ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন। এতে জেলার বিভিন্ন স্তরের খাদ্য কর্মকর্তা এবং সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, সফরসূচির অংশ হিসেবে মন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরীর জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন।
সূত্র: রাইজিংবিডি
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ





















